যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার কাছ থেকে তেল বা ইউরেনিয়াম কেনা দেশগুলোর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ পাঁচশো শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিতে পারে—এমন একটি কঠোর নিষেধাজ্ঞা বিল অনুমোদনের সবুজ সংকেত দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, কংগ্রেসে আগামী সপ্তাহের শুরুতেই বিলটি ভোটে তোলা হতে পারে।
ভারতের ওপর চাপ আরও জোরালো
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত, চীন ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর ওপর রাশিয়া থেকে সস্তা তেল কেনা বন্ধ করতে নতুন করে চাপ বাড়ানো হচ্ছে। লিন্ডসি গ্রাহামের ভাষায়, এই বিল কার্যকর হলে ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে এমন শক্তিশালী হাতিয়ার আসবে, যা ব্যবহার করে এসব দেশকে রাশিয়ার তেল বর্জনে বাধ্য করা যাবে। তাঁর অভিযোগ, এই তেলের অর্থেই ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে।

কংগ্রেসে ব্যাপক সমর্থন
দলমত নির্বিশেষে বিলটি ইতিমধ্যে কংগ্রেসে উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেয়েছে। সিনেটে শত সদস্যের মধ্যে চুরাশি জন এবং প্রতিনিধি পরিষদে একশ একান্ন জন সদস্য এর সহপৃষ্ঠপোষক। ফলে ভোটে উঠলে বিলটি সহজেই পাস হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলে মনে করা হচ্ছে।
দিল্লিতে নতুন দূতের অগ্রাধিকার
এই ঘোষণার ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভারতীয় দূত হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন সার্জিও গোর। তিনি আগেই জানিয়েছেন, ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করানোই তাঁর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সোমবার দিল্লিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর এ বিষয়ে তিনি প্রকাশ্য বক্তব্য দিতে পারেন বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
শুল্ক বাড়ানোর ইঙ্গিত
এর আগে ট্রাম্প ও লিন্ডসি গ্রাহাম যৌথভাবে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, নতুন এই আইন প্রেসিডেন্টকে বিদ্যমান পঁচিশ শতাংশ শুল্কের ওপর আরও বেশি শুল্ক আরোপের স্বাধীনতা দেবে। অর্থাৎ প্রয়োজন হলে শুল্কের হার পাঁচশো শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।

ভারতের তেল আমদানিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত
এরই মধ্যে ভারতের সবচেয়ে বড় বেসরকারি পরিশোধনকারী সংস্থা রিলায়েন্স জানিয়েছে, ডিসেম্বরের বেশির ভাগ সময় এবং জানুয়ারিতে তারা রাশিয়া থেকে কোনো তেল পায়নি এবং আপাতত নতুন করে আমদানির সম্ভাবনাও নেই। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলো নভেম্বর মাসে আমদানি বাড়ালেও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে নাইয়ারা এনার্জির আমদানি কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে ভারতের রাশিয়ান তেল কেনা আগের অবস্থায় ফেরার সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে।
অতীতের নজির
এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের সময় একই ধরনের চাপে ভারত ইরান ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অভিজ্ঞতাই আবার সামনে চলে আসছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
প্যারিসে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লভ সিকোরস্কি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়েছে—এটি ইতিবাচক সংকেত। সেখানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন।
ভবিষ্যৎ কৌশল
সিনেটের শুনানিতে সার্জিও গোর আগেই স্পষ্ট করেছিলেন, রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধে ভারতকে চাপ দেওয়া বিষয়ে ট্রাম্প ছিলেন সম্পূর্ণ দৃঢ়। তাঁর মতে, প্রস্তাবিত এই শুল্ক আইন কার্যকর হলে ভারতের সামনে বিকল্প পথ খুব সীমিত হয়ে পড়বে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















