০৬:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট বার্তা: গুরুতর অপরাধ না থাকলে ছাত্র আন্দোলনের মামলায় এফআইআর প্রত্যাহার করা যাবে ইন্দোনেশিয়ার ‘লিটল টেক্সাসে’ এখনো চলে পুরোনো পদ্ধতিতে তেল উত্তোলন বন্দর যখন যুদ্ধক্ষেত্র: নতুন ভূরাজনীতির সবচেয়ে বড় লক্ষ্য এখন আস্থার নিরাপত্তা আমাজনের বনের গভীরে লুকিয়ে থাকা হাজার বছরের রহস্য, লেজারে মিলল প্রাচীন সভ্যতার বিস্ময়কর নিদর্শন দক্ষিণ কোরিয়া–যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন বিভ্রাটের কারণ ছিল যোগাযোগের ভুল বন ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতায় ভয়াবহ দাবানল, ফ্রান্সে কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ডে প্রশ্নের মুখে প্রশাসন ইরানের নতুন কৌশল, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়াতে সক্রিয় মিত্র গোষ্ঠীগুলো মোদির অজেয়তার মিথ ভাঙছে, নাকি ভারতীয় গণতন্ত্রের নতুন জাগরণ? বিষাক্ত উলফসবেইন ও লার্কস্পার ফুলেই নতুন ওষুধের সম্ভাবনা, ব্যথা-ক্যানসার-ম্যালেরিয়া চিকিৎসায় আশার আলো আগস্টে আকাশজুড়ে মহাজাগতিক বিস্ময়: দুই গ্রহণ, পারসিড উল্কাবৃষ্টি ও বিরল গ্রহ-চাঁদের যুগল দৃশ্য

ইরানে গণবিক্ষোভে রক্তক্ষয়, যুক্তরাষ্ট্রে হামলার হুঁশিয়ারি, ইসরায়েল প্রস্তুত

ইরানে নজিরবিহীন গণবিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। টানা ষাট ঘণ্টার বেশি সময় যোগাযোগ প্রায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন থাকার পরও রাজধানী তেহরান ও ধর্মীয় শহর মাশহাদসহ বিভিন্ন নগরে রাতভর রাস্তায় নেমেছেন হাজারো মানুষ। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালীবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায়, তবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও নৌযান বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের আশঙ্কায় ইসরায়েল সেনাবাহিনীকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার মধ্যেও বিক্ষোভ
দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও বিক্ষোভ থামেনি। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, জ্বলন্ত যানবাহন, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ এবং হাসপাতাল ও মর্গে স্বজনদের আহাজারি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাতে রাস্তায় ছিল বিপুল মানুষের ঢল।

মানবাধিকার সংগঠনের সতর্কবার্তা
ইরানভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠনগুলো জানিয়েছে, দেশজুড়ে একটি গণহত্যা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে তারা বলছে, শত শত মানুষ নিহত হতে পারে। আরেকটি মানবাধিকার সংগঠন অন্তত একশ বিয়ানব্বই জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে, তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হাসপাতালে ভয়াবহ দৃশ্য
তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের হাসপাতালগুলোতে আহত ও নিহতদের ভিড় সামলানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসাকর্মীরা। একাধিক হাসপাতালে জায়গার অভাবে মরদেহ স্তূপ করে রাখতে হয়েছে। এক চিকিৎসক জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি সরাসরি তরুণদের মাথা ও বুকে লাগছে। রক্তের সংকটও তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

বিক্ষোভের রূপান্তর
দুই সপ্তাহ আগে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশ শাসনকারী ধর্মীয় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিস্তৃত আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। রাস্তায় নামা মানুষের মুখে শোনা যাচ্ছে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ। এক মধ্যবয়সী নারী রক্তাক্ত অবস্থায়ও বলছেন, তিনি ভয় পান না, বহু বছর ধরেই তিনি নিজেকে মৃত মনে করেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রসঙ্গ
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প জানানো হয়েছে। যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবু বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছে, ট্রাম্প যা বলেন, তা বাস্তবায়নে তিনি প্রস্তুত। এর জবাবে ইরান বলছে, যেকোনো হামলার জবাব হবে তাৎক্ষণিক ও ব্যাপক।

সরকারের অবস্থান
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার স্বীকার করলেও সতর্ক করে বলেছেন, দাঙ্গাকারীদের সমাজ অচল করতে দেওয়া হবে না। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর হতাহতের খবরই বেশি প্রচার করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট বার্তা: গুরুতর অপরাধ না থাকলে ছাত্র আন্দোলনের মামলায় এফআইআর প্রত্যাহার করা যাবে

ইরানে গণবিক্ষোভে রক্তক্ষয়, যুক্তরাষ্ট্রে হামলার হুঁশিয়ারি, ইসরায়েল প্রস্তুত

০৪:৫০:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে নজিরবিহীন গণবিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। টানা ষাট ঘণ্টার বেশি সময় যোগাযোগ প্রায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন থাকার পরও রাজধানী তেহরান ও ধর্মীয় শহর মাশহাদসহ বিভিন্ন নগরে রাতভর রাস্তায় নেমেছেন হাজারো মানুষ। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালীবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায়, তবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও নৌযান বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের আশঙ্কায় ইসরায়েল সেনাবাহিনীকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার মধ্যেও বিক্ষোভ
দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও বিক্ষোভ থামেনি। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, জ্বলন্ত যানবাহন, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ এবং হাসপাতাল ও মর্গে স্বজনদের আহাজারি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাতে রাস্তায় ছিল বিপুল মানুষের ঢল।

মানবাধিকার সংগঠনের সতর্কবার্তা
ইরানভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠনগুলো জানিয়েছে, দেশজুড়ে একটি গণহত্যা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে তারা বলছে, শত শত মানুষ নিহত হতে পারে। আরেকটি মানবাধিকার সংগঠন অন্তত একশ বিয়ানব্বই জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে, তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হাসপাতালে ভয়াবহ দৃশ্য
তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের হাসপাতালগুলোতে আহত ও নিহতদের ভিড় সামলানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসাকর্মীরা। একাধিক হাসপাতালে জায়গার অভাবে মরদেহ স্তূপ করে রাখতে হয়েছে। এক চিকিৎসক জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি সরাসরি তরুণদের মাথা ও বুকে লাগছে। রক্তের সংকটও তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

বিক্ষোভের রূপান্তর
দুই সপ্তাহ আগে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশ শাসনকারী ধর্মীয় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিস্তৃত আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। রাস্তায় নামা মানুষের মুখে শোনা যাচ্ছে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ। এক মধ্যবয়সী নারী রক্তাক্ত অবস্থায়ও বলছেন, তিনি ভয় পান না, বহু বছর ধরেই তিনি নিজেকে মৃত মনে করেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রসঙ্গ
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প জানানো হয়েছে। যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবু বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছে, ট্রাম্প যা বলেন, তা বাস্তবায়নে তিনি প্রস্তুত। এর জবাবে ইরান বলছে, যেকোনো হামলার জবাব হবে তাৎক্ষণিক ও ব্যাপক।

সরকারের অবস্থান
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার স্বীকার করলেও সতর্ক করে বলেছেন, দাঙ্গাকারীদের সমাজ অচল করতে দেওয়া হবে না। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর হতাহতের খবরই বেশি প্রচার করা হচ্ছে।