১০:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬
গৌর নদী: বরিশালের শিরা-উপশিরায় ভর করে থাকা এক জীবন্ত স্মৃতি আমার মতো আর কারও না হোক আকুর বিল পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৩২.৪৩ বিলিয়ন ডলার জ্যোতির নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দল ঘোষণা প্রবাসী আয়ে গতি আনতে নতুন নির্দেশনা, একই দিনে গ্রাহকের হিসাবে টাকা জমার আদেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের ভালুকায় তরুণ হত্যাকাণ্ডে আরও এক অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, ঢাকায় লুকিয়ে ছিল মূল উসকানিদাতা উত্তরে তারেকের সফর নির্বাচনী আচরণবিধি ভাঙছে না: সালাহউদ্দিন আজিজুর রহমান মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নির্বাচন ব্যাহত হবে না: সালাহউদ্দিন আহমদ ভেনেজুয়েলার তেলে চীনের ছায়া, যুক্তরাষ্ট্রের কড়া বার্তা লেনদেন কমলেও সূচকে সবুজ, সপ্তাহ শেষে উর্ধ্বমুখী দেশের পুঁজিবাজার

পাকিস্তানের পাঞ্জাবে আবর্জনাই সম্পদ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন দিগন্ত

পাকিস্তানের সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ পাঞ্জাবে গৃহস্থালি আবর্জনা এখন আর শুধু বর্জ্য নয়, বরং অর্থনীতি ও জ্বালানির সম্ভাবনাময় সম্পদ। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ঘরোয়া বর্জ্য সংগ্রহ করে সেই আবর্জনা থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে এগোচ্ছে প্রদেশটি। লক্ষ্য একদিকে পরিবেশ রক্ষা, অন্যদিকে টেকসই জ্বালানি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

পরিচ্ছন্নতার বিস্তৃত উদ্যোগ
পাঞ্জাবে প্রায় তেরো কোটি মানুষের বসবাস। গ্রাম ও শহর মিলিয়ে বিস্তৃত এই অঞ্চলের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার বাইরে ছিল। সেই বাস্তবতায় গত বছর প্রাদেশিক সরকার নতুন একটি পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চালু করে। সুত্রা পাঞ্জাব কর্তৃপক্ষের অধীনে এই ব্যবস্থায় এখন প্রতিদিন প্রায় পঞ্চাশ হাজার মেট্রিক টন গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি আকার ও বিস্তৃতির দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম বড় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ।

Image

ডিজিটাল নজরদারি ও কর্মসংস্থান
এই ব্যবস্থায় দরজায় দরজায় আবর্জনা সংগ্রহ করা হয়। শহরের ভেতরে অস্থায়ী স্থানে বর্জ্য রাখা হয় এবং পরে তা ল্যান্ডফিল এলাকায় পাঠানো হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটালভাবে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। লাহোরের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বর্জ্য সংগ্রহের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায়। এই উদ্যোগে এক লক্ষের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং হাজার হাজার যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি এনেছে।

অর্থনীতি ও ফি কাঠামো
গত বছর সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করে কোটি কোটি টন বর্জ্য সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থাকে স্বনির্ভর করতে গৃহস্থালি পর্যায়ে সামান্য ফি চালু করা হয়েছে। বাড়ির আকার ও অবস্থান অনুযায়ী এই ফি নির্ধারিত হচ্ছে। লক্ষ্য হচ্ছে, এই ফি থেকেই ভবিষ্যতে পুরো ব্যবস্থার ব্যয় নির্বাহ করা।

Image

বিদ্যুৎ উৎপাদনে আবর্জনা
পাঞ্জাব সরকার এখন বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় প্রকল্পে এগোচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিদিন কয়েক হাজার টন মিশ্র বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে, যা নগরের বিপুল সংখ্যক পরিবারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। এই বিদ্যুৎ সরকারি দপ্তর, শিল্প এলাকা, আবাসন প্রকল্প ও নগর পরিবহন ব্যবস্থায় সরবরাহের কথা ভাবা হচ্ছে।

বিদেশি বিনিয়োগের আগ্রহ
এই প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে চীন ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কর্তৃপক্ষের আশা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে আরও আন্তর্জাতিক অংশীদার যুক্ত হবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি একটি টেকসই সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের মডেল হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

Image

গ্রাম থেকে শহরে প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় শহরের পাশাপাশি ছোট শহর ও গ্রামগুলোই এই কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সুফল পাচ্ছে। যেখানে আগে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছিল না, সেখানে এখন নিয়মিত সংগ্রহ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত হচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমছে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌর নদী: বরিশালের শিরা-উপশিরায় ভর করে থাকা এক জীবন্ত স্মৃতি

পাকিস্তানের পাঞ্জাবে আবর্জনাই সম্পদ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন দিগন্ত

০৮:১৭:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

পাকিস্তানের সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ পাঞ্জাবে গৃহস্থালি আবর্জনা এখন আর শুধু বর্জ্য নয়, বরং অর্থনীতি ও জ্বালানির সম্ভাবনাময় সম্পদ। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ঘরোয়া বর্জ্য সংগ্রহ করে সেই আবর্জনা থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে এগোচ্ছে প্রদেশটি। লক্ষ্য একদিকে পরিবেশ রক্ষা, অন্যদিকে টেকসই জ্বালানি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

পরিচ্ছন্নতার বিস্তৃত উদ্যোগ
পাঞ্জাবে প্রায় তেরো কোটি মানুষের বসবাস। গ্রাম ও শহর মিলিয়ে বিস্তৃত এই অঞ্চলের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার বাইরে ছিল। সেই বাস্তবতায় গত বছর প্রাদেশিক সরকার নতুন একটি পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চালু করে। সুত্রা পাঞ্জাব কর্তৃপক্ষের অধীনে এই ব্যবস্থায় এখন প্রতিদিন প্রায় পঞ্চাশ হাজার মেট্রিক টন গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি আকার ও বিস্তৃতির দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম বড় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ।

Image

ডিজিটাল নজরদারি ও কর্মসংস্থান
এই ব্যবস্থায় দরজায় দরজায় আবর্জনা সংগ্রহ করা হয়। শহরের ভেতরে অস্থায়ী স্থানে বর্জ্য রাখা হয় এবং পরে তা ল্যান্ডফিল এলাকায় পাঠানো হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটালভাবে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। লাহোরের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বর্জ্য সংগ্রহের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায়। এই উদ্যোগে এক লক্ষের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং হাজার হাজার যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি এনেছে।

অর্থনীতি ও ফি কাঠামো
গত বছর সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করে কোটি কোটি টন বর্জ্য সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থাকে স্বনির্ভর করতে গৃহস্থালি পর্যায়ে সামান্য ফি চালু করা হয়েছে। বাড়ির আকার ও অবস্থান অনুযায়ী এই ফি নির্ধারিত হচ্ছে। লক্ষ্য হচ্ছে, এই ফি থেকেই ভবিষ্যতে পুরো ব্যবস্থার ব্যয় নির্বাহ করা।

Image

বিদ্যুৎ উৎপাদনে আবর্জনা
পাঞ্জাব সরকার এখন বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় প্রকল্পে এগোচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিদিন কয়েক হাজার টন মিশ্র বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে, যা নগরের বিপুল সংখ্যক পরিবারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। এই বিদ্যুৎ সরকারি দপ্তর, শিল্প এলাকা, আবাসন প্রকল্প ও নগর পরিবহন ব্যবস্থায় সরবরাহের কথা ভাবা হচ্ছে।

বিদেশি বিনিয়োগের আগ্রহ
এই প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে চীন ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কর্তৃপক্ষের আশা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে আরও আন্তর্জাতিক অংশীদার যুক্ত হবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি একটি টেকসই সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের মডেল হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

Image

গ্রাম থেকে শহরে প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় শহরের পাশাপাশি ছোট শহর ও গ্রামগুলোই এই কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সুফল পাচ্ছে। যেখানে আগে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছিল না, সেখানে এখন নিয়মিত সংগ্রহ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত হচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমছে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে।