এনসিপিকে ১০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির তাহের। বুধবার সকালে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তাহের জানান, এনসিপিকে আসন ছাড়ার বিষয়ে যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বা আলোচনা হয়নি এবং বিষয়টি পুরোপুরি গুজব।
প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে প্রশ্ন
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা জানতে চান, বিভিন্ন দল ও জোটের সমর্থন থাকলে ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন—এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত কীভাবে হবে। উত্তরে তাহের বলেন, যদি তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেন, তবে নেতৃত্ব নির্ধারণে কোনো জটিলতা হবে না। তখন পরিস্থিতি ও বাস্তবতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা ও সতর্কবার্তা
সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, অতীতের মতো যদি আবারও পাতানো নির্বাচন হয়, তাহলে তার পরিণতি ভালো হবে না। এমন নির্বাচন দেশকে আরও সংকটের দিকে ঠেলে দেবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ইউরোপীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক
এর আগে একই দিন সকালে বসুন্ধরায় জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক পাওলা পাম্পালোনির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বৈঠক করেন। বৈঠকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কয়েকজন কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনসহ নানা রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
রাজনৈতিক সংকটের কারণ হিসেবে নির্বাচন
বৈঠক শেষে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে এসে জামায়াত নেতারা আলোচনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। নায়েবে আমির তাহের বলেন, অতীতে দেশে যেসব রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তার মূল কারণ ছিল সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অভাব। তিনি আবারও বলেন, ভবিষ্যতে যদি কোনো সাজানো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে দেশ গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটে পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















