কিন্তু বাস্তবতাও দ্রুত হাজির হয়। ব্যবহারকারীরা জানাতে শুরু করেন, উইচ্যাট ব্যবহার করতে গিয়ে মাঝপথে সেশন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ‘অস্বাভাবিক লগইন পরিবেশ’ সতর্কতা আসছে, আর দৌবাও সহকারী বন্ধ না করলে ব্যাংকিং অ্যাপ লেনদেনই করতে দিচ্ছে না। শুধু তাই নয়, তাওবাও, মেইতুয়ান, আলিপে, অটো নাভি ও জেডি ডটকমের মতো বড় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম সরাসরি লগইন অনুমতি বন্ধ করে দেয়। প্রথমে যা মনে হয়েছিল চীনের শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে একটি শক্তিশালী অ্যালগরিদমের দ্বন্দ্ব, বাস্তবে তা ছিল আরও মৌলিক কিছু—একটি ব্যবস্থা ঠিক সেইভাবেই প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছিল, যেভাবে সেটি নকশা করা হয়েছে, যখন আচরণ আর মানুষের মতো থাকে না।
এই ঘটনা চীনের মোবাইল ইকোসিস্টেমের ভেতরে দীর্ঘদিন আড়ালে থাকা এক কাঠামোগত টানাপোড়েন প্রকাশ করে। দৌবাও কেবল সহায়ক এআই নয়, এটি অপারেটর স্তরের এআই—যে শুধু পরামর্শ দেয় না, পড়ে এবং কাজও করে। চীনের সুপারঅ্যাপগুলোর কাছে, যেখানে ব্যবহারকারীর পরিচয় ও অর্থপ্রদানের নিরাপত্তা মৌলিক অবকাঠামো, এই লাফটি একটি সীমা অতিক্রম করে।
দৌবাও ফোনটি চীনা ফোন নির্মাতাদের এখন পর্যন্ত আনা সীমাবদ্ধ এআই ফিচারগুলোর চেয়ে আলাদা। হুয়াওয়ে, শাওমি, অপো ও ভিভো মূলত কনটেন্ট সারসংক্ষেপ বা সীমিত স্বয়ংক্রিয় কাজের টুল তৈরি করেছে, সবই কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ পরিবেশে। দৌবাও এর বিপরীতে অপারেটিং সিস্টেমের ভেতরেই বসে থাকে। এটি স্ক্রিনের লেখা বিশ্লেষণ করতে পারে, কৃত্রিম ট্যাপ তৈরি করতে পারে এবং তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ জুড়ে কাজ করতে পারে—যা কোনো ফিচারের চেয়ে বরং প্রতিনিধিত্বকারী মানব অপারেটরের মতো আচরণ।

বাইটড্যান্সের দাবি, এই স্বায়ত্তশাসন স্পষ্ট ব্যবহারকারী সম্মতির আওতায় থাকে এবং পাসওয়ার্ড লেখা বা অর্থপ্রদান করার মতো সংবেদনশীল ধাপে সহকারী থেমে যায়। তারা আরও বলে, তথ্য স্থানীয় বা ক্লাউডে প্রক্রিয়াকরণ হয় এবং মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হয় না। তবে এই সক্ষমতার ধরন প্রতারণামূলক কার্যক্রমে ব্যবহৃত স্বয়ংক্রিয় টুলের খুব কাছাকাছি। যেসব প্ল্যাটফর্ম একশ কোটির বেশি অ্যাকাউন্টে অর্থপ্রদান, প্রমাণীকরণ ও পরিচয় প্রবাহ তদারকি করে, তাদের কাছে এমন একটি এআই এজেন্ট, যা সাময়িক হলেও ব্যবহারকারী হয়ে উঠতে পারে, কার্যত নিরাপত্তা লঙ্ঘনেরই সমতুল্য।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দৌবাও নিজেও বাইরের গোপনীয়তা উদ্বেগ মোকাবিলায় অনিশ্চিত বলে মনে হয়েছে। ডিসেম্বরের শুরুতে ‘নিকট ভবিষ্যতে উৎপাদন বন্ধ’ করার ঘোষণা দেওয়ার মাত্র ১৩ দিন পরই দৌবাও এআই ফোনের কেনার লিংক আবার অনলাইনে দেখা যায়, যদিও সেদিনই পরে সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
অপো কালারওএসের স্মার্ট পণ্য গবেষণা ও উন্নয়ন পরিচালক জিয়াং ইউচেন বলেন, এআই ফোনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো গোপনীয়তা। দৌবাও হোক বা অন্য অনেক এআই নির্মাতা—বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তথ্য ক্লাউডে আসা-যাওয়া করে। ব্যবহারকারীর ত্রিমাত্রিক প্রোফাইল তৈরি করে তা ক্লাউডে রাখলে গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়বেই। একমাত্র সমাধান হলো সব তথ্য ও প্রক্রিয়াকরণ ডিভাইসের মধ্যেই রাখা, কিন্তু এতে বিদ্যুৎ খরচের সমস্যা তৈরি হয়।
এই ঝুঁকির মডেলই ব্যাখ্যা করে কেন প্রতিক্রিয়া ছিল দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয়। উইচ্যাটের লগইন অস্বাভাবিকতা, ফ্রিজ হওয়া ও সেশন রিসেট আসলে এমন একটি আচরণগত ব্যবস্থার ফল, যা ব্যবহারকারীর সোয়াইপ, স্ক্রল, সময়ক্ষেপণ ও লেনদেনের ধরন পর্যবেক্ষণ করে। প্রত্যাশিত ধারা থেকে বড় বিচ্যুতি হলে সেটিকে সন্দেহজনক ধরা হয়। ব্যাংকিং অ্যাপগুলো পপ-আপ দিয়ে দৌবাও বন্ধ করতে বলে। এসবের জন্য শীর্ষ ব্যবস্থাপনার আলাদা নির্দেশের দরকার হয়নি; নিয়মগুলো ঝুঁকি ব্যবস্থার ভেতরেই বসানো।
চীনের সুপারঅ্যাপগুলো কেবল বেসরকারি পণ্য নয়, এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ইউটিলিটি। একটি অ্যাকাউন্ট আক্রান্ত হলে বার্তা আদান-প্রদান, অর্থপ্রদান, পরিচয় যাচাই ও সরকারি সংযুক্ত সেবায় ধারাবাহিক বিপর্যয় ঘটতে পারে। তাই তাদের অস্পষ্টতার সহনশীলতা কম। যে এআই ব্যবহারকারীর আচরণ খুব নিখুঁতভাবে অনুকরণ করে, তা বৈধ কার্যকলাপ ও প্রতারণা আলাদা করতে ব্যবহৃত সংকেতগুলোকে হুমকির মুখে ফেলে। বিশ্লেষকেরা বলেন, এই প্রযুক্তিগত পদ্ধতি অতীতের ‘অনধিকারপ্রবেশকারী তৃতীয় পক্ষের টুল’-এর মতো, যা ভুলভাবে ব্যবস্থাপিত হলে সাইবার অপরাধীদের সুযোগ করে দিতে পারে।
সুপারঅ্যাপগুলো যে সীমারেখায় জোর দেয়, তা এআইয়ের বিরোধিতা নয়, বরং অস্বচ্ছ এআইয়ের বিরোধিতা। স্ক্রিন রিডার, প্রবেশযোগ্যতা টুল বা অনুমোদিত স্বয়ংক্রিয়তার মতো স্বচ্ছ সহায়ক প্রযুক্তি অনুমোদিত, কারণ সেগুলোর কাজ স্পষ্ট ও সীমাবদ্ধ। কিন্তু ব্যবহারকারীর পক্ষে নীরবে কাজ করা সাধারণ উদ্দেশ্যের এজেন্ট সেই স্পষ্টতা ভেঙে দেয়।
নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও এই অবস্থানকে শক্তিশালী করে। ২০২৩ সাল থেকে বেইজিং জেনারেটিভ এআই, গভীর সংমিশ্রণ ও অ্যালগরিদমিক সুপারিশের জন্য ধাপে ধাপে কাঠামো তৈরি করেছে, যার পরিণতিতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এআই-সৃষ্ট কনটেন্ট স্পষ্টভাবে লেবেল করার নিয়ম কার্যকর হবে। মূল লক্ষ্য স্বচ্ছতা—আইন, কোড ও নিরীক্ষায় মানব ও যন্ত্রের কার্যকলাপ আলাদা করে চিহ্নিত করা। যে এআই ব্যবহারকারীর পরিচয়ের সঙ্গে মিশে যায়, তা এই নীতিকে দুর্বল করে।
আন্তর্জাতিক উদাহরণও শিক্ষণীয়। ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টের অধীনে আন্তঃকার্যক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নে অ্যাপল তাদের এআই সেবা চালু করতে দেরি করেছে এবং চীনেও এখনো তা আনেনি। দুই ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধতা ছিল শাসনব্যবস্থা, প্রকৌশল নয়। বাইটড্যান্স উল্টো পথ বেছে নিয়েছে—দ্রুত বাজারে আনা এবং পরে প্ল্যাটফর্মের সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিক্রিয়া দেখালে ফল ভোগ করা।
দৌবাও ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়ে কারণ এটি চীনের মোবাইল ইকোসিস্টেমের দীর্ঘদিনের ক্ষমতার লড়াইয়ের সঙ্গে মিলে যায়। দেশীয় অ্যান্ড্রয়েড ফোন নির্মাতারা লাভজনক অ্যাপ বিতরণ ও সেবা স্তর গড়ে তুলেছে, যেখানে কখনো কখনো পঞ্চাশ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয় এবং আক্রমণাত্মক নিরাপত্তা সতর্কতা ও পরিকল্পিত অসামঞ্জস্যের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে দূরে রাখা হয়। এসব চর্চা ইতিমধ্যেই নিয়ন্ত্রকদের নজরে এসেছে।
নভেম্বরে রাষ্ট্রীয় বাজার নিয়ন্ত্রণ প্রশাসন মোবাইল খাতে ‘অযৌক্তিক প্রতিযোগণা’ নিন্দা করে বিরল ও স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়, যেখানে ট্রাফিক ছিনতাই, জোরপূর্বক রিডাইরেক্ট ও ক্ষতিকর অসামঞ্জস্যকে বেআইনি আচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাদের বক্তব্যে জোর ছিল একটি প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য নয়, বরং সিস্টেম স্তরের সুবিধা ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর পছন্দ সীমিত করা বা প্রতিদ্বন্দ্বী দমন করার আচরণের ওপর। নির্মাতাদের সম্মতি ব্যবস্থা জোরদার করতে এবং অপারেটিং সিস্টেমের বিশেষাধিকার বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই প্রেক্ষাপটে দৌবাও একটি উল্টো চিত্র হাজির করে। এখানে হার্ডওয়্যার নির্মাতারা সফটওয়্যার ইকোসিস্টেমে চাপ দিচ্ছে না; বরং একটি অনধিকারপ্রবেশকারী এআই অপারেটর সুপারঅ্যাপগুলোর ভেতরে কাজ করতে চাইছে, যেখানে প্রমাণীকরণ প্রবাহ যেকোনো হার্ডওয়্যার বিক্রেতার চেয়েও কঠোরভাবে সুরক্ষিত। নিয়ন্ত্রকদের সামনে প্রশ্ন হলো, এমন ডিভাইসে প্রতিযোগিতা, সাইবার নিরাপত্তা ও এআই শাসনব্যবস্থার নিয়ম কীভাবে প্রয়োগ হবে, যার স্বায়ত্তশাসন চীনের ডিজিটাল স্তরের একাধিক স্তর জুড়ে বিস্তৃত।
নিকট ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ স্পষ্ট। এজেন্টরা নিজেদের ঘোষণা করতে না পারা, সীমিত অনুমতিতে কাজ করতে না পারা এবং কাজের নিরীক্ষাযোগ্য রেকর্ড দিতে না পারা পর্যন্ত সুপারঅ্যাপগুলো সিস্টেম স্তরের স্বয়ংক্রিয়তা সীমিত রাখবে। অক্টোবরে প্রায় ১৫ কোটি ৯০ লাখ মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী থাকা দৌবাওকে সম্ভবত উইচ্যাট, আলিপে ও ব্যাংকিং অ্যাপের সঙ্গে ইন্টারফেস নতুন করে নকশা করতে হবে, অনুমোদিত ‘স্ক্রিন পড়া’ সক্ষমতার মাধ্যমে কৃত্রিম ‘এআই বিপ্লব’ দেখানোর বদলে, তবেই বাণিজ্যিক ফোন টেকসই হবে।
দীর্ঘমেয়াদে শিল্পখাতকে এমন আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়তে হবে, যাতে এআই এজেন্টরা মানুষ সেজে না থেকে কাজ করতে পারে। এর অর্থ কৃত্রিম ট্যাপের বদলে অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস, ব্যবহারকারী-সূচিত ও এআই-সূচিত কাজ আলাদা করার অনুমতি, এবং এমন স্বচ্ছতার মানদণ্ড, যাতে প্ল্যাটফর্ম বুঝতে পারে এআই কী করেছে ও কেন করেছে। এগুলো প্রযুক্তিগত বিলাস নয়, আস্থার পূর্বশর্ত।
নুবিয়া এম১৫৩ আজকের এজেন্টিক এআইয়ের সম্ভাবনা ও সীমা—দুটোই দেখায়। একাধিক অ্যাপ জুড়ে স্বয়ংক্রিয় কাজ আর কল্পনা নয়। কিন্তু চীনের ডিজিটাল অবকাঠামো—এর সুপারঅ্যাপ, প্রতারণা নিয়ন্ত্রণ যুক্তি ও নিয়ন্ত্রক নীতি—এখনো সেই স্বায়ত্তশাসনের সীমানা নির্ধারণ করে। এআই যতক্ষণ না অদৃশ্য ব্যবহারকারীর বদলে স্পষ্ট এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে, ততক্ষণ এই সীমানা অটল থাকবে।
ভিভিয়ান তোহ 



















