১২:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার: এরপর কী, কী বলছে নিয়ম পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে চুরির অভিযোগে গাছে বেঁধে নির্যাতন, দুই শিশুকে ঘিরে তোলপাড় গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের আন্দোলন স্থগিত, ঈদের আগেই দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস এপ্রিলে মব ভায়োলেন্সে ২২ নিহত, রাজনৈতিক সংঘাতে আরও ৬: এইচআরএসএস প্রতিবেদন ৩৯ কর্মকর্তার বড় রদবদল, এক দিনে বদলি ৯ ডিআইজি এক ভোটেই হার-জিত: তামিলনাড়ু ভোটে সাবেক মন্ত্রীর পরাজয়, ‘সারকার’-এর বার্তা ফের প্রমাণিত বাংলা-আসাম ফলাফল ঘিরে গণতন্ত্রে হুমকি, ঐক্যের ডাক রাহুল গান্ধীর সংসার যখন চালায় ভাগ্য, তখন অর্থনীতি কোথায় দাঁড়িয়ে? গ্রামেও ভ্যাট বসাতে চায় সরকার, টোকেন কর নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ইন্দোনেশিয়ায় ম্যালেরিয়ার রেকর্ড সংক্রমণ, জলবায়ু ও মানুষের চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি

ভেনেজুয়েলায় হামলা ও বিশ্ব রাজনীতির নতুন বার্তা

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুধু একটি দেশের ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতিতে শক্তির ভাষা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপ্রধান নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ঘোষণা দেন, পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকার প্রভাব নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না। তাঁর এই বক্তব্য একদিকে চীন ও রাশিয়ার প্রতি কঠোর বার্তা দিলেও অন্যদিকে তাদের জন্য নতুন সুযোগও তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

মিশ্র বার্তা ও শক্তির রাজনীতি
ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী সবাই এখন হিসাব কষছে, কতটা দূর পর্যন্ত শক্তি প্রয়োগে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান দেখিয়ে দিয়েছে যে আন্তর্জাতিক নিয়মের চেয়ে শক্তির প্রয়োগই এখন বেশি কার্যকর হয়ে উঠছে। ফলে রাশিয়া ও চীন নিজেদের অঞ্চলে আগ্রাসী পদক্ষেপের নৈতিক যুক্তি খুঁজে পেতে পারে।

রাশিয়া ও চীনের হিসাব
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা জানালেও রাশিয়া ও চীন সরাসরি সামরিক প্রতিক্রিয়ার পথে যায়নি। জাতিসংঘে তারা মাদুরোর মুক্তি ও সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তবে মস্কো ও বেইজিং বুঝছে, ট্রাম্পের বিরাগভাজন হলে তার মূল্য চড়া হতে পারে। আবার তাঁকে সন্তুষ্ট রাখলে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নরম করার আশায় রয়েছে। অন্যদিকে চীন বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার পাশাপাশি দক্ষিণ চীন সাগরে আরও স্বাধীনভাবে চলার সুযোগ খুঁজছে। ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ বাড়লে এশিয়ায় চাপ কিছুটা কমবে, এমন হিসাবও করছে বেইজিং।

আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন
এই ঘটনার আরেকটি বড় দিক হলো আন্তর্জাতিক আইনের গ্রহণযোগ্যতা। যুক্তরাষ্ট্র নিজেই যদি শক্তির মাধ্যমে নিয়ম ভাঙে, তবে ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোর একই পথে হাঁটতে বাধা কোথায়। বিশ্লেষকেরা বলছেন, তাইওয়ান বা ইউক্রেনের মতো ইস্যুতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত দেখা যেতে পারে।

নীরবতার রাজনীতি
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখনো প্রকাশ্যে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাননি। অথচ অতীতে পশ্চিমা সামরিক অভিযানে তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল তীব্র। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইউক্রেনে নিজেদের লক্ষ্য পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা পাওয়ার আশায় আপাতত নীরব থাকাই মস্কোর কৌশল।

সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযান শুধু লাতিন আমেরিকার রাজনীতি নয়, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নতুন করে নাড়িয়ে দিয়েছে। শক্তির ভাষা যখন স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তখন আন্তর্জাতিক নিয়মের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার: এরপর কী, কী বলছে নিয়ম

ভেনেজুয়েলায় হামলা ও বিশ্ব রাজনীতির নতুন বার্তা

০৭:১৪:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুধু একটি দেশের ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতিতে শক্তির ভাষা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপ্রধান নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ঘোষণা দেন, পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকার প্রভাব নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না। তাঁর এই বক্তব্য একদিকে চীন ও রাশিয়ার প্রতি কঠোর বার্তা দিলেও অন্যদিকে তাদের জন্য নতুন সুযোগও তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

মিশ্র বার্তা ও শক্তির রাজনীতি
ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী সবাই এখন হিসাব কষছে, কতটা দূর পর্যন্ত শক্তি প্রয়োগে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান দেখিয়ে দিয়েছে যে আন্তর্জাতিক নিয়মের চেয়ে শক্তির প্রয়োগই এখন বেশি কার্যকর হয়ে উঠছে। ফলে রাশিয়া ও চীন নিজেদের অঞ্চলে আগ্রাসী পদক্ষেপের নৈতিক যুক্তি খুঁজে পেতে পারে।

রাশিয়া ও চীনের হিসাব
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা জানালেও রাশিয়া ও চীন সরাসরি সামরিক প্রতিক্রিয়ার পথে যায়নি। জাতিসংঘে তারা মাদুরোর মুক্তি ও সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তবে মস্কো ও বেইজিং বুঝছে, ট্রাম্পের বিরাগভাজন হলে তার মূল্য চড়া হতে পারে। আবার তাঁকে সন্তুষ্ট রাখলে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নরম করার আশায় রয়েছে। অন্যদিকে চীন বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার পাশাপাশি দক্ষিণ চীন সাগরে আরও স্বাধীনভাবে চলার সুযোগ খুঁজছে। ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ বাড়লে এশিয়ায় চাপ কিছুটা কমবে, এমন হিসাবও করছে বেইজিং।

আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন
এই ঘটনার আরেকটি বড় দিক হলো আন্তর্জাতিক আইনের গ্রহণযোগ্যতা। যুক্তরাষ্ট্র নিজেই যদি শক্তির মাধ্যমে নিয়ম ভাঙে, তবে ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোর একই পথে হাঁটতে বাধা কোথায়। বিশ্লেষকেরা বলছেন, তাইওয়ান বা ইউক্রেনের মতো ইস্যুতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত দেখা যেতে পারে।

নীরবতার রাজনীতি
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখনো প্রকাশ্যে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাননি। অথচ অতীতে পশ্চিমা সামরিক অভিযানে তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল তীব্র। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইউক্রেনে নিজেদের লক্ষ্য পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা পাওয়ার আশায় আপাতত নীরব থাকাই মস্কোর কৌশল।

সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযান শুধু লাতিন আমেরিকার রাজনীতি নয়, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নতুন করে নাড়িয়ে দিয়েছে। শক্তির ভাষা যখন স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তখন আন্তর্জাতিক নিয়মের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।