ড্রাফট প্রযুক্তি, বাজারে আগাম ঢেউ
সিইএস ২০২৬-এ ওয়াই-ফাই ৮–এর রাউটার ও চিপের খবর দেখা যাচ্ছে, যখন অনেক ব্যবহারকারী এখনও ওয়াই-ফাই ৬ই বা ওয়াই-ফাই ৭–এ আপগ্রেড করা শুরুই করেননি। নেটওয়ার্কিং শিল্পে এটা নতুন নয়—স্ট্যান্ডার্ড চূড়ান্ত হওয়ার অনেক আগেই ব্র্যান্ডগুলো প্রিভিউ দেখায়, কনসেপ্ট ডিভাইস হাজির করে, আর “পরের প্রজন্ম”–এর ভাষা চালু করে দেয়। ফলে সাধারণ ক্রেতার কাছে মনে হয়, এক ধাপ এগোতেই আরেক ধাপ সামনে চলে এসেছে।
দ্য ভার্জ জানায়, ওয়াই-ফাই ৮–কে এবার গতির প্রতিযোগিতার চেয়ে বেশি “স্ট্যাবিলিটি” বা স্থিতিশীলতার আপগ্রেড হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। মানে বাস্তবে যেটা মানুষ টের পায়—কলে হঠাৎ কেটে যাওয়া, স্ট্রিমিংয়ে বাফার, গেমে ল্যাগ—সেগুলো কমানোর লক্ষ্য। ঘরের ভেতর ডিভাইস নড়াচড়া করলে, একসঙ্গে অনেক গ্যাজেট যুক্ত থাকলে, বা দূরের রুমে গেলে সংযোগ যেন কম “ড্রপ” করে—এই ধরনের বাস্তব পরিস্থিতির উন্নতি এখানে মূল দাবি।
সিইএসে আলোচনায় ছিল আসুসের একটি কনসেপ্ট রাউটার, আরওজি নিওকোর। ডিজাইনটি প্রদর্শনীর আকর্ষণ বাড়ালেও বার্তাটা হলো—ওয়াই-ফাই ৮–এ ল্যাটেন্সি কমিয়ে থ্রুপুট বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু ‘টপ স্পিড’–এর বড় বড় সংখ্যা দেখিয়ে নয়। অনেক ব্যবহারকারীর কাছে এটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ সর্বোচ্চ গতি কাগজে ভালো লাগে, কিন্তু দৈনন্দিন ব্যবহারে দরকার স্থির পারফরম্যান্স।
চিপ নির্মাতাদের দিক থেকেও আগাম প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে। ব্রডকম ও মিডিয়াটেক সিইএস সপ্তাহে ওয়াই-ফাই ৮–এর হার্ডওয়্যার ঘোষণা দিয়েছে। রাউটার স্ট্যান্ডার্ড ছড়ায় তখনই, যখন চিপ সাপ্লাই তৈরি হয়, দাম কমে, আর ফোন–ল্যাপটপ–স্মার্টহোম—সব জায়গায় ইকোসিস্টেমে তা ঢুকে যায়। এখানে একটি রাউটার নয়, পুরো ইকোসিস্টেমটাই আসল।
আগাম ওয়াই-ফাই ৮ কেন বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে
সবচেয়ে বড় শর্তটা হলো—ওয়াই-ফাই ৮–এর আইইইই স্ট্যান্ডার্ড এখনও চূড়ান্ত নয়। বিভিন্ন টাইমলাইন ইঙ্গিত দেয়, আনুষ্ঠানিক র্যাটিফিকেশন পেতে আরও কয়েক বছর লাগতে পারে। তার মানে এখন যে হার্ডওয়্যার দেখা যাচ্ছে, তা ড্রাফট স্পেসিফিকেশন ধরে তৈরি হবে। ড্রাফট ডিভাইস মানেই খারাপ নয়, তবে অনিশ্চয়তা থাকে। ফাইনাল স্পেকে পরিবর্তন এলে ফার্মওয়্যার আপডেট দরকার হতে পারে, আর কিছু ফিচার শেষ পর্যন্ত সার্টিফিকেশনের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে নাও যেতে পারে।
এই জটিলতা ক্রেতার কাছে এসে দাঁড়ায় এক সহজ প্রশ্নে—এখন আপগ্রেড করব, নাকি অপেক্ষা করব? ওয়াই-ফাই ৭–এর পণ্যগুলোও এখন ধীরে ধীরে বাজারে সাধারণ হচ্ছে। আবার অনেক বাসায় ওয়াই-ফাই ৬ বা ৬ই–এ আপগ্রেড করলেই বড় উন্নতি পাওয়া যায়। তাই “নতুন সংখ্যা” দেখলেই প্রয়োজন তৈরি হয় না। আপনার সমস্যা যদি দুর্বল কভারেজ, তাহলে ভালো প্লেসমেন্ট, মেশ সিস্টেম, বা শক্তিশালী ওয়াই-ফাই ৬ই রাউটার দিয়েও সমাধান হতে পারে।
শিল্পের প্রণোদনা পরিষ্কার। সিইএসে নতুনত্বের পুরস্কার থাকে, আর “ওয়াই-ফাই ৮” শব্দটাই মনোযোগ টানে। রাউটার বাজার অনেক সময় একঘেয়ে পণ্যের মতো মনে হয়, তাই নতুন স্ট্যান্ডার্ড ব্র্যান্ডকে নতুন করে প্রচার, দাম নির্ধারণ, আর “লিডারশিপ” দেখানোর সুযোগ দেয়।
এ মুহূর্তে বাস্তব পাঠ হলো—সিইএসে ওয়াই-ফাই ৮ দেখানো মানে “প্রিভিউ”, “এখনই ঘরে লাগানো দরকার” নয়। এটি ইঙ্গিত দেয় নেটওয়ার্কিং কোথায় যাচ্ছে—কাগুজে গতির চেয়ে বেশি বাস্তব স্থিতিশীলতায়। আগামী এক বছরে বোঝা যাবে, এটি সত্যিকারের পণ্যচক্রে ঢোকে কি না, নাকি ড্রাফট স্ট্যান্ডার্ডের আগাম ডেমো হিসেবেই থাকে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















