০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে ভুল ধারণা: হৃদরোগ থেকে মেনোপজ পর্যন্ত যে সত্যগুলো জানা জরুরি বিচ্ছেদের সবচেয়ে কঠিন সত্য জানালেন জেনিফার গার্নার বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে ২০২৬ সালের ইতিবাচক সূচনা ইরানে বিক্ষোভে গুলি, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন আরও তীব্র আলেপ্পোর কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় তীব্র বোমাবর্ষণ, তিন দিনে নিহত অন্তত সতেরো গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার আমি: আসিফ নজরুল ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো সহজ নয়: অর্থ উপদেষ্টা গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে যুক্ত হতে আগ্রহ জানাল বাংলাদেশ ‘আওয়ামীপন্থী’ শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিলেন চাকসু নেতারা তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ওষুধ গবেষণার নতুন স্বপ্ন, বদলে যাচ্ছে ফার্মা শিল্পের ভবিষ্যৎ

ওষুধ আবিষ্কার মানেই দীর্ঘ অপেক্ষা, বিপুল ব্যয় আর ব্যর্থতার ঝুঁকি। একটি সম্ভাবনাময় অণু থেকে কার্যকর ওষুধে পৌঁছাতে সাধারণত এক দশকেরও বেশি সময় লাগে। মানুষের ওপর পরীক্ষায় ঢোকা প্রতি দশটি ওষুধের মধ্যে শেষ পর্যন্ত বাজারে আসে মাত্র একটি। এই কঠিন বাস্তবতাই ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পকে ঠেলে দেয় নতুন ব্লকবাস্টার খোঁজার নিরন্তর দৌড়ে। ঠিক এই জায়গাতেই দৃশ্যপটে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বদলানো ওষুধ আবিষ্কারের গতি
বিশাল জৈবিক তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষমতা দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন ওষুধ গবেষণার পদ্ধতিই পাল্টে দিচ্ছে। কোন প্রোটিনকে লক্ষ্য করা উচিত, সেই লক্ষ্যবস্তুতে কাজ করতে পারে এমন নতুন অণুর নকশা কেমন হবে, এমনকি সম্ভাব্য বিষক্রিয়া কতটা হতে পারে—সবকিছুই এখন পরীক্ষাগারে হাত দেওয়ার আগেই কম্পিউটারে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে সময় ও খরচ দুইই কমছে।

নিরাপত্তা পরীক্ষায় আশাব্যঞ্জক ফল
প্রাথমিক নিরাপত্তা পরীক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি অণুগুলোর সাফল্যের হার চোখে পড়ার মতো। যেখানে অতীতে এই ধাপে সাফল্য ছিল তুলনামূলক কম, সেখানে নতুন পদ্ধতিতে সাফল্য অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। শেষ ধাপের পরীক্ষায় এই ধারা কতটা টেকসই হবে, তা জানতে সময় লাগবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক ধাপেই সাফল্য বাড়লে পুরো গবেষণা প্রক্রিয়ার সাফল্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হতে পারে।

ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও দক্ষতা বৃদ্ধি
শুধু গবেষণায় নয়, ফার্মা কোম্পানিগুলোর দৈনন্দিন কাজেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দক্ষতা বাড়াচ্ছে। ক্লিনিক্যাল নথি তৈরি থেকে শুরু করে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। এর ফলে শিল্পখাতে বছরে বিপুল অর্থমূল্যের উৎপাদনশীলতা যোগ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ফার্মা শিল্পের ঘনিষ্ঠতা
এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তিভিত্তিক নতুন বায়োটেক উদ্যোগও দ্রুত বাড়ছে, বিশেষ করে আমেরিকা ও চীনে। বড় ফার্মা কোম্পানিগুলো এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বায়োটেক প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি জায়ান্টদের সঙ্গে জোট বাঁধছে। লক্ষ্য একটাই—কম্পিউটারের ভেতরেই নতুন চিকিৎসা অণুর নকশা তৈরি। এর ফলে ওষুধ আবিষ্কারের মূল্যশৃঙ্খলের একটি অংশ ধীরে ধীরে প্রযুক্তি খাতে সরে যেতে পারে।

ফার্মা কোম্পানির সুবিধা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
বর্তমানে ফার্মা শিল্পের হাতে রয়েছে বিপুল তথ্যভান্ডার, অভিজ্ঞ বিজ্ঞানী এবং নিয়ন্ত্রক জটিলতা সামলানোর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তবে জীববিজ্ঞানের বড় অংশ যদি ধীরে ধীরে গণনাভিত্তিক সমস্যায় রূপ নেয়, তাহলে এই সুবিধাগুলো ক্ষয় হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় দক্ষতা কিনে নেওয়াই ভবিষ্যতে অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য বাস্তবতা হয়ে উঠতে পারে।

নিয়ন্ত্রণ ও পেটেন্ট ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা
ওষুধ গবেষণা দ্রুত ও সাশ্রয়ী হলে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও পেটেন্ট নীতিতেও পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেবে। বর্তমানে দীর্ঘ পেটেন্ট মেয়াদ বিনিয়োগ ফেরতের নিশ্চয়তা দেয়। কিন্তু খরচ ও ঝুঁকি কমে গেলে একচেটিয়া বাজার সুবিধার সময়সীমা ছোট করার প্রশ্ন উঠতে পারে। একই সঙ্গে নতুন ওষুধের সংখ্যা বাড়লে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকেও দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত হতে হবে।

নতুন বাস্তবতায় মানিয়ে নেওয়ার সময়
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ওষুধ উদ্ভাবনের জন্য নিঃসন্দেহে সুসংবাদ। তবে এই সুফল যেন গবেষক, শিল্প এবং রোগী—সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছায়, সে জন্য নীতিনির্ধারক ও নিয়ন্ত্রকদের নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে ভুল ধারণা: হৃদরোগ থেকে মেনোপজ পর্যন্ত যে সত্যগুলো জানা জরুরি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ওষুধ গবেষণার নতুন স্বপ্ন, বদলে যাচ্ছে ফার্মা শিল্পের ভবিষ্যৎ

০৪:৪৯:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

ওষুধ আবিষ্কার মানেই দীর্ঘ অপেক্ষা, বিপুল ব্যয় আর ব্যর্থতার ঝুঁকি। একটি সম্ভাবনাময় অণু থেকে কার্যকর ওষুধে পৌঁছাতে সাধারণত এক দশকেরও বেশি সময় লাগে। মানুষের ওপর পরীক্ষায় ঢোকা প্রতি দশটি ওষুধের মধ্যে শেষ পর্যন্ত বাজারে আসে মাত্র একটি। এই কঠিন বাস্তবতাই ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পকে ঠেলে দেয় নতুন ব্লকবাস্টার খোঁজার নিরন্তর দৌড়ে। ঠিক এই জায়গাতেই দৃশ্যপটে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বদলানো ওষুধ আবিষ্কারের গতি
বিশাল জৈবিক তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষমতা দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন ওষুধ গবেষণার পদ্ধতিই পাল্টে দিচ্ছে। কোন প্রোটিনকে লক্ষ্য করা উচিত, সেই লক্ষ্যবস্তুতে কাজ করতে পারে এমন নতুন অণুর নকশা কেমন হবে, এমনকি সম্ভাব্য বিষক্রিয়া কতটা হতে পারে—সবকিছুই এখন পরীক্ষাগারে হাত দেওয়ার আগেই কম্পিউটারে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে সময় ও খরচ দুইই কমছে।

নিরাপত্তা পরীক্ষায় আশাব্যঞ্জক ফল
প্রাথমিক নিরাপত্তা পরীক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি অণুগুলোর সাফল্যের হার চোখে পড়ার মতো। যেখানে অতীতে এই ধাপে সাফল্য ছিল তুলনামূলক কম, সেখানে নতুন পদ্ধতিতে সাফল্য অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। শেষ ধাপের পরীক্ষায় এই ধারা কতটা টেকসই হবে, তা জানতে সময় লাগবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক ধাপেই সাফল্য বাড়লে পুরো গবেষণা প্রক্রিয়ার সাফল্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হতে পারে।

ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও দক্ষতা বৃদ্ধি
শুধু গবেষণায় নয়, ফার্মা কোম্পানিগুলোর দৈনন্দিন কাজেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দক্ষতা বাড়াচ্ছে। ক্লিনিক্যাল নথি তৈরি থেকে শুরু করে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। এর ফলে শিল্পখাতে বছরে বিপুল অর্থমূল্যের উৎপাদনশীলতা যোগ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ফার্মা শিল্পের ঘনিষ্ঠতা
এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তিভিত্তিক নতুন বায়োটেক উদ্যোগও দ্রুত বাড়ছে, বিশেষ করে আমেরিকা ও চীনে। বড় ফার্মা কোম্পানিগুলো এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বায়োটেক প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি জায়ান্টদের সঙ্গে জোট বাঁধছে। লক্ষ্য একটাই—কম্পিউটারের ভেতরেই নতুন চিকিৎসা অণুর নকশা তৈরি। এর ফলে ওষুধ আবিষ্কারের মূল্যশৃঙ্খলের একটি অংশ ধীরে ধীরে প্রযুক্তি খাতে সরে যেতে পারে।

ফার্মা কোম্পানির সুবিধা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
বর্তমানে ফার্মা শিল্পের হাতে রয়েছে বিপুল তথ্যভান্ডার, অভিজ্ঞ বিজ্ঞানী এবং নিয়ন্ত্রক জটিলতা সামলানোর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তবে জীববিজ্ঞানের বড় অংশ যদি ধীরে ধীরে গণনাভিত্তিক সমস্যায় রূপ নেয়, তাহলে এই সুবিধাগুলো ক্ষয় হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় দক্ষতা কিনে নেওয়াই ভবিষ্যতে অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য বাস্তবতা হয়ে উঠতে পারে।

নিয়ন্ত্রণ ও পেটেন্ট ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা
ওষুধ গবেষণা দ্রুত ও সাশ্রয়ী হলে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও পেটেন্ট নীতিতেও পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেবে। বর্তমানে দীর্ঘ পেটেন্ট মেয়াদ বিনিয়োগ ফেরতের নিশ্চয়তা দেয়। কিন্তু খরচ ও ঝুঁকি কমে গেলে একচেটিয়া বাজার সুবিধার সময়সীমা ছোট করার প্রশ্ন উঠতে পারে। একই সঙ্গে নতুন ওষুধের সংখ্যা বাড়লে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকেও দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত হতে হবে।

নতুন বাস্তবতায় মানিয়ে নেওয়ার সময়
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ওষুধ উদ্ভাবনের জন্য নিঃসন্দেহে সুসংবাদ। তবে এই সুফল যেন গবেষক, শিল্প এবং রোগী—সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছায়, সে জন্য নীতিনির্ধারক ও নিয়ন্ত্রকদের নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।