যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ছয় জানুয়ারি আবারও তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে। পাঁচ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলে ঘটে যাওয়া হামলাকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করতে শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের নতুন প্রকাশিত বক্তব্যে ওই ঘটনাকে সহিংস হামলা নয়, বরং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, ডেমোক্র্যাটরা রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য ঘটনাটিকে পরিকল্পিতভাবে বিদ্রোহ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।
হোয়াইট হাউসের নতুন ব্যাখ্যা
হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভাষ্যে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সমর্থকদের ওই সমাবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ এবং ক্যাপিটল পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা বাড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। সেখানে ট্রাম্পকে নায়ক হিসেবে তুলে ধরে ক্যাপিটল ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সাধারণ ক্ষমা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ন্যায়বিচারের প্রতীক বলা হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং তাঁদের রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে রাখা হয়েছিল।

ছয় জানুয়ারির বাস্তব চিত্র
২০২১ সালের ওই দিনে ট্রাম্প সমর্থকেরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ক্যাপিটল ভবনে ঢুকে পড়েন। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে আইনপ্রণেতাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয় এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল অনুমোদনের অধিবেশন কয়েক ঘণ্টা স্থগিত থাকে। জো বাইডেনের বিজয় নিশ্চিত করার সেই প্রক্রিয়াই ছিল হামলার মূল লক্ষ্য।
নির্বাচনী জালিয়াতির দাবি ও আদালতের অবস্থান
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন যে ২০২০ সালের নির্বাচন তাঁর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আদালত বা নির্বাচন কর্তৃপক্ষ ব্যাপক জালিয়াতির প্রমাণ পায়নি। ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য কর্মকর্তারা বারবার জানিয়েছেন, ভোট গণনা যন্ত্রে কারচুপি বা ভোট মুছে ফেলার কোনো প্রমাণ নেই।
অভিশংসন থেকে রাজনৈতিক বার্তা
ছয় জানুয়ারির ঘটনায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ২০২১ সালে প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন আনা হয়। তবে সিনেটে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় তিনি দায়মুক্তি পান। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের অধিকাংশই পরে রাজনৈতিকভাবে হারিয়ে গেছেন, যা তিনি নিজের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন।

হতাহতের প্রশ্ন ও দায় চাপানো
হোয়াইট হাউসের নতুন বর্ণনায় বলা হয়েছে, ক্যাপিটল হামলায় জড়িতরা কেবল অনধিকার প্রবেশকারী ছিলেন। নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির ওপর চাপানো হয়েছে। তবে তদন্তে দেখা গেছে, ওই সহিংসতার সঙ্গে একাধিক মৃত্যুর যোগ রয়েছে। একজন নারী পুলিশের গুলিতে নিহত হন এবং ঘটনার পর আরও কয়েকজন আত্মহত্যা করেন। ক্যাপিটল পুলিশের কর্মকর্তা ব্রায়ান সিকনিকের মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে ঘোষণা করা হলেও তাঁর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছিল।
কংগ্রেসে তীব্র মতবিরোধ
ঘটনার পঞ্চম বার্ষিকীতে ডেমোক্র্যাটদের আনা প্রস্তাব সিনেটে বাধার মুখে পড়ে। প্রস্তাবে ক্যাপিটল হামলাকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশংসা করা হয়েছিল। রিপাবলিকান আপত্তিতে সেই উদ্যোগ আটকে যায়, যা রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
ইতিহাসের লড়াই
ন্যান্সি পেলোসি সতর্ক করে বলেছেন, ইতিহাস নতুন করে লেখার এই চেষ্টা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। তাঁর মতে, সংবিধানের ওপর হামলাকে হালকা করে দেখানো এবং হামলাকারীদের মহিমান্বিত করা যুক্তরাষ্ট্রের আইনের শাসনকে দুর্বল করে দেবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















