দীর্ঘ এক দশকের গৃহযুদ্ধের ধাক্কায় বিধ্বস্ত ইয়েমেন আবারও নতুন মোড়ে। তবে এবারের পালাবদল হুথি বিদ্রোহীদের ঘিরে নয়। দক্ষিণে হঠাৎ ও দ্রুত অভিযানে ক্ষমতার ভারসাম্য ওলটপালট করে দিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। এতে শুধু যুদ্ধের চরিত্র বদলায়নি, উপসাগরীয় দুই মিত্র দেশের ভেতরের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে এসেছে।
দক্ষিণে আকস্মিক অভিযান
ডিসেম্বরের শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত দক্ষিণ রূপান্তর কাউন্সিল হঠাৎ করে দক্ষিণ-পূর্ব ইয়েমেনে ব্যাপক অভিযান চালায়। সৌদি আরবসমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর হাত থেকে এলাকা দখল করে তারা সাবেক দক্ষিণ ইয়েমেনের আটটি গভর্নরেটের কার্যত নিয়ন্ত্রণ নেয়। একসময় স্বাধীন রাষ্ট্র থাকা এই অঞ্চল এখন আবার আলাদা শক্তিকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

হুথির বাইরে নতুন সংঘাত
এতদিন যুদ্ধে মূল লড়াই ছিল ইরানসমর্থিত হুথি ও সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় সেই কাঠামো ভেঙে পড়েছে। সৌদি আরব যেখানে হুথিদের সঙ্গে সমঝোতার পথে হাঁটতে চাইছে, সেখানে দক্ষিণের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সেই উদ্যোগ আগেভাগেই নস্যাৎ করতে চাইছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা।
তেল গ্যাস ও কৌশলগত হিসাব
বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দখলে থাকা এলাকায় ইয়েমেনের বেশিরভাগ তেল ও গ্যাসের সম্পদ রয়েছে। অতীতে দেশটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল রপ্তানি করত। এই সম্পদের নিয়ন্ত্রণ দক্ষিণের হাতে চলে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমঝোতার হিসাব আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সৌদি আমিরাত দ্বন্দ্বের ছায়া
এই অগ্রযাত্রা সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত–এর মধ্যকার দূরত্ব বাড়িয়েছে। সৌদি আরব সীমান্তঘেঁষা নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা চায়, যাতে হামলা বন্ধ থাকে। আর আমিরাত লোহিত সাগর ও আফ্রিকার উপকূলে প্রভাব বিস্তারের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হিসেবে দক্ষিণ ইয়েমেনকে দেখছে। সামাজিক মাধ্যমে দুই দেশের সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি প্রচার সেই ফাটল আরও স্পষ্ট করেছে।
বিভাজন না সমঝোতা
দক্ষিণ আলাদা রাষ্ট্র ঘোষণার ঝুঁকি যেমন আছে, তেমনি ভেতরে ভেতরে ক্ষোভও বাড়ছে। বেতন বকেয়া, বিদ্যুৎ সংকট আর বিদেশি কূটনৈতিক ইঙ্গিতের কারণে নিয়ন্ত্রিত শহরগুলোতে বিক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে দরকষাকষির পথও খোলা রয়েছে, যেখানে দক্ষিণকে বেশি স্বায়ত্তশাসন দিয়ে সংঘাত ঠেকানোর চেষ্টা হতে পারে।

বিদেশিদের হাতে ভবিষ্যৎ
দশ বছরের রক্তক্ষয়ী লড়াই শেষে ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ যে দেশের মানুষের হাতে নয়, বরং বিদেশি পৃষ্ঠপোষকদের সিদ্ধান্তে নির্ভর করছে—সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ তা আবারও স্পষ্ট করে দিল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















