যুক্ত আরব আমিরাতে ক্যানসার শনাক্তে আগাম পরীক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার পথে এগোচ্ছে সরকার। দেশজুড়ে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণে কাজ করছে ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য বীমার সঙ্গে প্রতিরোধমূলক পরীক্ষাকে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্য ও প্রতিরোধমন্ত্রী আহমেদ আল সাইয়েঘ। বুধবার ফেডারেল ন্যাশনাল কাউন্সিলে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ক্যানসার দ্রুত শনাক্ত হলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক চাপ কমে।
আগাম শনাক্তকরণে সাফল্যের নজির
মন্ত্রী বলেন, আবুধাবির ‘ইফহাস’ কর্মসূচি এই ক্ষেত্রে পথপ্রদর্শক উদাহরণ। আঠারো বছর বয়স থেকে নাগরিকদের জন্য এই পরীক্ষা চালু রয়েছে এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকি অনুযায়ী দুই থেকে তিন বছর পরপর পরীক্ষা করা হয়। স্তন, কোলোরেক্টাল, জরায়ুমুখ ও ফুসফুসের ক্যানসারসহ একাধিক ক্যানসারের আগাম পরীক্ষা এতে অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ ও উচ্চ রক্তচাপের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগ শনাক্তেও নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়।
স্বাস্থ্য বীমার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা
ফেডারেল পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক পরীক্ষাকে মানসম্মত ও বিস্তৃত করতে কাজ চলছে বলে জানান মন্ত্রী। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য বীমার শর্তের সঙ্গে এই পরীক্ষাকে যুক্ত করে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ছাড়াই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সবার জন্য নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবায় সমতা বাড়বে।
সরকারি সেবায় চলমান উদ্যোগ
এমিরেটস হেলথ সার্ভিসেসের আওতায় বর্তমানে ‘ইতমিনান’ কর্মসূচির মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী ও সংক্রামক নয় এমন রোগের পর্যায়ক্রমিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগকে নিয়মিত চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে এবং পরিসর আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
আধুনিক প্রযুক্তিতে দ্রুত ও নির্ভুল শনাক্তকরণ
মন্ত্রী জানান, তরল বায়োপসি, জেনেটিক পরীক্ষা, আধুনিক পরীক্ষাগার পদ্ধতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চিকিৎসা চিত্রায়ণের ব্যবহার বাড়ছে। এসব প্রযুক্তি ঝুঁকিভিত্তিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক পরীক্ষা চালু করতে সহায়তা করছে, যা কেবল বয়সভিত্তিক পরীক্ষার সীমাবদ্ধতা কমায়।
জিনগত তথ্যভিত্তিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ন্যাশনাল জিনোম কর্মসূচির মাধ্যমে জিনগত ঝুঁকি আগেভাগে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নজরদারি ও হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। প্রমাণভিত্তিক ও আগাম প্রস্তুতিমূলক স্বাস্থ্যসেবার দিকেই দেশটি এগোচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
এফএনসি সদস্য নাআমা আল শারহান এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আগাম শনাক্তকরণ চিকিৎসার ফল উন্নত করার পাশাপাশি পরিবারগুলোর মানসিক ও আর্থিক চাপও কমায়। তিনি অংশগ্রহণের হার বাড়ানো এবং উচ্চ মৃত্যুহারের ক্যানসারগুলোর ক্ষেত্রে ঘাটতি দূর করার ওপর জোর দেন। মন্ত্রী আশ্বাস দেন, ফেডারেল ও স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য কৌশল আরও শক্তিশালী করা হবে, যাতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত হয়।




সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















