১২:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার: এরপর কী, কী বলছে নিয়ম পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে চুরির অভিযোগে গাছে বেঁধে নির্যাতন, দুই শিশুকে ঘিরে তোলপাড় গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের আন্দোলন স্থগিত, ঈদের আগেই দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস এপ্রিলে মব ভায়োলেন্সে ২২ নিহত, রাজনৈতিক সংঘাতে আরও ৬: এইচআরএসএস প্রতিবেদন ৩৯ কর্মকর্তার বড় রদবদল, এক দিনে বদলি ৯ ডিআইজি এক ভোটেই হার-জিত: তামিলনাড়ু ভোটে সাবেক মন্ত্রীর পরাজয়, ‘সারকার’-এর বার্তা ফের প্রমাণিত বাংলা-আসাম ফলাফল ঘিরে গণতন্ত্রে হুমকি, ঐক্যের ডাক রাহুল গান্ধীর সংসার যখন চালায় ভাগ্য, তখন অর্থনীতি কোথায় দাঁড়িয়ে? গ্রামেও ভ্যাট বসাতে চায় সরকার, টোকেন কর নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ইন্দোনেশিয়ায় ম্যালেরিয়ার রেকর্ড সংক্রমণ, জলবায়ু ও মানুষের চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি

নতুন বছরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, আয়ের সীমা পেরোল বহু রাজ্য

নতুন বছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। জানুয়ারি মাস থেকে দেশটির উনিশটি রাজ্যে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে আনুমানিক তিরাশি লাখ শ্রমিকের মাসিক ও বার্ষিক আয়ে সরাসরি প্রভাব পড়ছে। মূল্যস্ফীতির চাপ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের মধ্যেই এই সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর হয়েছে।

মজুরি বাড়ছে লাল ও নীল দুই শিবিরেই
চলতি বছর মজুরি বৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের নিয়ন্ত্রিত রাজ্য। কোথাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি বেড়েছে, কোথাও নতুন আইন বা ভোটারদের গণভোটের মাধ্যমে হার বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ত্রিশটি রাজ্যে ফেডারেল নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরির চেয়ে বেশি হারে বেতন কার্যকর রয়েছে।

রেকর্ড গড়ল ওয়াশিংটন ও হাওয়াই
জানুয়ারির প্রথম দিন থেকে ওয়াশিংটন রাজ্যে প্রতি ঘণ্টার ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত হয়েছে সতেরো ডলার তেরো সেন্ট। এর মাধ্যমে এই রাজ্যই প্রথম রাজ্য হিসেবে ঘণ্টাপ্রতি সতেরো ডলারের বেশি মজুরি চালু করল। হাওয়াইয়ে এক ধাপে দুই ডলার বেড়ে ন্যূনতম মজুরি হয়েছে ষোল ডলার, যা দেশজুড়ে সবচেয়ে বড় এককালীন বৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গণভোটে বদল নেব্রাস্কা ও মিসৌরিতে
নেব্রাস্কা ও মিসৌরিতে ভোটারদের উদ্যোগে ন্যূনতম মজুরি বেড়ে ঘণ্টাপ্রতি পনেরো ডলারে পৌঁছেছে। এসব রাজ্যের পাশের কয়েকটি রাজ্যে এখনো ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি কার্যকর থাকায় আঞ্চলিক আয়ের ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়েছে।

পনেরো ডলারের যুগে বেশি শ্রমিক
অর্থনৈতিক নীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রথম এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যখন ঘণ্টাপ্রতি পনেরো ডলার বা তার বেশি মজুরি দেওয়া রাজ্যগুলোতে বসবাসকারী শ্রমিকের সংখ্যা ফেডারেল ন্যূনতম মজুরির রাজ্যগুলোর শ্রমিকের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। এটি শ্রমবাজারের দিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।

Image

দক্ষিণের কয়েকটি রাজ্যে পুরোনো আইন
এখনো জর্জিয়া ও ওয়াইয়োমিংয়ে আইনগতভাবে ঘণ্টাপ্রতি পাঁচ ডলার পনেরো সেন্ট মজুরির বিধান রয়েছে। যদিও ফেডারেল শ্রমআইনের আওতাভুক্ত নিয়োগকর্তাদের জাতীয় ন্যূনতম হারই দিতে হয়। দক্ষিণাঞ্চলের আরও কয়েকটি রাজ্যে নিজস্ব ন্যূনতম মজুরি আইন নেই।

রাজনীতি ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব
ক্রমাগত উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে ন্যূনতম মজুরি এখন বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, বিপুল সংখ্যক নাগরিক মজুরি বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছেন, যা দুই হাজার ছাব্বিশ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের ভিন্নমত
ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর প্রভাব নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে এখনো মতভেদ রয়েছে। কেউ বলছেন, এতে ব্যবসার ব্যয় বাড়ে এবং কর্মসংস্থান কমতে পারে। অন্যদিকে অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, মজুরি বাড়লে কর্মীদের স্থায়িত্ব বাড়ে এবং দারিদ্র্য কমে। ক্যালিফোর্নিয়ায় বড় খাদ্যচেইনে মজুরি বৃদ্ধির পর কর্মী বদল কমার উদাহরণও তুলে ধরা হচ্ছে।

শহরভিত্তিক উচ্চ মজুরি
কিছু শহর রাজ্য নির্ধারিত সীমার চেয়েও বেশি মজুরি কার্যকর করেছে। সিয়াটলে এখন ঘণ্টাপ্রতি একুশ ডলারের বেশি ন্যূনতম মজুরি চালু রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি ও আশপাশের এলাকায় হার নির্ধারিত হয়েছে সতেরো ডলার। লস অ্যাঞ্জেলেসে হোটেল ও বিমানবন্দর কর্মীদের জন্য ভবিষ্যতে আরও উচ্চ মজুরি কার্যকর হওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

দীর্ঘদিন স্থির ফেডারেল হার
ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি দুই হাজার নয় সালের পর আর পরিবর্তন হয়নি। এটি প্রায় এক শতকের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অপরিবর্তিত থাকার ঘটনা, যা রাজ্যগুলোকে নিজ নিজ উদ্যোগে হার বাড়াতে উৎসাহিত করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার: এরপর কী, কী বলছে নিয়ম

নতুন বছরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, আয়ের সীমা পেরোল বহু রাজ্য

০৭:৩০:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন বছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। জানুয়ারি মাস থেকে দেশটির উনিশটি রাজ্যে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে আনুমানিক তিরাশি লাখ শ্রমিকের মাসিক ও বার্ষিক আয়ে সরাসরি প্রভাব পড়ছে। মূল্যস্ফীতির চাপ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের মধ্যেই এই সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর হয়েছে।

মজুরি বাড়ছে লাল ও নীল দুই শিবিরেই
চলতি বছর মজুরি বৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের নিয়ন্ত্রিত রাজ্য। কোথাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি বেড়েছে, কোথাও নতুন আইন বা ভোটারদের গণভোটের মাধ্যমে হার বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ত্রিশটি রাজ্যে ফেডারেল নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরির চেয়ে বেশি হারে বেতন কার্যকর রয়েছে।

রেকর্ড গড়ল ওয়াশিংটন ও হাওয়াই
জানুয়ারির প্রথম দিন থেকে ওয়াশিংটন রাজ্যে প্রতি ঘণ্টার ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত হয়েছে সতেরো ডলার তেরো সেন্ট। এর মাধ্যমে এই রাজ্যই প্রথম রাজ্য হিসেবে ঘণ্টাপ্রতি সতেরো ডলারের বেশি মজুরি চালু করল। হাওয়াইয়ে এক ধাপে দুই ডলার বেড়ে ন্যূনতম মজুরি হয়েছে ষোল ডলার, যা দেশজুড়ে সবচেয়ে বড় এককালীন বৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গণভোটে বদল নেব্রাস্কা ও মিসৌরিতে
নেব্রাস্কা ও মিসৌরিতে ভোটারদের উদ্যোগে ন্যূনতম মজুরি বেড়ে ঘণ্টাপ্রতি পনেরো ডলারে পৌঁছেছে। এসব রাজ্যের পাশের কয়েকটি রাজ্যে এখনো ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি কার্যকর থাকায় আঞ্চলিক আয়ের ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়েছে।

পনেরো ডলারের যুগে বেশি শ্রমিক
অর্থনৈতিক নীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রথম এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যখন ঘণ্টাপ্রতি পনেরো ডলার বা তার বেশি মজুরি দেওয়া রাজ্যগুলোতে বসবাসকারী শ্রমিকের সংখ্যা ফেডারেল ন্যূনতম মজুরির রাজ্যগুলোর শ্রমিকের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। এটি শ্রমবাজারের দিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।

Image

দক্ষিণের কয়েকটি রাজ্যে পুরোনো আইন
এখনো জর্জিয়া ও ওয়াইয়োমিংয়ে আইনগতভাবে ঘণ্টাপ্রতি পাঁচ ডলার পনেরো সেন্ট মজুরির বিধান রয়েছে। যদিও ফেডারেল শ্রমআইনের আওতাভুক্ত নিয়োগকর্তাদের জাতীয় ন্যূনতম হারই দিতে হয়। দক্ষিণাঞ্চলের আরও কয়েকটি রাজ্যে নিজস্ব ন্যূনতম মজুরি আইন নেই।

রাজনীতি ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব
ক্রমাগত উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে ন্যূনতম মজুরি এখন বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, বিপুল সংখ্যক নাগরিক মজুরি বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছেন, যা দুই হাজার ছাব্বিশ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের ভিন্নমত
ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর প্রভাব নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে এখনো মতভেদ রয়েছে। কেউ বলছেন, এতে ব্যবসার ব্যয় বাড়ে এবং কর্মসংস্থান কমতে পারে। অন্যদিকে অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, মজুরি বাড়লে কর্মীদের স্থায়িত্ব বাড়ে এবং দারিদ্র্য কমে। ক্যালিফোর্নিয়ায় বড় খাদ্যচেইনে মজুরি বৃদ্ধির পর কর্মী বদল কমার উদাহরণও তুলে ধরা হচ্ছে।

শহরভিত্তিক উচ্চ মজুরি
কিছু শহর রাজ্য নির্ধারিত সীমার চেয়েও বেশি মজুরি কার্যকর করেছে। সিয়াটলে এখন ঘণ্টাপ্রতি একুশ ডলারের বেশি ন্যূনতম মজুরি চালু রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি ও আশপাশের এলাকায় হার নির্ধারিত হয়েছে সতেরো ডলার। লস অ্যাঞ্জেলেসে হোটেল ও বিমানবন্দর কর্মীদের জন্য ভবিষ্যতে আরও উচ্চ মজুরি কার্যকর হওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

দীর্ঘদিন স্থির ফেডারেল হার
ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি দুই হাজার নয় সালের পর আর পরিবর্তন হয়নি। এটি প্রায় এক শতকের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অপরিবর্তিত থাকার ঘটনা, যা রাজ্যগুলোকে নিজ নিজ উদ্যোগে হার বাড়াতে উৎসাহিত করেছে।