পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির অভিযানে। কলকাতায় রাজনৈতিক পরামর্শক সংস্থা আইপ্যাকের দপ্তর ও সহপ্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের বাড়িতে চলা তল্লাশিকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ইডির মধ্যে প্রকাশ্য সংঘাত তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, পরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দলীয় কৌশলপত্র ও প্রার্থী তালিকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জব্দ করা হয়েছে।
তথ্য নেওয়ার অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রীর তীব্র প্রতিক্রিয়া
তল্লাশির সময় আইপ্যাক দপ্তর ও প্রতীক জৈনের দক্ষিণ কলকাতার বাসভবনে যান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এই অভিযানের মাধ্যমে তাঁর দলের অভ্যন্তরীণ নথি ও ডিজিটাল তথ্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এটি গণতন্ত্রের ওপর আঘাত এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। বিজেপির দিকে আঙুল তুলে তিনি বলেন, বাংলাকে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না।

ইডির পাল্টা অভিযোগ ও আইনি পদক্ষেপ
ইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সহযোগীরা নথি ও বৈদ্যুতিন প্রমাণ সরিয়ে নিয়েছেন, যা চলমান তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেছে। সংস্থার বক্তব্য, এই অভিযান অর্থপাচার সংক্রান্ত মামলার অংশ এবং কোনও রাজনৈতিক দল বা নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত নয়। ইডি বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের হস্তক্ষেপও চেয়েছে।
পাল্টা এফআইআর ও রাজনৈতিক চাপানউতোর
অন্যদিকে কলকাতা পুলিশের তরফে ইডি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। একটি অভিযোগে বলা হয়েছে, স্থানীয় পুলিশকে না জানিয়েই তল্লাশি চালানো হয়েছে। অন্য অভিযোগটি প্রতীক জৈনের স্ত্রীর তরফে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ নথি খোয়া যাওয়ার দাবি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অভিযানের নেপথ্যে থাকার অভিযোগ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিষয়টি দেখার অনুরোধ জানান।

রাস্তায় নামল তৃণমূল সমর্থকরা
আইপ্যাক দপ্তরের বাইরে বিপুল সংখ্যক তৃণমূল সমর্থক জড়ো হয়ে স্লোগান তোলেন। মুখ্যমন্ত্রী দলের কর্মীসমর্থকদের প্রতিবাদে নামার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, বাংলার মানুষ এই অভিযানের যোগ্য জবাব দেবে।
আইপ্যাক ও তৃণমূলের সম্পর্ক
গত কয়েক বছরে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে আইপ্যাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে বিধানসভা নির্বাচনসহ একাধিক ভোটে দলীয় পরিকল্পনায় সংস্থাটির পরামর্শ ছিল উল্লেখযোগ্য। সেই প্রেক্ষাপটে এই তল্লাশি রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন ও বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















