যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ফেডারেল আদালতে হাজির হয়ে মাদক সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। আদালতে তিনি বলেন, তাকে জোরপূর্বক ধরে এনে হাজির করা হয়েছে এবং তিনি এখনও নিজের দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট। সোমবারের এই শুনানি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন তোলে এবং ভেনেজুয়েলার রাজনীতি নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
আদালতে মাদুরোর বক্তব্য
ম্যানহাটনের আদালতে পায়ে শিকল ও কারাগারের পোশাকে দাঁড়িয়ে অনুবাদকের মাধ্যমে মাদুরো বলেন, তিনি নির্দোষ এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিচারক তার বক্তব্য সংক্ষিপ্ত রাখতে নির্দেশ দেন। আদালতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের সঙ্গে যুক্ত থেকে কোকেন পাচারের একটি নেটওয়ার্ক তদারকির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। মাদুরো দীর্ঘদিন ধরেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এসব অভিযোগ তোলা হয়েছে।
স্ত্রীর অবস্থান ও পরবর্তী শুনানি
মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও একই মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। আদালত আগামী মার্চে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। শুনানির সময় আদালতের বাইরে মাদুরোর পক্ষে ও বিপক্ষে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন, যা পরিস্থিতির উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।

কারাকাসে ক্ষমতার রদবদল
আদালতের শুনানির কয়েক ঘণ্টা পর কারাকাসে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। তিনি মাদুরোর প্রতি সমর্থন জানালেও যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো প্রতিরোধের ঘোষণা দেননি। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, মাদুরোর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে রদ্রিগেজই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য বিকল্প।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের দাবি, তারা ভেনেজুয়েলার জনগণের বিরুদ্ধে নয় বরং মাদক ব্যবসায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, নতুন নির্বাচন আয়োজনের আগে দেশটির পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা জরুরি। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ এই অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় এবং রাশিয়া ও চীনসহ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের নিন্দা জানায়।
ভবিষ্যৎ শাসন ও তেলের হিসাব
ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, দেশটির তেল খাত পুনর্গঠনে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে ফেরানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি যেমন বদলাতে পারে, তেমনি লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতেও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















