মহাকাশ গবেষণায় নতুন এক দিগন্ত খুলে দিচ্ছে মঙ্গল গ্রহকে বাসযোগ্য করে তোলার ভাবনা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক আলোচনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, মঙ্গলে জীবনের পরিবেশ গড়ে তোলার ধারণা আর কেবল কল্পবিজ্ঞানের বিষয় নয়, বরং ধীরে ধীরে বাস্তব বিজ্ঞান হয়ে উঠছে। মাইক্রোব থেকে শুরু করে উদ্ভিদ, এমনকি মানুষের দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরির সম্ভাবনাও এখন গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু।
মঙ্গল গ্রহকে ঘিরে নতুন বিজ্ঞান
কয়েক দশক আগেও মঙ্গলকে টেরাফর্ম করার আলোচনা ছিল সীমিত পরিসরে। তবে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির উন্নতির ফলে মহাকাশে যাতায়াতের খরচ কমেছে। এর ফলে মানুষ ও সরঞ্জাম মঙ্গলে পাঠানো আগের চেয়ে অনেক বেশি বাস্তবসম্মত হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি মঙ্গলে পরীক্ষামূলক বাস্তুতন্ত্র গঠনের পথ খুলে দিয়েছে।

প্রয়োগমূলক জ্যোতির্জীববিজ্ঞান
নতুন ধারার গবেষণাকে বলা হচ্ছে প্রয়োগমূলক জ্যোতির্জীববিজ্ঞান। এই বিজ্ঞান শুধু ভিনগ্রহে প্রাণ আছে কি না তা খোঁজে না, বরং কীভাবে সেখানে প্রাণ টিকিয়ে রাখা যায়, সেটিও অনুসন্ধান করে। মহাকাশ স্টেশন বা চাঁদের ঘাঁটিতে খাদ্য উৎপাদন, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও অক্সিজেন তৈরির মতো গবেষণাই এর অংশ। এসব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে মঙ্গলে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
কঠিন গ্রিনহাউস ও উষ্ণতার পরীক্ষা
গবেষকেরা ভাবছেন, বিশেষ ধরনের স্বচ্ছ স্তর ব্যবহার করে মঙ্গলের মাটির তাপমাত্রা বাড়ানো যেতে পারে। এতে সূর্যের আলো ভেতরে ঢুকবে, কিন্তু ক্ষতিকর বিকিরণ আটকানো যাবে। এমন পরিবেশে নির্দিষ্ট অণুজীব টিকে থাকতে পারলে ধীরে ধীরে জীবনের উপযোগী অঞ্চল তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি বায়ুমণ্ডলে সূক্ষ্ম কণিকা ছড়িয়ে গ্রহটির গড় তাপমাত্রা কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর ধারণাও আলোচনায় রয়েছে।

নৈতিক প্রশ্ন ও গ্রহ সুরক্ষা
মঙ্গলে পৃথিবীর জীবাণু পাঠানো নিয়ে রয়েছে গভীর নৈতিক প্রশ্ন। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, যেখানে জীবনের সম্ভাবনা বেশি, সেখানে অভিযান চালানো নিষিদ্ধ। তবে অনেক বিজ্ঞানীর মতে, জীবন আছে কি না নিশ্চিতভাবে জানতে পরীক্ষামূলক গবেষণার বিকল্প নেই। তাদের যুক্তি, মঙ্গলকে বাসযোগ্য করার চেষ্টা নিজেই হতে পারে জীবনের সন্ধানের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে
এখনই মঙ্গলে স্বয়ংসম্পূর্ণ মানব বসতি গড়ে উঠবে না। তবে এই গবেষণাগুলো মানুষের জীবনের ধারণাকে মহাজাগতিক প্রেক্ষাপটে নতুনভাবে বুঝতে সাহায্য করবে। মঙ্গলে প্রাণ রপ্তানির বিজ্ঞান হয়তো ধীরে, কিন্তু নিশ্চিতভাবেই মানব সভ্যতার ভবিষ্যৎ প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















