০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
চালের দামের রকেট গতি, বাংলাদেশি টাকায় ১১৬ টাকা কেজি দরে ৫ লাখ টন চাল রপ্তানি করছে ইন্দোনেশিয়া দিল্লির সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে বহুতল ভবন ধস, ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়ার আশঙ্কা টয়োটার বড় সিদ্ধান্ত: স্থগিত হচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মের বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রকল্প বিতর্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ স্থগিত মোদির মিতব্যয়ী বার্তা নিয়ে অসন্তোষ, চাপে ভারতের মধ্যবিত্ত ও করদাতা শ্রেণি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শক্তিশালী হচ্ছে কর্তৃত্ববাদী শাসন, নেতৃত্বে নতুন মুখের উত্থান যুদ্ধ বাড়ছে, জয় নয়: ড্রোন যুগে কেন অচলাবস্থার ফাঁদে বিশ্ব এল নিনোর নতুন হুমকি: ভারত থেকে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত কৃষকদের সামনে খরা, খাদ্যসংকটের আশঙ্কা যখন ঢাকা ঘুমায়: অস্থির পৃথিবীর মাঝে এক বিরল বিরতি আমাদের খাবারের পেছনের নৈতিক প্রশ্ন

২৯৫টি অত্যাবশ্যক ওষুধের দাম নির্ধারণে সরকারের সিদ্ধান্ত, চিকিৎসা ব্যয় কমানোর উদ্যোগ

বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যয় কমাতে ২৯৫টি অত্যাবশ্যক ওষুধের দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব ওষুধ কোম্পানিকে সরকার নির্ধারিত দামে এসব ওষুধ বিক্রি করতে হবে।

বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সায়েদুর রহমান বলেন, সরকার খুব শিগগিরই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে। তিনি জানান, নির্ধারিত তালিকায় থাকা ওষুধগুলো দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

তিনি বলেন, সরকারিভাবে দাম নির্ধারণ করা হলে সাধারণ মানুষের জন্য এসব ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত হবে। ওষুধের উচ্চমূল্য যেন চিকিৎসাসেবার পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সে লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই উদ্যোগকে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, যেসব কোম্পানি বর্তমানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ওষুধ বিক্রি করছে, তাদের দাম কমাতে হবে। তবে যারা কম দামে বিক্রি করছে, তারা চাইলে সেই দাম বজায় রাখতে পারবে অথবা সরকার নির্ধারিত দামে সমন্বয় করতে পারবে।

বিদেশি ওষুধ কোম্পানির ক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ক্রয়ক্ষমতা সমতা বিবেচনায় রেখে প্রস্তাব যাচাই করা হবে। পেটেন্ট থাকা ও পেটেন্টমুক্ত ওষুধের জন্য আলাদা শ্রেণি নির্ধারণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, ওষুধ উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই টাস্কফোর্স ড্রাগ প্রাইস অথরিটি হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ কর্তৃপক্ষে রূপ নেবে। এর মাধ্যমে ওষুধপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী ও স্বতন্ত্র ড্রাগ প্রাইসিং অথরিটি গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তখন দেশের বাজারে ওষুধের দাম আরও যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

নিম্নমানের ওষুধ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বলেন, নিম্নমানের ওষুধ বলে কিছু নেই। কোনো পণ্যে যদি মান না থাকে, তাহলে সেটি আর ওষুধ থাকে না, তা কেবল একটি রাসায়নিক পদার্থে পরিণত হয়। এ বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জনপ্রিয় সংবাদ

চালের দামের রকেট গতি, বাংলাদেশি টাকায় ১১৬ টাকা কেজি দরে ৫ লাখ টন চাল রপ্তানি করছে ইন্দোনেশিয়া

২৯৫টি অত্যাবশ্যক ওষুধের দাম নির্ধারণে সরকারের সিদ্ধান্ত, চিকিৎসা ব্যয় কমানোর উদ্যোগ

০৭:৩২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যয় কমাতে ২৯৫টি অত্যাবশ্যক ওষুধের দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব ওষুধ কোম্পানিকে সরকার নির্ধারিত দামে এসব ওষুধ বিক্রি করতে হবে।

বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সায়েদুর রহমান বলেন, সরকার খুব শিগগিরই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে। তিনি জানান, নির্ধারিত তালিকায় থাকা ওষুধগুলো দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

তিনি বলেন, সরকারিভাবে দাম নির্ধারণ করা হলে সাধারণ মানুষের জন্য এসব ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত হবে। ওষুধের উচ্চমূল্য যেন চিকিৎসাসেবার পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সে লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই উদ্যোগকে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, যেসব কোম্পানি বর্তমানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ওষুধ বিক্রি করছে, তাদের দাম কমাতে হবে। তবে যারা কম দামে বিক্রি করছে, তারা চাইলে সেই দাম বজায় রাখতে পারবে অথবা সরকার নির্ধারিত দামে সমন্বয় করতে পারবে।

বিদেশি ওষুধ কোম্পানির ক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ক্রয়ক্ষমতা সমতা বিবেচনায় রেখে প্রস্তাব যাচাই করা হবে। পেটেন্ট থাকা ও পেটেন্টমুক্ত ওষুধের জন্য আলাদা শ্রেণি নির্ধারণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, ওষুধ উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই টাস্কফোর্স ড্রাগ প্রাইস অথরিটি হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ কর্তৃপক্ষে রূপ নেবে। এর মাধ্যমে ওষুধপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী ও স্বতন্ত্র ড্রাগ প্রাইসিং অথরিটি গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তখন দেশের বাজারে ওষুধের দাম আরও যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

নিম্নমানের ওষুধ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বলেন, নিম্নমানের ওষুধ বলে কিছু নেই। কোনো পণ্যে যদি মান না থাকে, তাহলে সেটি আর ওষুধ থাকে না, তা কেবল একটি রাসায়নিক পদার্থে পরিণত হয়। এ বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।