যুক্তরাষ্ট্রের হঠাৎ ও দ্রুত অভিযানের পর ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, তখনই এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিকোলাস মাদুরোকে সরিয়ে দেওয়ার পর তিনি সমর্থন দেননি ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে জনপ্রিয় বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল গোয়েন্দা বিশ্লেষণ, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং তেলের রাজনীতি।
গোয়েন্দা বিশ্লেষণে নেতৃত্ব নিয়ে সংশয়
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে উঠে আসে, সরকার পরিচালনায় মাচাদো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জে পড়তে পারেন। হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, বিরোধী শিবিরের ভেতর ঐক্যের অভাব এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বাস্তব পরিকল্পনা না থাকায় তাকে সামনে আনা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেন, দেশে তার যথেষ্ট সম্মান ও ভেতরের সমর্থন নেই।
সম্পর্কের অবনতি ও ভাঙা আস্থা
এক সময় ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মাচাদোর সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ ছিল। নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি তা উৎসর্গ করেছিলেন ট্রাম্পকে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক ফাটল ধরে। ওয়াশিংটনে বৈঠকের কথা থাকলেও পরে তা আর হয়নি। দূত রিচার্ড গ্রেনেলের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে অস্বীকৃতি এবং রাজনৈতিক বন্দিদের তালিকা দিতে গড়িমসি প্রশাসনের ভেতরে বিরক্তি বাড়ায়।
বিকল্প পথ হিসেবে অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার বাস্তবতা মেনে নিয়ে মাদুরোর উপরাষ্ট্রপতি দেলসি রদ্রিগেসকে অন্তর্বর্তী নেতৃত্বে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর যুক্তি ছিল, বিরোধীদের সরাসরি ক্ষমতায় আনতে গেলে দেশ আরও অস্থিতিশীল হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে বড় সামরিক উপস্থিতিতে যেতে হতে পারে।
তেলের রাজনীতি বনাম গণতন্ত্র
এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়, ভেনেজুয়েলা প্রশ্নে ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য গণতন্ত্র নয়, বরং তেল ও কৌশলগত স্বার্থ। নিষেধাজ্ঞা জোরদার হলেও মাচাদো প্রায় নীরব থাকেন। দেশের ভেতরে মুদ্রাস্ফীতি, তেল আয়ের ধস কিংবা অভিবাসন সংকট নিয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় সমর্থন ক্ষয় হতে থাকে।
বিরোধী শিবিরে হতাশা ও প্রশ্ন
ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনীতিকেরা মনে করছেন, হোয়াইট হাউস সহজ পথ বেছে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী অনেক ভেনেজুয়েলান ট্রাম্পের মন্তব্যে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। তাদের মতে, মাচাদোই এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয় বিরোধী মুখ। তবে বাস্তব রাজনীতিতে ক্ষমতার সমীকরণ বদলে গেছে, আর সেই খেলায় শেষ কথা বলছে ওয়াশিংটন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















