০৩:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬
হাওর এক্সপ্রেসে ছুরি ঠেকিয়ে ডাকাতি, দুই যুবক গ্রেপ্তার ওআইসি বৈঠকের আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বললেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা দ্বিতীয় মেয়াদের ট্রাম্প: দেশে সীমাবদ্ধ, বিদেশে প্রায় অবারিত চীন প্রভাবেই ধাক্কা: ২০২৬ সালে জাপানে বিদেশি পর্যটক কমার আশঙ্কা পাহাড়ে নীরব প্রত্যাবর্তন: জাবারখেতের বনে বন্যপ্রাণী ও নরম পর্যটনের নতুন পথ হংকংয়ে ইতিহাস গড়ল চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা, তালিকাভুক্তিতেই উঠল বিপুল অর্থ এআই চাহিদার জোয়ারে স্যামসাংয়ের লাভে উল্লম্ফন, এক ত্রৈমাসিকে তিন গুণ সৌদি আরবের শিংওয়ালা মরু সাপ গ্রিনল্যান্ড ঘিরে নতুন কৌশল, বরফ গলার পথে চীনের ছায়া ঠেকাতে ট্রাম্পের তৎপরতা কেরালার কারিগরদের হাতে ফিরল প্রাচীন নৌযানের গৌরব, সমুদ্রে পাড়ি দিল কৌণ্ডিন্য

এলপিজির দাম ও সংকট সামলাতে করছাড় চায় সরকার

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির সরবরাহ সংকট ও ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ন্ত্রণে কর ও ভ্যাট কাঠামো পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যেই জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে এলপিজি আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদনে বিদ্যমান ভ্যাট ও কর কাঠামো সংশোধনের অনুরোধ জানিয়েছে। সরকারের আশা, এতে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং ভোক্তাদের ওপর চাপ কিছুটা কমবে।

এলপিজি নির্ভরতার বাস্তবতা
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে আমদানির ওপর নির্ভরশীল। গৃহস্থালির রান্নার পাশাপাশি শিল্পকারখানায়ও এলপিজির ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। ফলে সরবরাহে সামান্য ঘাটতি দেখা দিলেই বাজারে দামের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়।

শীতকাল ও গ্যাস সংকটে বেড়েছে চাপ
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শীত মৌসুমে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ার কারণে এলপিজির দাম সাধারণত ঊর্ধ্বমুখী থাকে। এ অবস্থার মধ্যে পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বহু পরিবার ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিকল্প হিসেবে এলপিজির দিকে ঝুঁকেছে। এতে করে বাজারে সংকট আরও তীব্র হয়েছে এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলেছে, যা গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভ্যাট কাঠামো বদলের প্রস্তাব
জ্বালানি বিভাগ জানায়, উপদেষ্টা পরিষদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত এবং এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকে আমদানির পর্যায়ে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট ছাড় তুলে নিয়ে ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব বিবেচনা করা হয়। একই সঙ্গে সরবরাহ শৃঙ্খলের অন্যান্য ধাপে করছাড় দেওয়ার কথাও বলা হয়।

প্রস্তাবে স্থানীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট বহাল রাখার পাশাপাশি ব্যবসা বা বাণিজ্য পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি এবং অগ্রিম আয়কর থেকে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের মতে, এভাবে কর কাঠামো পুনর্গঠন করা গেলে এলপিজির ওপর মোট করের চাপ যুক্তিসংগত হবে এবং দামের স্থিতিশীলতা আসতে পারে।

ভোক্তা স্বার্থে প্রভাব বিশ্লেষণের নির্দেশ
তবে উপদেষ্টা পরিষদ স্পষ্ট করেছে, ভ্যাট ও কর কাঠামোতে যেকোনো পরিবর্তনের আগে ভোক্তাদের ওপর এর প্রভাব বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি। বৈঠকের কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত ব্যবস্থা কার্যকর হলে ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির ক্রয়মূল্য কতটা কমবে, তা নিরূপণ করা অপরিহার্য।

এ জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে সমন্বিতভাবে বিষয়টি পর্যালোচনা করে ভোক্তা মূল্যের প্রভাব স্পষ্ট করে পুনরায় প্রস্তাব জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অপারেটরদের অবস্থান ও মতভেদ
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে একমত হলেও আমদানির পর্যায়ে ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাবে তারা আপত্তি জানিয়ে শূন্য শতাংশ ভ্যাটের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ফলে নীতিগতভাবে অনেক বিষয়ে ঐকমত্য থাকলেও আমদানিতে ভ্যাটের হার নিয়ে মতভেদ রয়ে গেছে।

সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নীতিগত সহায়তার প্রয়োজন
জ্বালানি বিভাগ মনে করছে, পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ সীমিত থাকার এই সময়ে এলপিজির স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে যুক্তিসংগত ভ্যাট ও কর কাঠামোর মাধ্যমে নীতিগত সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। এ কারণে উপদেষ্টা পরিষদের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে ভোক্তারা নতুন করে দামের ধাক্কায় না পড়েন।

ধর্মঘটের ঘোষণা
এদিকে এলপি গ্যাস ট্রেডার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি বিতরণ ও খুচরা পর্যায়ে চার্জ বাড়ানোর দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি বিপণন ও সরবরাহ বন্ধের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাওর এক্সপ্রেসে ছুরি ঠেকিয়ে ডাকাতি, দুই যুবক গ্রেপ্তার

এলপিজির দাম ও সংকট সামলাতে করছাড় চায় সরকার

০৭:৫৬:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির সরবরাহ সংকট ও ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ন্ত্রণে কর ও ভ্যাট কাঠামো পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যেই জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে এলপিজি আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদনে বিদ্যমান ভ্যাট ও কর কাঠামো সংশোধনের অনুরোধ জানিয়েছে। সরকারের আশা, এতে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং ভোক্তাদের ওপর চাপ কিছুটা কমবে।

এলপিজি নির্ভরতার বাস্তবতা
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে আমদানির ওপর নির্ভরশীল। গৃহস্থালির রান্নার পাশাপাশি শিল্পকারখানায়ও এলপিজির ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। ফলে সরবরাহে সামান্য ঘাটতি দেখা দিলেই বাজারে দামের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়।

শীতকাল ও গ্যাস সংকটে বেড়েছে চাপ
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শীত মৌসুমে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ার কারণে এলপিজির দাম সাধারণত ঊর্ধ্বমুখী থাকে। এ অবস্থার মধ্যে পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বহু পরিবার ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিকল্প হিসেবে এলপিজির দিকে ঝুঁকেছে। এতে করে বাজারে সংকট আরও তীব্র হয়েছে এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলেছে, যা গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভ্যাট কাঠামো বদলের প্রস্তাব
জ্বালানি বিভাগ জানায়, উপদেষ্টা পরিষদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত এবং এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকে আমদানির পর্যায়ে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট ছাড় তুলে নিয়ে ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব বিবেচনা করা হয়। একই সঙ্গে সরবরাহ শৃঙ্খলের অন্যান্য ধাপে করছাড় দেওয়ার কথাও বলা হয়।

প্রস্তাবে স্থানীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট বহাল রাখার পাশাপাশি ব্যবসা বা বাণিজ্য পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি এবং অগ্রিম আয়কর থেকে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের মতে, এভাবে কর কাঠামো পুনর্গঠন করা গেলে এলপিজির ওপর মোট করের চাপ যুক্তিসংগত হবে এবং দামের স্থিতিশীলতা আসতে পারে।

ভোক্তা স্বার্থে প্রভাব বিশ্লেষণের নির্দেশ
তবে উপদেষ্টা পরিষদ স্পষ্ট করেছে, ভ্যাট ও কর কাঠামোতে যেকোনো পরিবর্তনের আগে ভোক্তাদের ওপর এর প্রভাব বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি। বৈঠকের কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত ব্যবস্থা কার্যকর হলে ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির ক্রয়মূল্য কতটা কমবে, তা নিরূপণ করা অপরিহার্য।

এ জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে সমন্বিতভাবে বিষয়টি পর্যালোচনা করে ভোক্তা মূল্যের প্রভাব স্পষ্ট করে পুনরায় প্রস্তাব জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অপারেটরদের অবস্থান ও মতভেদ
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে একমত হলেও আমদানির পর্যায়ে ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাবে তারা আপত্তি জানিয়ে শূন্য শতাংশ ভ্যাটের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ফলে নীতিগতভাবে অনেক বিষয়ে ঐকমত্য থাকলেও আমদানিতে ভ্যাটের হার নিয়ে মতভেদ রয়ে গেছে।

সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নীতিগত সহায়তার প্রয়োজন
জ্বালানি বিভাগ মনে করছে, পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ সীমিত থাকার এই সময়ে এলপিজির স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে যুক্তিসংগত ভ্যাট ও কর কাঠামোর মাধ্যমে নীতিগত সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। এ কারণে উপদেষ্টা পরিষদের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে ভোক্তারা নতুন করে দামের ধাক্কায় না পড়েন।

ধর্মঘটের ঘোষণা
এদিকে এলপি গ্যাস ট্রেডার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি বিতরণ ও খুচরা পর্যায়ে চার্জ বাড়ানোর দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি বিপণন ও সরবরাহ বন্ধের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।