০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬
হংকংয়ে ইতিহাস গড়ল চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা, তালিকাভুক্তিতেই উঠল বিপুল অর্থ এআই চাহিদার জোয়ারে স্যামসাংয়ের লাভে উল্লম্ফন, এক ত্রৈমাসিকে তিন গুণ সৌদি আরবের শিংওয়ালা মরু সাপ গ্রিনল্যান্ড ঘিরে নতুন কৌশল, বরফ গলার পথে চীনের ছায়া ঠেকাতে ট্রাম্পের তৎপরতা কেরালার কারিগরদের হাতে ফিরল প্রাচীন নৌযানের গৌরব, সমুদ্রে পাড়ি দিল কৌণ্ডিন্য ইউনিক্লোর ঝলমলে বিক্রি, লাভের পূর্বাভাস বাড়াল ফাস্ট রিটেইলিং ঋণের বদলে যুদ্ধবিমান: সৌদি অর্থ সহায়তা রূপ নিতে পারে জেএফ–সতেরো চুক্তিতে গৌর নদী: বরিশালের শিরা-উপশিরায় ভর করে থাকা এক জীবন্ত স্মৃতি আমার মতো আর কারও না হোক আকুর বিল পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৩২.৪৩ বিলিয়ন ডলার

সিইএস ২০২৬: ‘এআই’ দিয়ে নতুন গ্যাজেট চক্রের ইঙ্গিত

লাস ভেগাসের শো-ফ্লোরে কী বার্তা দিচ্ছে ব্র্যান্ডগুলো
ঘোষণার বাইরেও কেন প্ল্যাটফর্ম যুদ্ধটাই মূল বিষয়
লাস ভেগাসে শুরু হওয়া সিইএস ২০২৬–এর লাইভ আপডেটগুলো দেখাচ্ছে, এ বছর ‘এআই’কে শুধু একটি ফিচার নয়, বরং নতুন পণ্যের কেন্দ্রীয় ধারণা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। টিভি, ল্যাপটপ, স্মার্ট হোম ডিভাইস—সবখানেই একই ভাষা: এআই থাকলে আপগ্রেড অর্থবহ, না থাকলে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি। ফলে সিইএস–এ একটি ‘একক’ বিপ্লবী ডিভাইসের চেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে ধারাবাহিক ছোট পরিবর্তনের ঢেউ, যা মিলিয়ে বাজারকে পরের পণ্যচক্রে ঠেলে দেয়।
এই লাইভ কভারেজে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট—গ্যাজেটের প্রদর্শনী ধীরে ধীরে প্ল্যাটফর্মের প্রতিযোগিতায় পরিণত হচ্ছে। কোন কোম্পানি সফটওয়্যার স্তর নিয়ন্ত্রণ করবে, কোনটি ডেটা স্তর, আর কোনটি পরিষেবা স্তর—এই তিন স্তরের দখলই এখন বড় লক্ষ্য। হার্ডওয়্যার যেন প্রবেশদ্বার, আর দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব ও ব্যবহারকারীর ‘লয়্যালটি’ তৈরি হবে ইকোসিস্টেমে আটকে রেখে।
সিইএস বাজারের আত্মবিশ্বাসেরও সূচক। প্রস্তুত পণ্য, নির্দিষ্ট ডেলিভারি টাইমলাইন, আর বড় আকারের ডেমো মানে সাপ্লাই চেইনকে বার্তা দেওয়া—এ বছর চাপ বাড়ছে, গতি বাড়াও। আবার অতিরিক্ত কনসেপ্ট বা প্রোটোটাইপের আধিক্য বাজার অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত হতে পারে। এবারের ছবি দুটোর মাঝামাঝি—কিছু পণ্য দ্রুত বাজারে যাবে, কিছু এখনো ‘ভিশন’ পর্যায়ে, যা ভোক্তা চাহিদা ও নীতিমালার অনিশ্চয়তা দুটোই প্রতিফলিত করে।
ভোক্তার দৃষ্টিতে বাস্তব প্রশ্ন হলো—এই নতুন এআই-ঢেউ কি জীবন সহজ করবে, নাকি জটিলতা বাড়াবে। অনেক ব্যবহারকারী ইতোমধ্যে বহু অ্যাপ, বহু অ্যাকাউন্ট, এবং এমন ডিভাইসে ক্লান্ত—যেগুলো পরস্পরের সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলে না। কোম্পানিগুলো বলছে, উন্নত অটোমেশন ও পার্সোনালাইজেশন ডিভাইসকে ‘সত্যিকারের সহায়ক’ করবে। সমালোচকরা সতর্ক করে বলছেন, এটি আরও বেশি ডেটা সংগ্রহকে মসৃণ ভাষায় সাজিয়ে তোলার কৌশলও হতে পারে।
লাইভ ঘোষণাগুলো থেকে ২০২৬–এর ইঙ্গিত
লাইভ আপডেটে একটি ধারাবাহিক ট্রেন্ড—অন-ডিভাইস ইন্টেলিজেন্স। অর্থাৎ সব কাজ ক্লাউডে না পাঠিয়ে ডিভাইসেই বেশি প্রসেসিং। এতে গতি বাড়তে পারে, নেটওয়ার্ক না থাকলেও নির্ভরযোগ্যতা পাওয়া যায়, এবং ‘প্রাইভেসি’ সুবিধার দাবিও করা যায়। তবে বাস্তবে অনেক পরিষেবাই যুক্ত থাকবে সাবস্ক্রিপশন ও সার্ভিসের সঙ্গে, ফলে পুরো অভিজ্ঞতা এখনো সংযুক্ত ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।
আরেকটি ট্রেন্ড হলো এনার্জি এফিসিয়েন্সি—যা এখন শুধু ইঞ্জিনিয়ারিং নয়, ব্র্যান্ডিংও। কম বিদ্যুৎ খরচ, কম তাপ, বেশি ব্যাটারি—এসব দাবিই পণ্যকে আলাদা করে। পাশাপাশি নীতিমালা ও মানদণ্ডও কড়াকড়ি হচ্ছে, তাই “পারফরম্যান্স-প্রতি-ওয়াট” ধরনের ভাষা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সিইএস কভারেজে আরও দেখা যাচ্ছে কনজ্যুমার আর প্রোডাক্টিভিটি ডিভাইসের সীমা ঝাপসা। ক্রিয়েটর, রিমোট ওয়ার্কার, গেমার—সবাইকে লক্ষ্য করে একই ডিভাইসের নানা ব্যবহার দেখানো হচ্ছে। এতে বাজার বড় হয়, কারণ একটি কেনাকেই বহু প্রয়োজনের উত্তর হিসেবে দেখানো যায়—দিনে কাজ, রাতে বিনোদন।
শেষত, ইন্টারঅপারেবিলিটি, সিকিউরিটি, আর আপডেট কমিটমেন্ট—এসবই নির্ধারণ করবে কোন পণ্য টিকবে, কোনটি দ্রুত ‘ই-ওয়েস্ট’ হবে। লাইভ আপডেট গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি প্রতিশ্রুতির মুহূর্ত ধরে রাখে—বাস্তবে পণ্য কেমন চলবে এবং কতদিন সাপোর্ট পাবে, সেটা পরে প্রমাণিত হয়। তাই সিইএস–এর খবর শুধু “কী ঘোষণা হলো” নয়, “কী টিকে থাকে”—সেটিও নজরে রাখার ইঙ্গিত দেয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

হংকংয়ে ইতিহাস গড়ল চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা, তালিকাভুক্তিতেই উঠল বিপুল অর্থ

সিইএস ২০২৬: ‘এআই’ দিয়ে নতুন গ্যাজেট চক্রের ইঙ্গিত

০৬:০০:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

লাস ভেগাসের শো-ফ্লোরে কী বার্তা দিচ্ছে ব্র্যান্ডগুলো
ঘোষণার বাইরেও কেন প্ল্যাটফর্ম যুদ্ধটাই মূল বিষয়
লাস ভেগাসে শুরু হওয়া সিইএস ২০২৬–এর লাইভ আপডেটগুলো দেখাচ্ছে, এ বছর ‘এআই’কে শুধু একটি ফিচার নয়, বরং নতুন পণ্যের কেন্দ্রীয় ধারণা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। টিভি, ল্যাপটপ, স্মার্ট হোম ডিভাইস—সবখানেই একই ভাষা: এআই থাকলে আপগ্রেড অর্থবহ, না থাকলে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি। ফলে সিইএস–এ একটি ‘একক’ বিপ্লবী ডিভাইসের চেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে ধারাবাহিক ছোট পরিবর্তনের ঢেউ, যা মিলিয়ে বাজারকে পরের পণ্যচক্রে ঠেলে দেয়।
এই লাইভ কভারেজে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট—গ্যাজেটের প্রদর্শনী ধীরে ধীরে প্ল্যাটফর্মের প্রতিযোগিতায় পরিণত হচ্ছে। কোন কোম্পানি সফটওয়্যার স্তর নিয়ন্ত্রণ করবে, কোনটি ডেটা স্তর, আর কোনটি পরিষেবা স্তর—এই তিন স্তরের দখলই এখন বড় লক্ষ্য। হার্ডওয়্যার যেন প্রবেশদ্বার, আর দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব ও ব্যবহারকারীর ‘লয়্যালটি’ তৈরি হবে ইকোসিস্টেমে আটকে রেখে।
সিইএস বাজারের আত্মবিশ্বাসেরও সূচক। প্রস্তুত পণ্য, নির্দিষ্ট ডেলিভারি টাইমলাইন, আর বড় আকারের ডেমো মানে সাপ্লাই চেইনকে বার্তা দেওয়া—এ বছর চাপ বাড়ছে, গতি বাড়াও। আবার অতিরিক্ত কনসেপ্ট বা প্রোটোটাইপের আধিক্য বাজার অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত হতে পারে। এবারের ছবি দুটোর মাঝামাঝি—কিছু পণ্য দ্রুত বাজারে যাবে, কিছু এখনো ‘ভিশন’ পর্যায়ে, যা ভোক্তা চাহিদা ও নীতিমালার অনিশ্চয়তা দুটোই প্রতিফলিত করে।
ভোক্তার দৃষ্টিতে বাস্তব প্রশ্ন হলো—এই নতুন এআই-ঢেউ কি জীবন সহজ করবে, নাকি জটিলতা বাড়াবে। অনেক ব্যবহারকারী ইতোমধ্যে বহু অ্যাপ, বহু অ্যাকাউন্ট, এবং এমন ডিভাইসে ক্লান্ত—যেগুলো পরস্পরের সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলে না। কোম্পানিগুলো বলছে, উন্নত অটোমেশন ও পার্সোনালাইজেশন ডিভাইসকে ‘সত্যিকারের সহায়ক’ করবে। সমালোচকরা সতর্ক করে বলছেন, এটি আরও বেশি ডেটা সংগ্রহকে মসৃণ ভাষায় সাজিয়ে তোলার কৌশলও হতে পারে।
লাইভ ঘোষণাগুলো থেকে ২০২৬–এর ইঙ্গিত
লাইভ আপডেটে একটি ধারাবাহিক ট্রেন্ড—অন-ডিভাইস ইন্টেলিজেন্স। অর্থাৎ সব কাজ ক্লাউডে না পাঠিয়ে ডিভাইসেই বেশি প্রসেসিং। এতে গতি বাড়তে পারে, নেটওয়ার্ক না থাকলেও নির্ভরযোগ্যতা পাওয়া যায়, এবং ‘প্রাইভেসি’ সুবিধার দাবিও করা যায়। তবে বাস্তবে অনেক পরিষেবাই যুক্ত থাকবে সাবস্ক্রিপশন ও সার্ভিসের সঙ্গে, ফলে পুরো অভিজ্ঞতা এখনো সংযুক্ত ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।
আরেকটি ট্রেন্ড হলো এনার্জি এফিসিয়েন্সি—যা এখন শুধু ইঞ্জিনিয়ারিং নয়, ব্র্যান্ডিংও। কম বিদ্যুৎ খরচ, কম তাপ, বেশি ব্যাটারি—এসব দাবিই পণ্যকে আলাদা করে। পাশাপাশি নীতিমালা ও মানদণ্ডও কড়াকড়ি হচ্ছে, তাই “পারফরম্যান্স-প্রতি-ওয়াট” ধরনের ভাষা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সিইএস কভারেজে আরও দেখা যাচ্ছে কনজ্যুমার আর প্রোডাক্টিভিটি ডিভাইসের সীমা ঝাপসা। ক্রিয়েটর, রিমোট ওয়ার্কার, গেমার—সবাইকে লক্ষ্য করে একই ডিভাইসের নানা ব্যবহার দেখানো হচ্ছে। এতে বাজার বড় হয়, কারণ একটি কেনাকেই বহু প্রয়োজনের উত্তর হিসেবে দেখানো যায়—দিনে কাজ, রাতে বিনোদন।
শেষত, ইন্টারঅপারেবিলিটি, সিকিউরিটি, আর আপডেট কমিটমেন্ট—এসবই নির্ধারণ করবে কোন পণ্য টিকবে, কোনটি দ্রুত ‘ই-ওয়েস্ট’ হবে। লাইভ আপডেট গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি প্রতিশ্রুতির মুহূর্ত ধরে রাখে—বাস্তবে পণ্য কেমন চলবে এবং কতদিন সাপোর্ট পাবে, সেটা পরে প্রমাণিত হয়। তাই সিইএস–এর খবর শুধু “কী ঘোষণা হলো” নয়, “কী টিকে থাকে”—সেটিও নজরে রাখার ইঙ্গিত দেয়।