১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার: এরপর কী, কী বলছে নিয়ম পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে চুরির অভিযোগে গাছে বেঁধে নির্যাতন, দুই শিশুকে ঘিরে তোলপাড় গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের আন্দোলন স্থগিত, ঈদের আগেই দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস এপ্রিলে মব ভায়োলেন্সে ২২ নিহত, রাজনৈতিক সংঘাতে আরও ৬: এইচআরএসএস প্রতিবেদন ৩৯ কর্মকর্তার বড় রদবদল, এক দিনে বদলি ৯ ডিআইজি এক ভোটেই হার-জিত: তামিলনাড়ু ভোটে সাবেক মন্ত্রীর পরাজয়, ‘সারকার’-এর বার্তা ফের প্রমাণিত বাংলা-আসাম ফলাফল ঘিরে গণতন্ত্রে হুমকি, ঐক্যের ডাক রাহুল গান্ধীর সংসার যখন চালায় ভাগ্য, তখন অর্থনীতি কোথায় দাঁড়িয়ে? গ্রামেও ভ্যাট বসাতে চায় সরকার, টোকেন কর নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ইন্দোনেশিয়ায় ম্যালেরিয়ার রেকর্ড সংক্রমণ, জলবায়ু ও মানুষের চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি

ক্যাপিটলের অদৃশ্য ফলক ঘিরে স্মৃতি-রাজনীতি, পাঁচ বছর পরও জানুয়ারি ছয়ের লড়াই চলছেই

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলে পাঁচ বছর আগের জানুয়ারি ছয়ের সেই সহিংস দিনের স্মৃতি আজও দৃশ্যমান নয়, বরং লুকিয়ে আছে এক অদ্ভুত রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ভেতর। ক্যাপিটল রক্ষায় জীবন বাজি রাখা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সম্মানে তৈরি একটি ব্রোঞ্জ ফলক এখনও জনসমক্ষে আসেনি। অথচ এই ফলকই হয়ে উঠেছে জানুয়ারি ছয়কে কীভাবে দেখা হবে, তা নিয়ে চলমান রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের নীরব প্রতীক।

বেসমেন্টে চাপা পড়ে থাকা স্মৃতিচিহ্ন

গত মে মাসে নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য জো মোরেল হাউস অফিস ভবনের বেসমেন্টে একটি ওয়ার্কশপে ঢুকে খুঁজে পান সেই ফলক। ফ্রিজ, স্কুটার আর তাকের ভেতর রাখা একটি বাক্স খুলতেই বেরিয়ে আসে কয়েক ফুট চওড়া ব্রোঞ্জ ফলক, যেখানে খোদাই করা ক্যাপিটলের ছবি এবং বিশটির বেশি আইনশৃঙ্খলা সংস্থার নাম। মোরেলের ভাষায়, এটি ছিল ক্যাপিটল রক্ষাকারী নারী-পুরুষদের প্রতি এক সুন্দর শ্রদ্ধা। কিন্তু সেই ফলক আজও সেখানেই পড়ে আছে, জনচক্ষুর আড়ালে।

আইন থাকলেও অনুমতি নেই

২০২২ সালে দ্বিদলীয় সমর্থনে পাস হওয়া একটি সরকারি অর্থায়ন আইনে এই ফলক স্থায়ীভাবে ক্যাপিটলের পশ্চিম প্রাঙ্গণে বসানোর নির্দেশ ছিল। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ক্যাপিটলের স্থপতিকে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। কারণ হিসেবে উঠে এসেছে রিপাবলিকান নেতৃত্বের আপত্তি। ক্যাপিটলের স্থপতি কংগ্রেসে সাক্ষ্যে জানিয়েছেন, ফলক বসাতে স্পিকারের সম্মতি প্রয়োজন। বর্তমান স্পিকার মাইক জনসন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত, যিনি ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করতেও ভূমিকা রেখেছিলেন।

স্মৃতি বনাম ব্যাখ্যার রাজনীতি

ডেমোক্র্যাটদের দাবি, ক্যাপিটলে হামলা ও পুলিশের সঙ্গে দাঙ্গাকারীদের সংঘর্ষ কখনও ভুলে যাওয়ার নয়। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প ও তাঁর মিত্ররা সেই সহিংস ইতিহাসকে হালকা করে দেখাতে চাইছেন। বিপরীতে রিপাবলিকানদের একাংশ মনে করে, ডেমোক্র্যাটদের বর্ণনা অতিরঞ্জিত। এই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ফলকটিকে আটকে রেখেছে।

ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্পের বার্তা

ক্ষমতায় ফিরে প্রথম দিনেই ট্রাম্প জানুয়ারি ছয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত দেড় হাজারের বেশি মানুষকে ক্ষমা করে দেন। তিনি এখনও ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয় মানতে নারাজ। ফলে রিপাবলিকানদের বড় অংশ জানুয়ারি ছয় স্মরণ করতেও অনাগ্রহী। চলতি বছরের বার্ষিকীতেও হাউস রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ছিল না। বরং তারা ট্রাম্পের সঙ্গে নীতিনির্ধারণী আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন।

প্রতিরূপে প্রতিবাদ

মূল ফলক বসানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ দেখে শতাধিক ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য নিজেদের অফিসের বাইরে ফলকের প্রতিরূপ টাঙিয়েছেন। সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিসের অফিসের সামনেও এমন একটি ফলক আছে, যা সংবাদ সম্মেলনের সময় স্পিকার জনসন ও অতিথিদের চোখে পড়ে। মোরেলের মতে, আইন মানতে অনীহার কারণেই আজ ফলকটি আরও বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে, যদিও তা প্রতিরূপ।

মামলা আর আইনি জটিলতা

জানুয়ারি ছয়ের ঘটনায় দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে লড়াই করা দুই কর্মকর্তা ফলক না বসানোর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাদের দাবি, ফলক না থাকায় তাঁদের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তবে বিচার বিভাগ বলছে, ফলকে সব নাম না থাকায় এটি অসম্পূর্ণ। প্রসিকিউটরদের যুক্তি, ফলক বসালেই কর্মকর্তারা যে হুমকি পাচ্ছেন তা বন্ধ হবে, এমন দাবি বাস্তবসম্মত নয়।

রক্তক্ষয়ী দিনের স্মৃতি

সেদিন ক্যাপিটল রক্ষায় প্রায় একশ চল্লিশ জন কর্মকর্তা আহত হন। এক কর্মকর্তা পরদিন স্ট্রোকে মারা যান। পরে আত্মহত্যায় প্রাণ হারান আরও চারজন, যাদের মৃত্যু দায়িত্বপালনের অংশ হিসেবে স্বীকৃত। অন্যদিকে চারজন ট্রাম্প সমর্থকও প্রাণ হারান। এই রক্তক্ষয়ী বাস্তবতাই ডেমোক্র্যাটদের মতে ইতিহাসের অংশ, যা চাপা দেওয়া যায় না।

ভবিষ্যতের আশায় ডেমোক্র্যাটরা

হাউস প্রশাসন কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট মোরেল মনে করেন, ফলক আটকে রাখা আসলে ট্রাম্পের সঙ্গে তাল মেলানোর চেষ্টা। তাঁর আশা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাউসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি ছয় তারিখেই ফলকটি স্থায়ীভাবে বসানো যাবে। তাঁর মতে, সেটাই হবে ইতিহাসের প্রতি প্রকৃত সম্মান।

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার: এরপর কী, কী বলছে নিয়ম

ক্যাপিটলের অদৃশ্য ফলক ঘিরে স্মৃতি-রাজনীতি, পাঁচ বছর পরও জানুয়ারি ছয়ের লড়াই চলছেই

০৮:০৬:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলে পাঁচ বছর আগের জানুয়ারি ছয়ের সেই সহিংস দিনের স্মৃতি আজও দৃশ্যমান নয়, বরং লুকিয়ে আছে এক অদ্ভুত রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ভেতর। ক্যাপিটল রক্ষায় জীবন বাজি রাখা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সম্মানে তৈরি একটি ব্রোঞ্জ ফলক এখনও জনসমক্ষে আসেনি। অথচ এই ফলকই হয়ে উঠেছে জানুয়ারি ছয়কে কীভাবে দেখা হবে, তা নিয়ে চলমান রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের নীরব প্রতীক।

বেসমেন্টে চাপা পড়ে থাকা স্মৃতিচিহ্ন

গত মে মাসে নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য জো মোরেল হাউস অফিস ভবনের বেসমেন্টে একটি ওয়ার্কশপে ঢুকে খুঁজে পান সেই ফলক। ফ্রিজ, স্কুটার আর তাকের ভেতর রাখা একটি বাক্স খুলতেই বেরিয়ে আসে কয়েক ফুট চওড়া ব্রোঞ্জ ফলক, যেখানে খোদাই করা ক্যাপিটলের ছবি এবং বিশটির বেশি আইনশৃঙ্খলা সংস্থার নাম। মোরেলের ভাষায়, এটি ছিল ক্যাপিটল রক্ষাকারী নারী-পুরুষদের প্রতি এক সুন্দর শ্রদ্ধা। কিন্তু সেই ফলক আজও সেখানেই পড়ে আছে, জনচক্ষুর আড়ালে।

আইন থাকলেও অনুমতি নেই

২০২২ সালে দ্বিদলীয় সমর্থনে পাস হওয়া একটি সরকারি অর্থায়ন আইনে এই ফলক স্থায়ীভাবে ক্যাপিটলের পশ্চিম প্রাঙ্গণে বসানোর নির্দেশ ছিল। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ক্যাপিটলের স্থপতিকে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। কারণ হিসেবে উঠে এসেছে রিপাবলিকান নেতৃত্বের আপত্তি। ক্যাপিটলের স্থপতি কংগ্রেসে সাক্ষ্যে জানিয়েছেন, ফলক বসাতে স্পিকারের সম্মতি প্রয়োজন। বর্তমান স্পিকার মাইক জনসন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত, যিনি ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করতেও ভূমিকা রেখেছিলেন।

স্মৃতি বনাম ব্যাখ্যার রাজনীতি

ডেমোক্র্যাটদের দাবি, ক্যাপিটলে হামলা ও পুলিশের সঙ্গে দাঙ্গাকারীদের সংঘর্ষ কখনও ভুলে যাওয়ার নয়। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প ও তাঁর মিত্ররা সেই সহিংস ইতিহাসকে হালকা করে দেখাতে চাইছেন। বিপরীতে রিপাবলিকানদের একাংশ মনে করে, ডেমোক্র্যাটদের বর্ণনা অতিরঞ্জিত। এই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ফলকটিকে আটকে রেখেছে।

ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্পের বার্তা

ক্ষমতায় ফিরে প্রথম দিনেই ট্রাম্প জানুয়ারি ছয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত দেড় হাজারের বেশি মানুষকে ক্ষমা করে দেন। তিনি এখনও ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয় মানতে নারাজ। ফলে রিপাবলিকানদের বড় অংশ জানুয়ারি ছয় স্মরণ করতেও অনাগ্রহী। চলতি বছরের বার্ষিকীতেও হাউস রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ছিল না। বরং তারা ট্রাম্পের সঙ্গে নীতিনির্ধারণী আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন।

প্রতিরূপে প্রতিবাদ

মূল ফলক বসানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ দেখে শতাধিক ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য নিজেদের অফিসের বাইরে ফলকের প্রতিরূপ টাঙিয়েছেন। সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিসের অফিসের সামনেও এমন একটি ফলক আছে, যা সংবাদ সম্মেলনের সময় স্পিকার জনসন ও অতিথিদের চোখে পড়ে। মোরেলের মতে, আইন মানতে অনীহার কারণেই আজ ফলকটি আরও বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে, যদিও তা প্রতিরূপ।

মামলা আর আইনি জটিলতা

জানুয়ারি ছয়ের ঘটনায় দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে লড়াই করা দুই কর্মকর্তা ফলক না বসানোর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাদের দাবি, ফলক না থাকায় তাঁদের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তবে বিচার বিভাগ বলছে, ফলকে সব নাম না থাকায় এটি অসম্পূর্ণ। প্রসিকিউটরদের যুক্তি, ফলক বসালেই কর্মকর্তারা যে হুমকি পাচ্ছেন তা বন্ধ হবে, এমন দাবি বাস্তবসম্মত নয়।

রক্তক্ষয়ী দিনের স্মৃতি

সেদিন ক্যাপিটল রক্ষায় প্রায় একশ চল্লিশ জন কর্মকর্তা আহত হন। এক কর্মকর্তা পরদিন স্ট্রোকে মারা যান। পরে আত্মহত্যায় প্রাণ হারান আরও চারজন, যাদের মৃত্যু দায়িত্বপালনের অংশ হিসেবে স্বীকৃত। অন্যদিকে চারজন ট্রাম্প সমর্থকও প্রাণ হারান। এই রক্তক্ষয়ী বাস্তবতাই ডেমোক্র্যাটদের মতে ইতিহাসের অংশ, যা চাপা দেওয়া যায় না।

ভবিষ্যতের আশায় ডেমোক্র্যাটরা

হাউস প্রশাসন কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট মোরেল মনে করেন, ফলক আটকে রাখা আসলে ট্রাম্পের সঙ্গে তাল মেলানোর চেষ্টা। তাঁর আশা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাউসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি ছয় তারিখেই ফলকটি স্থায়ীভাবে বসানো যাবে। তাঁর মতে, সেটাই হবে ইতিহাসের প্রতি প্রকৃত সম্মান।