মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় সংগীতের তিন দশকের ইতিহাসে নিজের নাম স্থায়ীভাবে গেঁথে দেওয়া কণ্ঠশিল্পী সিতি নুরহালিজা আবারও দাঁড়াতে যাচ্ছেন এক অনন্য সন্ধিক্ষণে। আগামী দশ জানুয়ারি কুয়ালালামপুরের বুকিত জলিল জাতীয় স্টেডিয়ামের মঞ্চে আয়োজিত লিগেসি ত্রিশ শিরোনামের কনসার্টে তিনি উদযাপন করবেন বিনোদন জগতে তার ত্রিশ বছরের পথচলা। এই কনসার্ট শুধুই একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং সংগীত, স্মৃতি আর কৃতজ্ঞতার এক আবেগী মিলনমেলা।
তিন দশকের যাত্রা, এক রাতের আবেগ
তিনষট্টি হাজারের বেশি দর্শককে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত এই কনসার্টকে সিতি দেখছেন নিজের শিল্পীজীবনের এক ঘরে ফেরার রাত হিসেবে। পাহাংয়ের তেমেরলোহ এলাকার কামপুং আওয়াহ থেকে উঠে আসা এক তরুণ কণ্ঠশিল্পীর যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংগীত ইতিহাসের এক স্থায়ী সাফল্যের গল্প। সিতির কাছে এই কনসার্ট বাহুল্য প্রদর্শনের বিষয় নয়; বরং যারা তিন দশক ধরে তার পাশে থেকেছেন, তাদের প্রতি সম্মান জানানোর উপলক্ষ।
ধারাবাহিকতা ও সাংস্কৃতিক প্রভাব
মালয়েশিয়ার খুব কম শিল্পীই সিতির মতো ধারাবাহিকতা আর সাংস্কৃতিক প্রভাব বজায় রাখতে পেরেছেন। শৃঙ্খলা, বিনয় আর উৎকর্ষের প্রতি অঙ্গীকারই তার ক্যারিয়ারের ভিত্তি। বহু বৃহৎ কনসার্টে মঞ্চ কাঁপানো এই শিল্পীর কাছে লিগেসি ত্রিশ সেই অভিজ্ঞতারই পরিণতি, যেখানে সংগীতের সঙ্গে যুক্ত হবে গল্প, দৃশ্য আর আবেগ।
নিখুঁত প্রস্তুতির পেছনের গল্প
কনসার্টের প্রস্তুতিতে কোনো ত্রুটি রাখতে চাননি সিতি। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিয়মিত কণ্ঠচর্চা, নৃত্যাভ্যাস ও শারীরিক ফিটনেসে মনোযোগ দিয়েছেন। নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি সতর্ক থাকার কথাও অকপটে জানিয়েছেন তিনি। বাকিটা তিনি ছেড়ে দেন স্রষ্টার ওপর, এই বিশ্বাসেই আত্মবিশ্বাসী সিতি।

আন্তর্জাতিক মান, দেশীয় গর্ব
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় স্টেডিয়ামে কনসার্ট করলেও দর্শকসংখ্যার রেকর্ড ভাঙাই তার লক্ষ্য নয়। সিতির কাছে আসল উদ্দেশ্য হলো প্রমাণ করা, দেশীয় শিল্পীরাও আন্তর্জাতিক মানের কনসার্ট উপহার দিতে পারেন এবং দর্শকদের জন্য আরামদায়ক ও অর্থবহ অভিজ্ঞতা তৈরি করা সম্ভব।
অতিথি শিল্পী ও স্মরণীয় গান
এই বিশেষ সন্ধ্যায় সিতির সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করবেন ইন্দোনেশীয় কণ্ঠশিল্পী চক্রা খান, নোহ সালেহ, হাফিজ সুইপ এবং তার কিশোরী ভাতিজি উমাইরাহ। অতিথি নির্বাচনে ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্পর্ককেই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। কনসার্টের গানে থাকবে প্রয়াত আদনান আবু হাসান ও প্রয়াত দাতুক সুহাইমি মোহাম্মদ জাইনের সৃষ্টি, যাদের সুর ও কথায় গড়ে উঠেছে সিতির সংগীত পরিচয়। তার ভাষায়, প্রতিটি গানই তাদের এক একটি অমূল্য সৃষ্টি, যা আজও সমান প্রাসঙ্গিক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















