বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় নির্ধারিত সফর স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গুলশানে দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান। বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিতের সিদ্ধান্ত
মির্জা ফখরুল বলেন, আগে সিদ্ধান্ত হয়েছিল আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে তারেক রহমান উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় যাবেন। সেখানে তিনি জাতীয় নেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদসহ অন্যান্য শহীদদের কবর জিয়ারত করে শ্রদ্ধা জানাবেন। সফরের সূচিতে তারেক রহমানের কিছু পারিবারিক দায়িত্ব পালনের বিষয়ও ছিল। তবে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধের পর ওই সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

নির্বাচন ঘিরে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে বিতর্কিত করা ও ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যে একটি মহল এখনো সক্রিয় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ওসমান হাদীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, বিশেষ করে বিএনপির কয়েকজন নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কয়েক দিন আগে স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা উত্তর ইউনিটের সাবেক সদস্যসচিব মুসাব্বিরকেও গুলি করে হত্যা করা হয়।
তিনি জানান, মুসাব্বির হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিএনপি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বারবার জানানো হয়েছে, ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড চলতে থাকলে নির্বাচনের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
নির্বাচনী পরিবেশ রক্ষায় আহ্বান
মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের কার্যকর ও জরুরি ব্যবস্থা নিতে আবারও আহ্বান জানাচ্ছে বিএনপি।

খালেদা জিয়ার জানাজা ও কৃতজ্ঞতা
বিএনপি মহাসচিব প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যু প্রসঙ্গে বলেন, তার জানাজায় দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ মানুষের সমাগম দেখা গেছে। এমন দৃশ্য বাংলাদেশ আগে কখনো দেখেনি।
তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে জানাজায় অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের প্রতি বিএনপির পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে সহায়তার জন্য সশস্ত্র বাহিনী, তিন বাহিনীর প্রধান, সরকার এবং পুলিশ, র্যাব ও বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।
খালেদা জিয়া গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন। রাজধানীর সংসদ ভবনের পাশে জিয়া উদ্যানে তার স্বামীর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















