০৮:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬
শরীয়তপুরে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ, নিহত ১ আহত ২ ভারত–চীন বাণিজ্যে নতুন মোড়: সরকারি দরপত্রে চীনা সংস্থার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পথে দিল্লি শ্রীমঙ্গলে ৭ ডিগ্রিতে নেমে এলো তাপমাত্রা মানসম্মত শিক্ষায় শিশুর বিকাশে নতুন অধ্যায়, ঢাকায় যাত্রা শুরু করল ব্র্যাক একাডেমি এলপিজির দাম ও সংকট সামলাতে করছাড় চায় সরকার নিরাপত্তা উদ্বেগে নয়াদিল্লি, কলকাতা ও আগরতলায় বাংলাদেশ মিশনের ভিসা কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ মঞ্চসজ্জিত নির্বাচন নয়—সমতাভিত্তিক ভোটের আশ্বাস প্রধান নির্বাচন কমিশনারের গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে ঝুট গুদামে ভয়াবহ আগুন, একাধিক গুদামে ছড়িয়ে পড়েছে ভুট্টাখেতে মিলল অজ্ঞাত মরদেহ, আলমডাঙ্গায় রহস্য ঘনীভূত শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি সহজ করতে এসআরও ৩৮৪ সংস্কারের তাগিদ

ইউক্রেন যুদ্ধের পরের নিরাপত্তা পরিকল্পনা: ব্রিটেন ও ফ্রান্স সেনা পাঠাতে প্রস্তুত

ইউক্রেনে যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিল ব্রিটেন ও ফ্রান্স। শান্তিচুক্তির পর দেশটিতে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে নীতিগত প্রস্তুতির কথা জানিয়ে ইউরোপের দুই প্রধান শক্তি স্পষ্ট করল, তারা সংঘাত-পরবর্তী সময়ে কিয়েভের পাশে থাকতে চায়।

প্যারিস সম্মেলনে বড় ঘোষণা

ফরাসি প্রেসিডেন্টের আয়োজনে প্যারিসে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোর নেতারা একত্র হন। দীর্ঘ আলোচনার পর ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইউক্রেন যৌথভাবে একটি অভিপ্রায় ঘোষণা স্বাক্ষর করে। এতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্রিটিশ ও ফরাসি সেনাদের জন্য সামরিক কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যা দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে।

সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর নয়

ফরাসি নেতৃত্ব স্পষ্ট করেছে, প্রস্তাবিত এই সেনা উপস্থিতির লক্ষ্য রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ নয়। বরং যুদ্ধবিরতির পর স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ইউক্রেনের জনগণকে নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য। সেনারা সম্মুখ সারির অনেক পেছনে অবস্থান করবে বলে জানানো হয়েছে, যদিও বাহিনীর আকার ও পরিধি নিয়ে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ও নিশ্চয়তা

সম্মেলনে উপস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইউরোপীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পক্ষে শক্ত অবস্থানের কথা জানান। তাদের ভাষায়, ইউক্রেনে যেকোনো নতুন হামলা ঠেকাতে দেওয়া নিরাপত্তা নিশ্চয়তা অতীতের যেকোনো ব্যবস্থার চেয়ে দৃঢ়। প্রয়োজনে প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়া—দুই দিকেই প্রস্তুতির বার্তা দেওয়া হয়েছে।

শান্তিচুক্তির জটিলতা

একই সময়ে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলাদা শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও ভূখণ্ড ছাড়ের প্রশ্নে অচলাবস্থা রয়ে গেছে। ইউক্রেনীয় নেতৃত্ব জানিয়েছে, সমঝোতা সম্ভব না হলে সরাসরি সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনায় যেতে তারা প্রস্তুত। আলোচনাকারীরাও স্বীকার করেছেন, ভূখণ্ড প্রশ্নই হবে সবচেয়ে কঠিন বিষয়।

রাশিয়ার কঠোর অবস্থান

রাশিয়া আগেই জানিয়ে দিয়েছে, ইউক্রেনের মাটিতে উত্তর আটলান্টিক জোটভুক্ত সেনাদের উপস্থিতি তারা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। মস্কোর বক্তব্য, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয়, বরং সংঘাতের মূল কারণ সমাধান করেই চূড়ান্ত নিষ্পত্তি চাই তারা। এ অবস্থায় স্বল্পমেয়াদে শান্তিচুক্তি ও পরবর্তী সেনা মোতায়েন বাস্তবায়ন কঠিন বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

Military material is loaded onto Poland-bound boat in Orkanger

ইউরোপের ভেতরের ভিন্নমত

প্যারিস বৈঠকে অংশ নেওয়া সব দেশ সেনা পাঠাতে আগ্রহ দেখায়নি। ইতালি ও পোল্যান্ড সরাসরি জানিয়েছে, তারা এমন কোনো অভিযানে সেনা দেবে না। জার্মানি ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রয়োজনে তারা সহায়তা করতে পারে, তবে ইউক্রেনের ভেতরে নয়, প্রতিবেশী দেশে অবস্থান করবে তাদের বাহিনী।

অপেক্ষার কূটনীতি

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেছেন, শান্তির পথে অগ্রগতি হলেও সবচেয়ে কঠিন ধাপ এখনো সামনে। তার মতে, প্রকৃত শান্তি আসবে তখনই, যখন রুশ নেতৃত্ব সমঝোতার মানসিকতা দেখাবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

শরীয়তপুরে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ, নিহত ১ আহত ২

ইউক্রেন যুদ্ধের পরের নিরাপত্তা পরিকল্পনা: ব্রিটেন ও ফ্রান্স সেনা পাঠাতে প্রস্তুত

০৪:১৮:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

ইউক্রেনে যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিল ব্রিটেন ও ফ্রান্স। শান্তিচুক্তির পর দেশটিতে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে নীতিগত প্রস্তুতির কথা জানিয়ে ইউরোপের দুই প্রধান শক্তি স্পষ্ট করল, তারা সংঘাত-পরবর্তী সময়ে কিয়েভের পাশে থাকতে চায়।

প্যারিস সম্মেলনে বড় ঘোষণা

ফরাসি প্রেসিডেন্টের আয়োজনে প্যারিসে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোর নেতারা একত্র হন। দীর্ঘ আলোচনার পর ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইউক্রেন যৌথভাবে একটি অভিপ্রায় ঘোষণা স্বাক্ষর করে। এতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্রিটিশ ও ফরাসি সেনাদের জন্য সামরিক কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যা দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে।

সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর নয়

ফরাসি নেতৃত্ব স্পষ্ট করেছে, প্রস্তাবিত এই সেনা উপস্থিতির লক্ষ্য রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ নয়। বরং যুদ্ধবিরতির পর স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ইউক্রেনের জনগণকে নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য। সেনারা সম্মুখ সারির অনেক পেছনে অবস্থান করবে বলে জানানো হয়েছে, যদিও বাহিনীর আকার ও পরিধি নিয়ে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ও নিশ্চয়তা

সম্মেলনে উপস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইউরোপীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পক্ষে শক্ত অবস্থানের কথা জানান। তাদের ভাষায়, ইউক্রেনে যেকোনো নতুন হামলা ঠেকাতে দেওয়া নিরাপত্তা নিশ্চয়তা অতীতের যেকোনো ব্যবস্থার চেয়ে দৃঢ়। প্রয়োজনে প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়া—দুই দিকেই প্রস্তুতির বার্তা দেওয়া হয়েছে।

শান্তিচুক্তির জটিলতা

একই সময়ে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলাদা শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও ভূখণ্ড ছাড়ের প্রশ্নে অচলাবস্থা রয়ে গেছে। ইউক্রেনীয় নেতৃত্ব জানিয়েছে, সমঝোতা সম্ভব না হলে সরাসরি সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনায় যেতে তারা প্রস্তুত। আলোচনাকারীরাও স্বীকার করেছেন, ভূখণ্ড প্রশ্নই হবে সবচেয়ে কঠিন বিষয়।

রাশিয়ার কঠোর অবস্থান

রাশিয়া আগেই জানিয়ে দিয়েছে, ইউক্রেনের মাটিতে উত্তর আটলান্টিক জোটভুক্ত সেনাদের উপস্থিতি তারা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। মস্কোর বক্তব্য, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয়, বরং সংঘাতের মূল কারণ সমাধান করেই চূড়ান্ত নিষ্পত্তি চাই তারা। এ অবস্থায় স্বল্পমেয়াদে শান্তিচুক্তি ও পরবর্তী সেনা মোতায়েন বাস্তবায়ন কঠিন বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

Military material is loaded onto Poland-bound boat in Orkanger

ইউরোপের ভেতরের ভিন্নমত

প্যারিস বৈঠকে অংশ নেওয়া সব দেশ সেনা পাঠাতে আগ্রহ দেখায়নি। ইতালি ও পোল্যান্ড সরাসরি জানিয়েছে, তারা এমন কোনো অভিযানে সেনা দেবে না। জার্মানি ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রয়োজনে তারা সহায়তা করতে পারে, তবে ইউক্রেনের ভেতরে নয়, প্রতিবেশী দেশে অবস্থান করবে তাদের বাহিনী।

অপেক্ষার কূটনীতি

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেছেন, শান্তির পথে অগ্রগতি হলেও সবচেয়ে কঠিন ধাপ এখনো সামনে। তার মতে, প্রকৃত শান্তি আসবে তখনই, যখন রুশ নেতৃত্ব সমঝোতার মানসিকতা দেখাবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।