০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় উসকানি’, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ক্ষুব্ধ বেইজিং মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতির নতুন প্রতিযোগিতা: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার মধ্যস্থতাকারী কে? বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন শিথিলতা: বাণিজ্য অর্থায়নে বাড়ল ঋণসীমা কেরালার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ভি ডি সতীশন, ১৮ মে শপথের সম্ভাবনা পাকিস্তানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ-৪’ সফল পরীক্ষা, পাল্লা ও নিখুঁত আঘাতের সক্ষমতার দাবি বেইজিং বৈঠকে ইরান ইস্যু, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে ব্রিকসের জোরালো অবস্থান চাইল তেহরান মিয়ানমার নিয়ে বর্ণনার লড়াই: রাষ্ট্র, বৈধতা ও সংবাদমাধ্যমের দায় এল নিনোর শঙ্কায় ফের গম কেনায় ঝুঁকছে এশিয়া, বাড়ছে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা চীনের সস্তা চিপের চাপে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর স্বপ্ন, টাটার নতুন ফ্যাবের সামনে কঠিন লড়াই অভিনেত্রী নীনা ওয়াদিয়া: ‘আমাদের বাড়ির সব দেয়াল ছিল হলুদ, যেন একটা লেবু’

নেটফ্লিক্সের ‘দ্য রিপ’ ট্রেলার: ২৪ মিলিয়ন ডলারের সিদ্ধান্তে মুখোমুখি অ্যাফ্লেক–ডেমন

অভিযান, তারপরই লোভের ফাঁদ
নেটফ্লিক্স ‘দ্য রিপ’ সিনেমার অফিসিয়াল ট্রেলার প্রকাশ করেছে, যেখানে আবার একসঙ্গে পর্দায় ফিরেছেন বেন অ্যাফ্লেক ও ম্যাট ডেমন। গল্পে তাঁরা মায়ামির দুই পুলিশ কর্মকর্তা। একটি অভিযানে তারা ২৪ মিলিয়ন ডলারের নগদ টাকা উদ্ধার করে। কিন্তু আইনি পথে না গিয়ে তারা সেই টাকাই নিজেদের কাছে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ট্রেলারটি স্পষ্ট করে দেয়—এটা শুধু চুরি নয়, গোপনীয়তার ভেতর থেকে ধীরে ধীরে জন্ম নেওয়া সন্দেহ আর ভাঙনের গল্প।

শুরুর দিকটা চেনা মনে হতে পারে। বড় অঙ্কের টাকা সামনে আসে। আইন একদিকে, প্রলোভন অন্যদিকে। কিন্তু ‘দ্য রিপ’-এর উত্তেজনা আসে সিদ্ধান্তের পরের অংশে—যখন টাকা লুকোনো হয়ে যায়, তখন বিপদ শুধু বাইরের নয়; ভেতরে, নিজেদের সম্পর্কের মাঝখানেও। ট্রেলারে চোখাচোখি, থেমে যাওয়া বাক্য, আর অসম্পূর্ণ ব্যাখ্যার মধ্যে দিয়ে বোঝা যায়—দুজনের মধ্যে ফাটলটা হঠাৎ নয়, ধীর এবং ব্যক্তিগত।

ভ্যারাইটি জানায়, সিনেমাটি সত্য ঘটনার অনুপ্রেরণায় তৈরি। ট্রেলারেও সেই বাস্তবতার চাপ আছে—চকচকে হিরোইজম নয়, বরং তাড়াহুড়োর ভেতর ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া মানুষের ছবি। এই দুই পুলিশকে ট্রেলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে দেখায় না। বরং দেখায়—চাপে একটা বেপরোয়া সিদ্ধান্ত, তারপর সেই সিদ্ধান্ত ঢাকতে আরও মিথ্যা, আরও হিসাব। একবার টাকা হাতে নেওয়ার পরই যেন সময় গুনতে শুরু করে, যদিও চারপাশের সবাই তখনও জানে না কী ঘটেছে।

সিনেমাটি লিখেছেন ও পরিচালনা করেছেন জো কার্নাহান। তাঁর সিনেমায় সাধারণত গতি থাকে, কিন্তু এখানে ট্রেলারের ইঙ্গিত—অ্যাকশন-থ্রিলারের ভেতরে মূল ইঞ্জিন হলো সম্পর্ক। দুজন মানুষ যারা ভাবছে তারা সব সামলাতে পারবে, কিন্তু বুঝতে পারছে না তারা আর একে অন্যকে বিশ্বাস করতে পারছে কি না। টাকা কেবল বস্তু নয়; সেটাই তাদের নীতি-সীমার জায়গাটা ঝাপসা করে দেয়।

সেভেন্টিজ ঘরানার ছায়া, স্ট্রিমিংয়ের বড় বাজি
কার্নাহান বলেছেন, চরিত্র আর সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া সেভেন্টিজ যুগের পুলিশ থ্রিলারগুলো থেকে তিনি প্রভাব নিয়েছেন। ট্রেলারের টোনও সেই দিকেই—চকচকে নয়, টানটান। এমন এক অনুভূতি থাকে যে, সহিংসতা যে কোনো সময় হঠাৎ ঢুকে পড়তে পারে, আর ফলাফল মসৃণ প্লটের অপেক্ষা করে না। অ্যাফ্লেক ও ডেমন এই ধরনের গল্পে স্বচ্ছন্দ—ক্লান্তি, হিসাব, আর ভেতরের অপরাধবোধ একসঙ্গে টেনে আনতে পারেন।

সহ-অভিনেতাদের তালিকাও দেখায়, নেটফ্লিক্স এটাকে বড় রিলিজ হিসেবেই সাজাচ্ছে। অ্যাফ্লেক–ডেমনের পাশাপাশি আছেন স্টিভেন ইউন, টেয়ানা টেলর, সাশা কালে, ক্যাটালিনা সান্দিনো মোরেনো, স্কট অ্যাডকিনস, কাইল চ্যান্ডলারসহ আরও অনেকে। বড় কাস্ট মানে শুধু নাম নয়; এটা প্রচারের ভাষাও—দর্শককে বোঝানো, এটি ‘এক রাতের জন্য বড় সিনেমা’ টাইপ অভিজ্ঞতা।

নেটফ্লিক্সের দিক থেকেও ট্রেলারটি একটি বার্তা। প্ল্যাটফর্মটি দেখাতে চায়, তারা এখনও তারকাখচিত, প্রাপ্তবয়স্ক দর্শককে লক্ষ্য করে বানানো থ্রিলার দিতে পারে—যা শুক্রবার রাতে এক বসায় দেখে নেওয়ার মতো। অ্যাফ্লেক–ডেমনের জুটি সেই বার্তার সবচেয়ে সহজ বাহন, কারণ এই নাম দুটো দেখলেই অনেক দর্শকের কাছে আলাদা করে ব্যাখ্যা লাগে না।

‘দ্য রিপ’ নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাবে শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি। ট্রেলার যেটা প্রতিশ্রুতি দেয় তা সোজা: ২৪ মিলিয়ন ডলারের গোপন সিদ্ধান্ত, চারদিকে নজর রাখা মানুষ, আর দুজন পার্টনার—যাদের সম্পর্কটা টাকার চাপে ধীরে ধীরে ‘আমরা’ থেকে ‘আমি’ হয়ে যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় উসকানি’, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ক্ষুব্ধ বেইজিং

নেটফ্লিক্সের ‘দ্য রিপ’ ট্রেলার: ২৪ মিলিয়ন ডলারের সিদ্ধান্তে মুখোমুখি অ্যাফ্লেক–ডেমন

০৭:৪০:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

অভিযান, তারপরই লোভের ফাঁদ
নেটফ্লিক্স ‘দ্য রিপ’ সিনেমার অফিসিয়াল ট্রেলার প্রকাশ করেছে, যেখানে আবার একসঙ্গে পর্দায় ফিরেছেন বেন অ্যাফ্লেক ও ম্যাট ডেমন। গল্পে তাঁরা মায়ামির দুই পুলিশ কর্মকর্তা। একটি অভিযানে তারা ২৪ মিলিয়ন ডলারের নগদ টাকা উদ্ধার করে। কিন্তু আইনি পথে না গিয়ে তারা সেই টাকাই নিজেদের কাছে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ট্রেলারটি স্পষ্ট করে দেয়—এটা শুধু চুরি নয়, গোপনীয়তার ভেতর থেকে ধীরে ধীরে জন্ম নেওয়া সন্দেহ আর ভাঙনের গল্প।

শুরুর দিকটা চেনা মনে হতে পারে। বড় অঙ্কের টাকা সামনে আসে। আইন একদিকে, প্রলোভন অন্যদিকে। কিন্তু ‘দ্য রিপ’-এর উত্তেজনা আসে সিদ্ধান্তের পরের অংশে—যখন টাকা লুকোনো হয়ে যায়, তখন বিপদ শুধু বাইরের নয়; ভেতরে, নিজেদের সম্পর্কের মাঝখানেও। ট্রেলারে চোখাচোখি, থেমে যাওয়া বাক্য, আর অসম্পূর্ণ ব্যাখ্যার মধ্যে দিয়ে বোঝা যায়—দুজনের মধ্যে ফাটলটা হঠাৎ নয়, ধীর এবং ব্যক্তিগত।

ভ্যারাইটি জানায়, সিনেমাটি সত্য ঘটনার অনুপ্রেরণায় তৈরি। ট্রেলারেও সেই বাস্তবতার চাপ আছে—চকচকে হিরোইজম নয়, বরং তাড়াহুড়োর ভেতর ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া মানুষের ছবি। এই দুই পুলিশকে ট্রেলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে দেখায় না। বরং দেখায়—চাপে একটা বেপরোয়া সিদ্ধান্ত, তারপর সেই সিদ্ধান্ত ঢাকতে আরও মিথ্যা, আরও হিসাব। একবার টাকা হাতে নেওয়ার পরই যেন সময় গুনতে শুরু করে, যদিও চারপাশের সবাই তখনও জানে না কী ঘটেছে।

সিনেমাটি লিখেছেন ও পরিচালনা করেছেন জো কার্নাহান। তাঁর সিনেমায় সাধারণত গতি থাকে, কিন্তু এখানে ট্রেলারের ইঙ্গিত—অ্যাকশন-থ্রিলারের ভেতরে মূল ইঞ্জিন হলো সম্পর্ক। দুজন মানুষ যারা ভাবছে তারা সব সামলাতে পারবে, কিন্তু বুঝতে পারছে না তারা আর একে অন্যকে বিশ্বাস করতে পারছে কি না। টাকা কেবল বস্তু নয়; সেটাই তাদের নীতি-সীমার জায়গাটা ঝাপসা করে দেয়।

সেভেন্টিজ ঘরানার ছায়া, স্ট্রিমিংয়ের বড় বাজি
কার্নাহান বলেছেন, চরিত্র আর সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া সেভেন্টিজ যুগের পুলিশ থ্রিলারগুলো থেকে তিনি প্রভাব নিয়েছেন। ট্রেলারের টোনও সেই দিকেই—চকচকে নয়, টানটান। এমন এক অনুভূতি থাকে যে, সহিংসতা যে কোনো সময় হঠাৎ ঢুকে পড়তে পারে, আর ফলাফল মসৃণ প্লটের অপেক্ষা করে না। অ্যাফ্লেক ও ডেমন এই ধরনের গল্পে স্বচ্ছন্দ—ক্লান্তি, হিসাব, আর ভেতরের অপরাধবোধ একসঙ্গে টেনে আনতে পারেন।

সহ-অভিনেতাদের তালিকাও দেখায়, নেটফ্লিক্স এটাকে বড় রিলিজ হিসেবেই সাজাচ্ছে। অ্যাফ্লেক–ডেমনের পাশাপাশি আছেন স্টিভেন ইউন, টেয়ানা টেলর, সাশা কালে, ক্যাটালিনা সান্দিনো মোরেনো, স্কট অ্যাডকিনস, কাইল চ্যান্ডলারসহ আরও অনেকে। বড় কাস্ট মানে শুধু নাম নয়; এটা প্রচারের ভাষাও—দর্শককে বোঝানো, এটি ‘এক রাতের জন্য বড় সিনেমা’ টাইপ অভিজ্ঞতা।

নেটফ্লিক্সের দিক থেকেও ট্রেলারটি একটি বার্তা। প্ল্যাটফর্মটি দেখাতে চায়, তারা এখনও তারকাখচিত, প্রাপ্তবয়স্ক দর্শককে লক্ষ্য করে বানানো থ্রিলার দিতে পারে—যা শুক্রবার রাতে এক বসায় দেখে নেওয়ার মতো। অ্যাফ্লেক–ডেমনের জুটি সেই বার্তার সবচেয়ে সহজ বাহন, কারণ এই নাম দুটো দেখলেই অনেক দর্শকের কাছে আলাদা করে ব্যাখ্যা লাগে না।

‘দ্য রিপ’ নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাবে শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি। ট্রেলার যেটা প্রতিশ্রুতি দেয় তা সোজা: ২৪ মিলিয়ন ডলারের গোপন সিদ্ধান্ত, চারদিকে নজর রাখা মানুষ, আর দুজন পার্টনার—যাদের সম্পর্কটা টাকার চাপে ধীরে ধীরে ‘আমরা’ থেকে ‘আমি’ হয়ে যাচ্ছে।