১২:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
সিএনএনের জনক টেড টার্নার আর নেই, ২৪ ঘণ্টার সংবাদযুগের পথিকৃৎকে বিদায় বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর সীমান্তে সতর্ক বিজিবি, ‘পুশ-ইন’ ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি বক্স অফিসের নায়ক থেকে তামিল রাজনীতির বিস্ময়, কীভাবে ‘থালাপতি’ বিজয় বদলে দিলেন তামিলনাড়ুর সমীকরণ ক্রেনশর পথ ও “আন্তঃসংযোগ”-এর জন্ম চীনা কোম্পানির বৈশ্বিক আয় রেকর্ডে, শীর্ষে ফক্সকন ও বিওয়াইডি ভারসাম্যের কূটনীতিতে ভারত-ভিয়েতনাম ঘনিষ্ঠতা, সুপারপাওয়ার নির্ভরতা কমানোর বার্তা চিপ জুয়ার ধস: এআই বুমের মাঝেই শেনজেনের ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি ইউয়ান গায়েব মধ্যবিত্ত পৃথিবীর শেষ আশ্রয়: বারো বছরের কিশোরীরা কেন এখনও ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছে চীনের ক্ষোভ, ৮০ বছর পর বিদেশে ‘অফেনসিভ’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল জাপান

সম্পদ সংকটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি কমাল এনইসি, ছাঁটাই ৩০ হাজার কোটি টাকা

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ বা এনইসি চলতি অর্থবছর ২০২৫–২৬ সালের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন দিয়েছে। সংশোধিত এই কর্মসূচির মোট আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা, যা আগের প্রস্তাবিত বরাদ্দের তুলনায় ৩০ হাজার কোটি টাকা কম। অর্থনৈতিক বাস্তবতা, সম্পদের সীমাবদ্ধতা ও সামষ্টিক অর্থনীতির চাপ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশোধিত এডিপি অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সোমবার এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ও এনইসির চেয়ারপারসন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

সংশোধিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা। স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের প্রকল্প যুক্ত হয়ে মোট সংশোধিত এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা।

এই ২ লাখ কোটি টাকার মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসবে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে আসবে ৭২ হাজার কোটি টাকা। আগের এডিপির সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, অভ্যন্তরীণ উৎসের বরাদ্দ কমেছে ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা কমেছে ১৪ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মোট কাটছাঁটের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা।

স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনগুলোর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, যার বড় অংশই অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে জোগান দেওয়া হবে।

সংশোধিত এডিপিতে মোট ১ হাজার ৩৩০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ১০৮টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ৩৫টি সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্প, ১২১টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনগুলোর নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নযোগ্য ৬৬টি প্রকল্প। এসব প্রকল্পের মধ্যে ২৮৬টি আগামী ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

এ কর্মসূচির আওতায় জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে ১৭০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা পরিবেশ ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের গুরুত্বের ইঙ্গিত দেয়।

খাতভিত্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে পরিবহন ও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, আবাসন ও কমিউনিটি সুবিধা, শিক্ষা এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এসব খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ১১৮ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ৬০ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এরপর রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং বিদ্যুৎ বিভাগ। উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ পেয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, সেতু বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়।

সংশোধিত এডিপিতে নতুন ও অনুমোদনহীন প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বরাদ্দবিহীন ৮৫৬টি নতুন অননুমোদিত প্রকল্প, বৈদেশিক সহায়তা সহজ করতে ১৫৭টি অননুমোদিত প্রকল্প, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৩৫টি নতুন প্রকল্প এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতায় ৮১টি প্রকল্প।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংশোধিত এই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি আনবে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে মানবসম্পদ উন্নয়ন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, দারিদ্র্য বিমোচন ও সামগ্রিক সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এনইসির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিবরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিএনএনের জনক টেড টার্নার আর নেই, ২৪ ঘণ্টার সংবাদযুগের পথিকৃৎকে বিদায়

সম্পদ সংকটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি কমাল এনইসি, ছাঁটাই ৩০ হাজার কোটি টাকা

০৬:২৪:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ বা এনইসি চলতি অর্থবছর ২০২৫–২৬ সালের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন দিয়েছে। সংশোধিত এই কর্মসূচির মোট আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা, যা আগের প্রস্তাবিত বরাদ্দের তুলনায় ৩০ হাজার কোটি টাকা কম। অর্থনৈতিক বাস্তবতা, সম্পদের সীমাবদ্ধতা ও সামষ্টিক অর্থনীতির চাপ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশোধিত এডিপি অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সোমবার এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ও এনইসির চেয়ারপারসন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

সংশোধিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা। স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের প্রকল্প যুক্ত হয়ে মোট সংশোধিত এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা।

এই ২ লাখ কোটি টাকার মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসবে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে আসবে ৭২ হাজার কোটি টাকা। আগের এডিপির সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, অভ্যন্তরীণ উৎসের বরাদ্দ কমেছে ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা কমেছে ১৪ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মোট কাটছাঁটের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা।

স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনগুলোর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, যার বড় অংশই অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে জোগান দেওয়া হবে।

সংশোধিত এডিপিতে মোট ১ হাজার ৩৩০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ১০৮টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ৩৫টি সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্প, ১২১টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনগুলোর নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নযোগ্য ৬৬টি প্রকল্প। এসব প্রকল্পের মধ্যে ২৮৬টি আগামী ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

এ কর্মসূচির আওতায় জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে ১৭০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা পরিবেশ ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের গুরুত্বের ইঙ্গিত দেয়।

খাতভিত্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে পরিবহন ও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, আবাসন ও কমিউনিটি সুবিধা, শিক্ষা এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এসব খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ১১৮ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ৬০ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এরপর রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং বিদ্যুৎ বিভাগ। উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ পেয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, সেতু বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়।

সংশোধিত এডিপিতে নতুন ও অনুমোদনহীন প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বরাদ্দবিহীন ৮৫৬টি নতুন অননুমোদিত প্রকল্প, বৈদেশিক সহায়তা সহজ করতে ১৫৭টি অননুমোদিত প্রকল্প, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৩৫টি নতুন প্রকল্প এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতায় ৮১টি প্রকল্প।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংশোধিত এই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি আনবে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে মানবসম্পদ উন্নয়ন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, দারিদ্র্য বিমোচন ও সামগ্রিক সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এনইসির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিবরা।