যে প্রযুক্তিগুলোকে বহু বছর ধরে শুধু ভবিষ্যতের কল্পনা বলে মনে করা হতো, সেগুলোই এখন ধীরে ধীরে বাস্তব ব্যবসায় রূপ নিচ্ছে। উড়ন্ত গাড়ি, ফিউশন শক্তি কিংবা কোয়ান্টাম কম্পিউটিং—এই তিনটি ধারণাই এতদিন ‘আরও কয়েক বছর পর’ বলেই পরিচিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই অপেক্ষার গল্প বদলাতে শুরু করেছে।
উড়ন্ত গাড়ির বহুদিনের স্বপ্ন
উনিশ শতকের শেষ দিক থেকেই মানুষের কল্পনায় উড়ন্ত গাড়ির ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু প্রতিবারই বাস্তবতা হতাশ করেছে। প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা বহুবার বলেছেন, আমরা উড়ন্ত গাড়ি চেয়েছিলাম, অথচ পেলাম ছোট ছোট বার্তা পাঠানোর মাধ্যম। সেই আক্ষেপের জায়গায় এবার আশার আলো দেখা যাচ্ছে। চীনের দুটি শহরে বৈদ্যুতিক উড্ডয়নযান দিয়ে বাণিজ্যিক ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি শহরে শিগগিরই আকাশপথে ট্যাক্সি চালুর প্রস্তুতি চলছে। এই খাতের কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য দ্রুত বাড়ছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে বিনিয়োগকারীদের আস্থার।
কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের অগ্রগতি

একই সঙ্গে কোয়ান্টাম কম্পিউটিংও কাগজের তত্ত্ব থেকে বাস্তব যন্ত্রে রূপ নিচ্ছে। এই প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত বিশেষ কণাগুলো একসঙ্গে একাধিক অবস্থায় থাকতে পারে, যা জটিল হিসাব দ্রুত সমাধানের সুযোগ দেয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে, বেশি সংখ্যক মৌলিক কণা ব্যবহার করলে ত্রুটির হার কমে। এর ফলে কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহারযোগ্য হওয়ার পথে বড় বাধা অনেকটাই সরে গেছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভাবে এই প্রযুক্তি বিক্রি শুরু করেছে।
ফিউশন শক্তির দিকে এক ধাপ এগোনো
অন্যদিকে ফিউশন শক্তিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই পদ্ধতিতে ক্ষুদ্র পরমাণু একত্রিত করে বিপুল শক্তি উৎপাদনের চেষ্টা করা হয়। আধুনিক চৌম্বক প্রযুক্তি ও উন্নত পরিবাহী উপাদানের কারণে এখন আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং কার্যকর রিঅ্যাক্টর তৈরি সম্ভব হচ্ছে। কিছু প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিকে বিদ্যুৎ সরবরাহের চুক্তি করেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা
এই তিন ক্ষেত্রেই একটি প্রযুক্তি নীরবে বড় ভূমিকা রাখছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যাটারির নকশা উন্নত করা, কোয়ান্টাম ত্রুটি সংশোধন এবং ফিউশন রিঅ্যাক্টরের অস্থির অবস্থা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছে। ফলে বহুদিনের তাত্ত্বিক ধারণা দ্রুত বাস্তব রূপ পাচ্ছে।

ঝুঁকি রয়ে গেলেও দিশা স্পষ্ট
তবে সবকিছু নিখুঁত নয়। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান এখনো লাভজনক অবস্থায় পৌঁছায়নি। উড়ন্ত যান দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে, কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের চাহিদা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, আর ফিউশন শক্তির বাণিজ্যিক সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন আছে। তবু প্রযুক্তিগত দিক থেকে বড় বাধাগুলো অনেকটাই পেরোনো হয়েছে। এখন মূল প্রশ্ন বাজার ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















