নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ভারতে বাংলাদেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশনের ভিসা কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এটি একটি নিরাপত্তা ইস্যু এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ভারতে অবস্থিত তিনটি মিশনের ভিসা শাখা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, এই তিনটি মিশন হলো—নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন, কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন এবং আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন। এ ছাড়া মুম্বাই ও চেন্নাইয়েও বাংলাদেশের মিশন রয়েছে।
ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল যে অবস্থান নিয়েছেন, তিনি তার সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। এর আগে বুধবার আসিফ নজরুল পুনর্ব্যক্ত করেন, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দল ভারতে যাবে না এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠকের পর আসিফ নজরুল বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ নিতে আগ্রহী হলেও তা জাতীয় মর্যাদা বা খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিনিময়ে হতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং ক্রিকেটপ্রেমী জাতি হিসেবে সবাই খেলতে চায়। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ভারতে খেলার প্রশ্ন নেই।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ অবশ্যই খেলবে, তবে তা ভারতের বাইরে অনুষ্ঠিত হবে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইস্যু সামনে আসে এবং প্রতিটি বিষয়ই কিছুটা হলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যদি কম দামে চাল কেনার সুযোগ পান, তাহলে তারা সেই পথই বেছে নেবেন।
পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে বাংলাদেশের সম্ভাব্য আগ্রহ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, বিষয়টি এখনো আলোচনাধীন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা জানানো হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















