০৬:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬
আলিসা লিউ ও আইলিন গু: দুই দেশের আয়নায় প্রতিচ্ছবি মানুষ ৪০ হাজার বছর আগে লিখতে শিখেছিলো কেন পর্যাপ্ত ঘুমের পরও অনেকেই সারাক্ষণ ক্লান্ত বোধ করেন গুচির দেহমোহে বাজি, নব্বই দশকের ঝলক ফেরাতে ডেমনার সাহসী প্রদর্শনী জাপানের ধনীদের দিকে ঝুঁকছে কেকেআর ও ব্ল্যাকস্টোন, মার্কিন বেসরকারি সম্পদ বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই নতুন কৌশল মুন দুবাই কি সত্যিই বাস্তব হচ্ছে? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন প্রতিষ্ঠাতারা সাউথ চায়না সি আচরণবিধি ২০২৬-এর মধ্যে সম্ভব নয়: বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা আগের ধস কাটিয়ে শুরুতেই ঘুরে দাঁড়াল ডিএসই ও সিএসই সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রেস ক্লাব সভাপতির ওপর হামলা, আটক ২ সিরাজগঞ্জে সেচ নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৯

ইরানে ক্ষোভের বিস্ফোরণ, ঘরে বিক্ষোভ বাইরে যুদ্ধের আশঙ্কায় টালমাটাল শাসন

ইরানে আবারও অস্থিরতার ঢেউ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে যেভাবে দেশটিতে বিক্ষোভের চক্র ফিরে ফিরে আসে, এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। কোনো একটি ঘটনা থেকে শুরু হওয়া ক্ষোভ দ্রুত রাস্তায় নামে, নেতৃত্বহীন প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে, এরপর রাষ্ট্র শক্ত হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু সমস্যার মূল থেকে যায় অমীমাংসিত। সময় গড়ালে আবার একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হয়।

ডিসেম্বরের শেষ দিকে তেহরানে ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটে নামেন। অধিকাংশ পণ্য আমদানি নির্ভর হওয়ায় দ্রুত মূল্যহ্রাসমান মুদ্রায় কেনাবেচা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। এই ধর্মঘটে ধীরে ধীরে যুক্ত হয় অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, এমনকি তেহরানের ঐতিহাসিক বড় বাজারও। রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং এখনও তা চলমান। দুই হাজার বাইশ সালের পর এটিই সবচেয়ে বিস্তৃত অস্থিরতা হলেও এটি এখনো দেশজুড়ে সর্বাত্মক আন্দোলনে রূপ নেয়নি। অধিকাংশ স্থানে কয়েক শ মানুষের ছোট জমায়েত দেখা যাচ্ছে, মূলত প্রাদেশিক শহরগুলোতে। কারখানা ও সরকারি দপ্তর এখনো খোলা রয়েছে।

তবু শাসকগোষ্ঠীর ভেতরের অস্থিরতা এবার স্পষ্ট। তেহরানের কেন্দ্রীয় এলাকায় জলকামান ও দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাধারণ পোশাকে নিরাপত্তা কর্মীরা লোকজন জড়ো হওয়ার আগেই ছত্রভঙ্গ করছে। বায়ুদূষণের অজুহাতে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে, যাতে বড় জমায়েত না গড়ে ওঠে।

অর্থনীতি ভাঙনের মুখে, সমাধানহীন সরকার

এবারের আন্দোলন আগের ধারা থেকে দুটি দিক দিয়ে আলাদা। প্রথমত, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্ব এখন সবার চোখের সামনে। এক বছরে অর্থনৈতিক বিপর্যয়, যুদ্ধের চাপ এবং পরিবেশগত সংকট দেশটিকে চেপে ধরেছে। শাসকদের হাতে কার্যকর কোনো সমাধান নেই। দ্বিতীয়ত, বিদেশি হস্তক্ষেপের আশঙ্কা। সাম্প্রতিক ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের পর অনেক ইরানি ভাবছেন, পরবর্তী লক্ষ্য কি তাদের দেশ।

বিক্ষোভে সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে বেকার তরুণদের ক্ষোভ, যাদের দীর্ঘদিন ধরে শাসকগোষ্ঠী নিজেদের শক্ত ঘাঁটি মনে করত। দুই হাজার বাইশ সালে সামাজিক বিধিনিষেধ নিয়ে আন্দোলন প্রশমিত করতে সরকার পোশাক সংক্রান্ত নিয়ম শিথিল করেছিল। কিন্তু অর্থনীতি ও পরিবেশ সংকটে তেমন সহজ সমাধান নেই। আন্দোলনের আগমুহূর্তে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্বীকার করেছেন, তাঁর করার মতো কিছু নেই।

ইরানের মুদ্রা রিয়াল ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। গত এক বছরে এর মূল্য প্রায় অর্ধেক কমেছে, এক দশকে প্রায় সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ খাদ্য সংকটে পড়েছে। সরকার আমদানি পণ্যে বিশেষ বিনিময় হার তুলে দিয়ে নগদ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে, কিন্তু সেই অর্থ চাল বা তেলের দাম মেটানোর জন্যও যথেষ্ট নয়। উপরন্তু এই সিদ্ধান্ত মুদ্রাস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে সরকার নিজেই স্বীকার করেছে।

দমন নীতির প্রতিক্রিয়া ও নেতৃত্ব সংকট

কঠোর দমন নীতিও এবার উল্টো ফল দিচ্ছে। আহত বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তারে হাসপাতাল পর্যন্ত অভিযানের ভিডিও জনরোষ বাড়িয়েছে। কোথাও কোথাও থানা জ্বালিয়ে বন্দিদের মুক্ত করার চেষ্টা হয়েছে। ধর্মীয় আদর্শ, যা একসময় শাসনব্যবস্থার ভিত্তি ছিল, এখন ক্লান্ত ও নিস্তেজ বলে মনে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে বিভক্ত বিরোধী শিবিরও ধীরে ধীরে নতুন সমীকরণ খুঁজছে। নির্বাসিত রাজপরিবারের উত্তরসূরী রেজা পাহলভিকে অনেকেই নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছেন। একই সঙ্গে যুদ্ধের আশঙ্কা ঘনিয়ে আসছে। গত গ্রীষ্মে ইরানে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তাদের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আবারও হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই ইস্যুতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

জানুয়ারির শুরুতে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ক্ষতি করা হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে। এর পরদিন ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের ঘটনা ইরানে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। যদিও তেহরানে সরাসরি অভিযান চালানোর ইতিহাস যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুখকর নয়।

সর্বোচ্চ নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ প্রশ্নে

এই সব ঘটনার মধ্যে ইরানের শাসনব্যবস্থার ভেতরেও ফাটল দেখা যাচ্ছে। অনেক কর্মকর্তা মনে করছেন, বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে সরিয়ে দিলে ব্যবস্থা টিকে থাকতে পারে। কেউ কেউ সামরিক পটভূমির শক্ত নেতৃত্বের কথা বলছেন। এমনকি চরম পরিস্থিতিতে রাজতান্ত্রিক বিকল্পের কথাও গোপনে আলোচনায় এসেছে।

তেহরানের কেন্দ্রে বিশাল বিলবোর্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকায় মোড়ানো কফিনের ছবি ঝুলছে। উপদেষ্টারা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর হুমকি দিচ্ছেন। উপসাগরীয় আরব দেশগুলোও আশঙ্কায় রয়েছে। সাতত্রিশ বছর ক্ষমতায় থাকা খামেনির জন্য এই সময়টা ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ইতিহাস মনে করিয়ে দিচ্ছে, শেষ শাহও ঠিক সাতত্রিশ বছর ক্ষমতায় থেকে পতনের মুখে পড়েছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আলিসা লিউ ও আইলিন গু: দুই দেশের আয়নায় প্রতিচ্ছবি

ইরানে ক্ষোভের বিস্ফোরণ, ঘরে বিক্ষোভ বাইরে যুদ্ধের আশঙ্কায় টালমাটাল শাসন

০৩:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে আবারও অস্থিরতার ঢেউ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে যেভাবে দেশটিতে বিক্ষোভের চক্র ফিরে ফিরে আসে, এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। কোনো একটি ঘটনা থেকে শুরু হওয়া ক্ষোভ দ্রুত রাস্তায় নামে, নেতৃত্বহীন প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে, এরপর রাষ্ট্র শক্ত হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু সমস্যার মূল থেকে যায় অমীমাংসিত। সময় গড়ালে আবার একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হয়।

ডিসেম্বরের শেষ দিকে তেহরানে ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটে নামেন। অধিকাংশ পণ্য আমদানি নির্ভর হওয়ায় দ্রুত মূল্যহ্রাসমান মুদ্রায় কেনাবেচা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। এই ধর্মঘটে ধীরে ধীরে যুক্ত হয় অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, এমনকি তেহরানের ঐতিহাসিক বড় বাজারও। রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং এখনও তা চলমান। দুই হাজার বাইশ সালের পর এটিই সবচেয়ে বিস্তৃত অস্থিরতা হলেও এটি এখনো দেশজুড়ে সর্বাত্মক আন্দোলনে রূপ নেয়নি। অধিকাংশ স্থানে কয়েক শ মানুষের ছোট জমায়েত দেখা যাচ্ছে, মূলত প্রাদেশিক শহরগুলোতে। কারখানা ও সরকারি দপ্তর এখনো খোলা রয়েছে।

তবু শাসকগোষ্ঠীর ভেতরের অস্থিরতা এবার স্পষ্ট। তেহরানের কেন্দ্রীয় এলাকায় জলকামান ও দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাধারণ পোশাকে নিরাপত্তা কর্মীরা লোকজন জড়ো হওয়ার আগেই ছত্রভঙ্গ করছে। বায়ুদূষণের অজুহাতে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে, যাতে বড় জমায়েত না গড়ে ওঠে।

অর্থনীতি ভাঙনের মুখে, সমাধানহীন সরকার

এবারের আন্দোলন আগের ধারা থেকে দুটি দিক দিয়ে আলাদা। প্রথমত, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্ব এখন সবার চোখের সামনে। এক বছরে অর্থনৈতিক বিপর্যয়, যুদ্ধের চাপ এবং পরিবেশগত সংকট দেশটিকে চেপে ধরেছে। শাসকদের হাতে কার্যকর কোনো সমাধান নেই। দ্বিতীয়ত, বিদেশি হস্তক্ষেপের আশঙ্কা। সাম্প্রতিক ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের পর অনেক ইরানি ভাবছেন, পরবর্তী লক্ষ্য কি তাদের দেশ।

বিক্ষোভে সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে বেকার তরুণদের ক্ষোভ, যাদের দীর্ঘদিন ধরে শাসকগোষ্ঠী নিজেদের শক্ত ঘাঁটি মনে করত। দুই হাজার বাইশ সালে সামাজিক বিধিনিষেধ নিয়ে আন্দোলন প্রশমিত করতে সরকার পোশাক সংক্রান্ত নিয়ম শিথিল করেছিল। কিন্তু অর্থনীতি ও পরিবেশ সংকটে তেমন সহজ সমাধান নেই। আন্দোলনের আগমুহূর্তে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্বীকার করেছেন, তাঁর করার মতো কিছু নেই।

ইরানের মুদ্রা রিয়াল ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। গত এক বছরে এর মূল্য প্রায় অর্ধেক কমেছে, এক দশকে প্রায় সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ খাদ্য সংকটে পড়েছে। সরকার আমদানি পণ্যে বিশেষ বিনিময় হার তুলে দিয়ে নগদ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে, কিন্তু সেই অর্থ চাল বা তেলের দাম মেটানোর জন্যও যথেষ্ট নয়। উপরন্তু এই সিদ্ধান্ত মুদ্রাস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে সরকার নিজেই স্বীকার করেছে।

দমন নীতির প্রতিক্রিয়া ও নেতৃত্ব সংকট

কঠোর দমন নীতিও এবার উল্টো ফল দিচ্ছে। আহত বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তারে হাসপাতাল পর্যন্ত অভিযানের ভিডিও জনরোষ বাড়িয়েছে। কোথাও কোথাও থানা জ্বালিয়ে বন্দিদের মুক্ত করার চেষ্টা হয়েছে। ধর্মীয় আদর্শ, যা একসময় শাসনব্যবস্থার ভিত্তি ছিল, এখন ক্লান্ত ও নিস্তেজ বলে মনে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে বিভক্ত বিরোধী শিবিরও ধীরে ধীরে নতুন সমীকরণ খুঁজছে। নির্বাসিত রাজপরিবারের উত্তরসূরী রেজা পাহলভিকে অনেকেই নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছেন। একই সঙ্গে যুদ্ধের আশঙ্কা ঘনিয়ে আসছে। গত গ্রীষ্মে ইরানে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তাদের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আবারও হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই ইস্যুতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

জানুয়ারির শুরুতে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ক্ষতি করা হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে। এর পরদিন ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের ঘটনা ইরানে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। যদিও তেহরানে সরাসরি অভিযান চালানোর ইতিহাস যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুখকর নয়।

সর্বোচ্চ নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ প্রশ্নে

এই সব ঘটনার মধ্যে ইরানের শাসনব্যবস্থার ভেতরেও ফাটল দেখা যাচ্ছে। অনেক কর্মকর্তা মনে করছেন, বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে সরিয়ে দিলে ব্যবস্থা টিকে থাকতে পারে। কেউ কেউ সামরিক পটভূমির শক্ত নেতৃত্বের কথা বলছেন। এমনকি চরম পরিস্থিতিতে রাজতান্ত্রিক বিকল্পের কথাও গোপনে আলোচনায় এসেছে।

তেহরানের কেন্দ্রে বিশাল বিলবোর্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকায় মোড়ানো কফিনের ছবি ঝুলছে। উপদেষ্টারা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর হুমকি দিচ্ছেন। উপসাগরীয় আরব দেশগুলোও আশঙ্কায় রয়েছে। সাতত্রিশ বছর ক্ষমতায় থাকা খামেনির জন্য এই সময়টা ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ইতিহাস মনে করিয়ে দিচ্ছে, শেষ শাহও ঠিক সাতত্রিশ বছর ক্ষমতায় থেকে পতনের মুখে পড়েছিলেন।