০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
জীবাণু অস্ত্রের নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়, নতুন হুমকি বায়োসন্ত্রাস কোরিয়ার ছোঁয়ায় নতুন স্বাদের ইনারি-সুশি: ভুট্টা, টোফু আর ঝাল মাখনের অনন্য মেলবন্ধন উত্তর কোরিয়া-রাশিয়ার সামরিক জোটে বদলে যাচ্ছে ইউরোপ ও ইন্দো-প্যাসিফিকের নিরাপত্তা সমীকরণ টানা পঞ্চম মাসে টয়োটার বৈশ্বিক বিক্রি কমল, চাপ বাড়ছে গাড়ি শিল্পে ইরানকে থামাতে পারবে কি চীন? উপসাগরীয় দেশগুলোর নতুন কূটনৈতিক পরীক্ষা বিমসটেককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে নেপাল, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে নতুন উদ্যোগ ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কুমামোতো, ফিরছে পরিবহন ও শিল্প কার্যক্রম পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিন প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে ঢুকে পড়ল অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল বিমসটেককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে নেপাল, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে নতুন উদ্যোগ গাড়িতে ধূমপানের ভুলে বদলে গেল জীবন, পুলিশে জানানো সেই চালককেই এখন ধন্যবাদ সাবেক আসক্তের

রাশিয়ার তেল কেনায় কড়া বার্তা, ভারতসহ কয়েক দেশের ওপর পাঁচশো শতাংশ শুল্কের পক্ষে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে রাশিয়াবিরোধী একটি কঠোর নিষেধাজ্ঞা উদ্যোগ। রাশিয়ার তেল আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর অন্তত পাঁচশো শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাবিত বিলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভারত, চীন ও ব্রাজিলের মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলো সরাসরি চাপের মুখে পড়তে পারে।

রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতিতে চাপ দেওয়ার কৌশল

এই দ্বিদলীয় বিলটি প্রণয়ন করেছেন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার তেল কেনার মাধ্যমে যে অর্থ প্রবাহিত হচ্ছে, তা সরাসরি ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে গ্রাহাম বলেন, এই বিলের মাধ্যমে রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রে জ্বালানি জোগানো দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

শান্তি আলোচনায় বাধ্য করার পরিকল্পনা

প্রস্তাবিত আইনের নাম ‘রাশিয়া দমন আইন ২০২৫’। এই আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে প্রতি নব্বই দিনে একবার মূল্যায়ন করতে হবে, মস্কো শান্তি আলোচনায় অস্বীকৃতি জানাচ্ছে কি না বা কোনো চুক্তি লঙ্ঘন করছে কি না। যদি রাশিয়াকে অসহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

কারা পড়তে পারে সরাসরি আঘাতে

এই আইনে বলা হয়েছে, যে কোনো দেশ জেনে-বুঝে রাশিয়ার তেল, গ্যাস বা ইউরেনিয়াম কিনলে তাদের পণ্যের ওপর অন্তত পাঁচশো শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এতে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উঠে এসেছে ভারত, চীন ও ব্রাজিলের নাম। পাশাপাশি রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যে সহায়তাকারী বিদেশি ব্যাংক ও কোম্পানির ওপরও দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে।

পুতিনসহ শীর্ষ নেতৃত্বের সম্পদ জব্দের প্রস্তাব

আইনটি কার্যকর হলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সম্পদ জব্দ করা হবে, যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে রুশ কোম্পানির লেনদেন বন্ধ হবে এবং রাশিয়ার জ্বালানি খাতে মার্কিন বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে রাশিয়ার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ শিরায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

Brick mortar background for design.

আন্তর্জাতিক বার্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই বিলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, রাশিয়ার জ্বালানি কেনার মাধ্যমে যারা মস্কোর অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখছে, তাদেরও মূল্য দিতে হবে। ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে বৈশ্বিক রাজনীতিতে এটি আরও কঠোর অর্থনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

জীবাণু অস্ত্রের নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়, নতুন হুমকি বায়োসন্ত্রাস

রাশিয়ার তেল কেনায় কড়া বার্তা, ভারতসহ কয়েক দেশের ওপর পাঁচশো শতাংশ শুল্কের পক্ষে ট্রাম্প

০৭:২৯:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে রাশিয়াবিরোধী একটি কঠোর নিষেধাজ্ঞা উদ্যোগ। রাশিয়ার তেল আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর অন্তত পাঁচশো শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাবিত বিলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভারত, চীন ও ব্রাজিলের মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলো সরাসরি চাপের মুখে পড়তে পারে।

রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতিতে চাপ দেওয়ার কৌশল

এই দ্বিদলীয় বিলটি প্রণয়ন করেছেন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার তেল কেনার মাধ্যমে যে অর্থ প্রবাহিত হচ্ছে, তা সরাসরি ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে গ্রাহাম বলেন, এই বিলের মাধ্যমে রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রে জ্বালানি জোগানো দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

শান্তি আলোচনায় বাধ্য করার পরিকল্পনা

প্রস্তাবিত আইনের নাম ‘রাশিয়া দমন আইন ২০২৫’। এই আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে প্রতি নব্বই দিনে একবার মূল্যায়ন করতে হবে, মস্কো শান্তি আলোচনায় অস্বীকৃতি জানাচ্ছে কি না বা কোনো চুক্তি লঙ্ঘন করছে কি না। যদি রাশিয়াকে অসহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

কারা পড়তে পারে সরাসরি আঘাতে

এই আইনে বলা হয়েছে, যে কোনো দেশ জেনে-বুঝে রাশিয়ার তেল, গ্যাস বা ইউরেনিয়াম কিনলে তাদের পণ্যের ওপর অন্তত পাঁচশো শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এতে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উঠে এসেছে ভারত, চীন ও ব্রাজিলের নাম। পাশাপাশি রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যে সহায়তাকারী বিদেশি ব্যাংক ও কোম্পানির ওপরও দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে।

পুতিনসহ শীর্ষ নেতৃত্বের সম্পদ জব্দের প্রস্তাব

আইনটি কার্যকর হলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সম্পদ জব্দ করা হবে, যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে রুশ কোম্পানির লেনদেন বন্ধ হবে এবং রাশিয়ার জ্বালানি খাতে মার্কিন বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে রাশিয়ার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ শিরায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

Brick mortar background for design.

আন্তর্জাতিক বার্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই বিলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, রাশিয়ার জ্বালানি কেনার মাধ্যমে যারা মস্কোর অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখছে, তাদেরও মূল্য দিতে হবে। ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে বৈশ্বিক রাজনীতিতে এটি আরও কঠোর অর্থনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।