সমকালের একটি শিরোনাম “সীমানা নিয়ে আদালতের আদেশ, ভোটে বিপত্তি”
তপশিল ঘোষণার পরও সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে উচ্চ আদালতে একাধিক রিট চলছে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।
তবে ইসি এবারের নির্বাচনে যে ৪৬ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করেছিল, এর ১৪টি নিয়ে হাইকোর্ট ইতোমধ্যে আদেশ দিয়েছেন। পাবনা-১ এবং পাবনা-২ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের গেজেট আদালত স্থগিত করায় আসন দুটির ভোটের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা সমকালকে বলেছেন, সংবিধান ও আইনে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ না রাখা হলেও সর্বোচ্চ আদালত তার অন্তর্নিহিত ক্ষমতাবলে তা শুনতে পারেন। কিন্তু যে বিষয়ে ইসিকে এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে, তা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির কাছেই থাকা উচিত। নয়তো নির্বাচন বিঘ্নিত হতে পারে। অতীতে সীমানা নির্ধারণে ইসির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। আদালতে গেলেও ইসির সিদ্ধান্তই কার্যকর ছিল।
গত জুলাইয়ে নির্বাচন কমিশন ৩৯ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে। এ নিয়ে আপত্তি এলে, তা নিয়ে পরের মাসে আপিল শুনানি করে ইসি। ৪ সেপ্টেম্বর সীমানা পুনর্নির্ধারণের গেজেট জারি করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। এতে ৪৬টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন আসে।
আজকের পত্রিকার একটি শিরোনাম”নির্বাচনে প্রার্থিতা: বিদ্রোহে ভুগছে বিএনপি”
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে দলীয় ও মিত্র দলের প্রার্থীদের পক্ষে ভোটের মাঠে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে চায় বিএনপি। কিন্তু কোথাও কোথাও এই পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলের মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা। দলের সমর্থন না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের লড়াইয়ে থেকে যাওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থান নিয়েছেন তাঁরা। এসব প্রার্থীকে বিদ্রোহী বিবেচনা করে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়ার কৌশল নিয়েছে দল। এই নীতিতে বিদ্রোহীদের নির্বাচন থেকে সরাতে আলোচনায় সমঝোতা ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা দুই-ই চালু রাখা হয়েছে।
দলীয় সূত্র বলছে, আলোচনার মাধ্যমে বুঝিয়ে বিদ্রোহীদের অনেককে এরই মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করানো সম্ভব হয়েছে। আবার অনেককে বুঝিয়েও লাভ হচ্ছে না। প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় এরই মধ্যে অনেককে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপরও এখন পর্যন্ত বিভিন্ন আসনে অন্তত অর্ধশত স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। শরিকদের জন্য ছাড় দেওয়া আসনগুলোতেও একই চিত্র।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এই সময়ের আগে বিদ্রোহীদের সরানো না গেলে বেশ অস্বস্তিতে পড়তে পারে বিএনপি।
দলীয় সূত্র বলছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের মাঠ থেকে সরানোর বিষয়ে সহজে আশা ছাড়ছেন না বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা। নিজেদের ভুল বুঝে দলের সিদ্ধান্ত মেনে বিদ্রোহী প্রার্থীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন বলে তাঁদের প্রত্যাশা। তবে সবাই যে সরবে না, সে বিষয়টিও উঠে এসেছে তাঁদের কথায়।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে দলের ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান গতকাল রোববার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সময় আছে। চেষ্টা করা হবে তাঁদের (বিদ্রোহী প্রার্থী) বোঝানোর জন্য। তারপর দল থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা, অধিকাংশ বিদ্রোহী প্রার্থীই সরে যাবেন। কিছু হয়তো থাকবেন, থেকে যাবেন। তাঁদের বিষয়ে দল ব্যবস্থা নেবে।’
বণিকবার্তার একটি শিরোনাম “ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি —বাণিজ্য উপদেষ্টা”
আইপিএল ইস্যুতে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমরা তেমন কোনো কিছু দেখছি না, কোনো প্রভাব পড়বে এ রকম কিছুও দেখছি না।’ গতকাল সচিবালয়ে নতুন আমদানি নীতি আদেশ-সংক্রান্ত এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আরেক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনি যদি বিগত পাঁচ বছরের আমাদের রফতানি বা আমদানির চিত্র দেখেন বছরভিত্তিক ওঠানামা দেখবেন। আমাদের আমদানি প্রয়োজন, আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আমাদের অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে—সবকিছু নিয়েই আমাদের পরিমাণগত পরিবর্তনগুলো হয়। সেক্ষেত্রে আমরা এমন কোনো কিছু দেখছি না। তবে আমাদের বিভিন্ন রকম ট্রেড মেজারস নেয়া হয়েছে। আপনারা জানেন যে আমাদের কিছু বর্ডার মেজারস দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নেয়া হয়েছে। সেটার কোনো ইমপ্যাক্ট এসেছে কিনা এ মুহূর্তে স্পষ্ট করে বলতে পারছি না।’
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা উদার বাণিজ্যে বিশ্বাস করি। পৃথিবীর সব দেশের সঙ্গে আমাদের উদার বাণিজ্য কার্যক্রম চালু রয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত না হয়, সে পর্যন্ত আমরা স্পেসিফিক কোনো বাই লেটারাল (দ্বিপক্ষীয়) সিদ্ধান্ত নিই না। সামগ্রিকভাবে আমরা উদার বাণিজ্যে বিশ্বাসী।’
এ সময় বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘দৈনন্দিন দিনের যেসব ঘটনা, এগুলোতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে ভারত বিভিন্ন স্থলবন্দর বন্ধ করে দিয়ে, গত মে মাসে বাংলাদেশ থেকে আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে, তার ফলে আমাদের রফতানি কমেছে। কিন্তু আমরা সে ধরনের কাউন্টার মেজারস নেইনি।’
এ সময় ভারতে পাট রফতানি বন্ধের পদক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সেটি আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ও জোগান ঠিক রাখার জন্য করা হয়েছে। অন্য একটি দেশকে ক্ষতি করার জন্য কিছু করা হয়নি। আমাদের নীতিগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে নেয়া, আরেকটা দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য নয়।’
মানবজমিনের একটি শিরোন “বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচ আয়োজনে আগ্রহী পাকিস্তান”
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর এক মাসও বাকি নেই। তার আগে বৈশ্বিক এই আসরে ভারতে গিয়ে খেলতে রাজি নয় বাংলাদেশ। নিজেদের এই অনড় অবস্থান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চিঠি লিখে আইসিসিকে জানিয়ে দিয়েছে। এরই মধ্যে আইসিসিও প্রথম দফায় বাংলাদেশকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে। সিদ্ধান্তে অনড় থেকে ফের আইসিসিকে চিঠি দিয়ে যখন অপেক্ষায় বিসিবি- তখনই দৃশ্যপটে হাজির পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তানের জিও টিভির এক খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দলের ম্যাচগুলো আয়োজন করার আগ্রহ দেখিয়েছে পিসিবি।
ঘটনার সূত্রপাত উগ্রবাদীদের চাপের মুখে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে। এর জের ধরে বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের টানাপড়েনটা ক্রিকেট ছাপিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে চলে গেছে। কেকেআর, আইপিএল বা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) মোস্তাফিজকে বাদ দেয়ার কোনো নির্দিষ্ট কারণ বলেনি। তবে এর পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি বাংলাদেশও। এরই মধ্যে বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে আইসিসিকে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছে- ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গতকাল গুজরাটের বরোদরায় বিসিসিআই কর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছে আইসিসি’র চেয়ারম্যান জয় শাহর। এরই মধ্যে পিসিবি’র দায়িত্বশীল একটি সূত্র পাকিস্তানের জিও নিউজকে বলেছে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে পাকিস্তানের মাঠগুলো ‘প্রস্তুত ও পুরোপুরি সজ্জিত’। শ্রীলঙ্কার ভেন্যু পাওয়া না গেলে বিকল্প হিসেবে পাকিস্তান এগিয়ে আসতে পারে।
পিসিবি মনে করে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা বেশ সফলতার সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২৫ ও নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব আয়োজন করে সবার আস্থা অর্জন করেছে। পিসিবি’র দাবি, আইসিসি চাইলে তারা সহজেই বাংলাদেশ দলের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে পারবে। পাকিস্তানের সব ভেন্যুই প্রস্তুত আছে। পিসিবি এ ব্যাপারে আইসিসিকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রস্তাব না দিলেও বিসিবি’র ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ না খেলার অবস্থানকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড সমর্থন জানাচ্ছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। বর্তমান সূচি অনুযায়ী, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম তিনটি গ্রুপ ম্যাচ হওয়ার কথা কলকাতায়, আর শেষ ম্যাচটি মুম্বইয়ে।
নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যে নতুন মোড় নিলো ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ প্রসঙ্গ। ভারতের মাটিতে নির্ধারিত বাংলাদেশের ম্যাচগুলো নিজেদের দেশে আয়োজন করার প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘প্রো-পাকিস্তানি’র এক প্রতিবেদনে গতকাল এই তথ্য জানায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) কে জানিয়েছে, যদি বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কা অনুপযোগী থাকে, তবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো আয়োজনে পাকিস্তান পুরোপুরি প্রস্তুত। পিসিবি মনে করে, স্বল্প সময়ের নোটিশেও বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের মতো প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা তাদের রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আয়োজনের অভিজ্ঞতায় পাকিস্তান নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে চায়।
সারাক্ষণ ডেস্ক 

















