১২:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬
ইউনিক্লোর ঝলমলে বিক্রি, লাভের পূর্বাভাস বাড়াল ফাস্ট রিটেইলিং ঋণের বদলে যুদ্ধবিমান: সৌদি অর্থ সহায়তা রূপ নিতে পারে জেএফ–সতেরো চুক্তিতে গৌর নদী: বরিশালের শিরা-উপশিরায় ভর করে থাকা এক জীবন্ত স্মৃতি আমার মতো আর কারও না হোক আকুর বিল পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৩২.৪৩ বিলিয়ন ডলার জ্যোতির নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দল ঘোষণা প্রবাসী আয়ে গতি আনতে নতুন নির্দেশনা, একই দিনে গ্রাহকের হিসাবে টাকা জমার আদেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের ভালুকায় তরুণ হত্যাকাণ্ডে আরও এক অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, ঢাকায় লুকিয়ে ছিল মূল উসকানিদাতা উত্তরে তারেকের সফর নির্বাচনী আচরণবিধি ভাঙছে না: সালাহউদ্দিন আজিজুর রহমান মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নির্বাচন ব্যাহত হবে না: সালাহউদ্দিন আহমদ

গ্রিনল্যান্ড কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, কেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজরে বরফে ঢাকা দ্বীপ

গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে বিশ্ব রাজনীতির টানাপোড়েন নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই বিশাল বরফাচ্ছন্ন দ্বীপ আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর আগ্রহ গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে। প্রশ্ন উঠছে, কেন বারবার গ্রিনল্যান্ড দখলের কথা বলছেন তিনি, আর কেন এই ভূখণ্ড এখন বৈশ্বিক শক্তির সংঘর্ষস্থল হয়ে উঠছে।

কেন গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ
ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আগ্রহ প্রথম স্পষ্ট হয় তাঁর প্রথম মেয়াদে। তখন তিনি দ্বীপটি কেনার সম্ভাবনাকে বড় ধরনের জমিজমা লেনদেন হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। সময়ের সঙ্গে সেই যুক্তির রূপ বদলেছে। সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি কখনো অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, কখনো আবার জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি সামনে এনেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মাঝামাঝি কৌশলগত অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ড সামরিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু সংকটের ফলে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলতে থাকায় এই দ্বীপ এখন প্রতিরক্ষা ও প্রভাব বিস্তারের নতুন ময়দান হয়ে উঠছে।

Image

খনিজ সম্পদ ও চীনের প্রভাব ঠেকানোর হিসাব
গ্রিনল্যান্ডে রয়েছে তেল ও গ্যাসের সম্ভাবনা, পাশাপাশি সবুজ প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় নানা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। তামা, লিথিয়াম, কোবাল্ট ও নিকেলের মতো সম্পদের প্রতি বিশ্ব শক্তিগুলোর নজর রয়েছে। বিশেষ করে চীনের আধিপত্যে থাকা বিরল খনিজ বাজার থেকে নিজেদের নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রিনল্যান্ড কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে। এই দ্বীপে প্রভাব বাড়াতে পারলে চীনের প্রবেশ ঠেকানো সহজ হবে বলেই ধারণা ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের।

বরফ গলার সঙ্গে বদলে যাচ্ছে পথ ও মানচিত্র
গ্রিনল্যান্ডের বিশাল বরফচাদর ও হিমবাহ দ্রুত গলছে। এর ফলে নতুন নৌপথ খুলে যাচ্ছে, যা ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ার মধ্যে যাত্রাপথ অনেক কমিয়ে দিতে পারে। সুয়েজ খালের বিকল্প হিসেবে আর্কটিক পথের গুরুত্ব বাড়ছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে চীন ও রাশিয়া ইতিমধ্যে যৌথভাবে নতুন নৌপথ উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে গ্রিনল্যান্ড কেবল সম্পদের জন্য নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্যের মানচিত্র বদলের কেন্দ্রবিন্দুতেও পরিণত হচ্ছে।

সামরিক ঘাঁটি ও নিরাপত্তার বাস্তবতা
গ্রিনল্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। শীতল যুদ্ধের সময় থেকে পিটুফিক অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি সক্রিয়, যা ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উপস্থিতি দ্বীপটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে এবং ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

ডেনমার্কের সঙ্গে সম্পর্ক ও অতীতের ক্ষত
গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে Denmark-এর সম্পর্ক দীর্ঘ ইতিহাসে গড়া। আদিবাসী ইনুইট জনগোষ্ঠী হাজার হাজার বছর ধরে এখানে বসবাস করছে। আধুনিক উপনিবেশ শুরু হয় আঠারো শতকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান দখলের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং যুদ্ধ শেষে তা ডেনমার্ককে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে স্বশাসন এলেও পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিতে ডেনমার্কের কর্তৃত্ব রয়ে গেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সম্পর্ক বেশ উত্তপ্ত। ষাট ও সত্তরের দশকে জোরপূর্বক জন্মনিয়ন্ত্রণ কেলেঙ্কারি নিয়ে ক্ষোভ জমেছে গ্রিনল্যান্ডে। বহু নারী ও কিশোরীর সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের জন্য ডেনমার্ক আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে এবং ক্ষতিপূরণের পথ খুলেছে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের শিশুদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করার ঘটনাও তীব্র প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে।

স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
এই প্রেক্ষাপটে গ্রিনল্যান্ডে স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন বাড়ছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর জাতীয় ঐক্যের বার্তা দিয়ে নতুন জোট সরকার গঠিত হয়েছে। চুক্তির প্রথম পাতাতেই স্পষ্ট ঘোষণা, গ্রিনল্যান্ড আমাদের। তবে ডেনমার্কের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী স্বাধীনতা পেতে হলে গণভোটে জয়ী হওয়াই চূড়ান্ত শর্ত। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি ও আন্তর্জাতিক আগ্রহ এই প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউনিক্লোর ঝলমলে বিক্রি, লাভের পূর্বাভাস বাড়াল ফাস্ট রিটেইলিং

গ্রিনল্যান্ড কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, কেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজরে বরফে ঢাকা দ্বীপ

০৮:৪৩:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে বিশ্ব রাজনীতির টানাপোড়েন নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই বিশাল বরফাচ্ছন্ন দ্বীপ আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর আগ্রহ গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে। প্রশ্ন উঠছে, কেন বারবার গ্রিনল্যান্ড দখলের কথা বলছেন তিনি, আর কেন এই ভূখণ্ড এখন বৈশ্বিক শক্তির সংঘর্ষস্থল হয়ে উঠছে।

কেন গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ
ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আগ্রহ প্রথম স্পষ্ট হয় তাঁর প্রথম মেয়াদে। তখন তিনি দ্বীপটি কেনার সম্ভাবনাকে বড় ধরনের জমিজমা লেনদেন হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। সময়ের সঙ্গে সেই যুক্তির রূপ বদলেছে। সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি কখনো অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, কখনো আবার জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি সামনে এনেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মাঝামাঝি কৌশলগত অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ড সামরিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু সংকটের ফলে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলতে থাকায় এই দ্বীপ এখন প্রতিরক্ষা ও প্রভাব বিস্তারের নতুন ময়দান হয়ে উঠছে।

Image

খনিজ সম্পদ ও চীনের প্রভাব ঠেকানোর হিসাব
গ্রিনল্যান্ডে রয়েছে তেল ও গ্যাসের সম্ভাবনা, পাশাপাশি সবুজ প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় নানা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। তামা, লিথিয়াম, কোবাল্ট ও নিকেলের মতো সম্পদের প্রতি বিশ্ব শক্তিগুলোর নজর রয়েছে। বিশেষ করে চীনের আধিপত্যে থাকা বিরল খনিজ বাজার থেকে নিজেদের নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রিনল্যান্ড কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে। এই দ্বীপে প্রভাব বাড়াতে পারলে চীনের প্রবেশ ঠেকানো সহজ হবে বলেই ধারণা ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের।

বরফ গলার সঙ্গে বদলে যাচ্ছে পথ ও মানচিত্র
গ্রিনল্যান্ডের বিশাল বরফচাদর ও হিমবাহ দ্রুত গলছে। এর ফলে নতুন নৌপথ খুলে যাচ্ছে, যা ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ার মধ্যে যাত্রাপথ অনেক কমিয়ে দিতে পারে। সুয়েজ খালের বিকল্প হিসেবে আর্কটিক পথের গুরুত্ব বাড়ছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে চীন ও রাশিয়া ইতিমধ্যে যৌথভাবে নতুন নৌপথ উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে গ্রিনল্যান্ড কেবল সম্পদের জন্য নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্যের মানচিত্র বদলের কেন্দ্রবিন্দুতেও পরিণত হচ্ছে।

সামরিক ঘাঁটি ও নিরাপত্তার বাস্তবতা
গ্রিনল্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। শীতল যুদ্ধের সময় থেকে পিটুফিক অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি সক্রিয়, যা ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উপস্থিতি দ্বীপটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে এবং ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

ডেনমার্কের সঙ্গে সম্পর্ক ও অতীতের ক্ষত
গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে Denmark-এর সম্পর্ক দীর্ঘ ইতিহাসে গড়া। আদিবাসী ইনুইট জনগোষ্ঠী হাজার হাজার বছর ধরে এখানে বসবাস করছে। আধুনিক উপনিবেশ শুরু হয় আঠারো শতকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান দখলের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং যুদ্ধ শেষে তা ডেনমার্ককে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে স্বশাসন এলেও পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিতে ডেনমার্কের কর্তৃত্ব রয়ে গেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সম্পর্ক বেশ উত্তপ্ত। ষাট ও সত্তরের দশকে জোরপূর্বক জন্মনিয়ন্ত্রণ কেলেঙ্কারি নিয়ে ক্ষোভ জমেছে গ্রিনল্যান্ডে। বহু নারী ও কিশোরীর সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের জন্য ডেনমার্ক আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে এবং ক্ষতিপূরণের পথ খুলেছে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের শিশুদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করার ঘটনাও তীব্র প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে।

স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
এই প্রেক্ষাপটে গ্রিনল্যান্ডে স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন বাড়ছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর জাতীয় ঐক্যের বার্তা দিয়ে নতুন জোট সরকার গঠিত হয়েছে। চুক্তির প্রথম পাতাতেই স্পষ্ট ঘোষণা, গ্রিনল্যান্ড আমাদের। তবে ডেনমার্কের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী স্বাধীনতা পেতে হলে গণভোটে জয়ী হওয়াই চূড়ান্ত শর্ত। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি ও আন্তর্জাতিক আগ্রহ এই প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।