গুজরাটের গির সোমনাথে অবস্থিত পবিত্র সোমনাথ মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, সোমনাথের ইতিহাস ধ্বংসের বেদনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই ইতিহাস আসলে বিশ্বাস, সাহস, আত্মমর্যাদা ও বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর এক হাজার বছরের জীবন্ত সাক্ষ্য।
শনিবার মন্দিরে প্রার্থনা শেষে সদ্ভাবনা ময়দানে জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এই উৎসব শুধু এক হাজার বছর আগের আঘাত স্মরণ করার জন্য নয়। এটি একটি দীর্ঘ যাত্রার উদযাপন, যা ভারতের অস্তিত্ব, আত্মপরিচয় ও গৌরবের প্রতীক।
ভারত ও সোমনাথের অভিন্ন সংগ্রাম
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের ইতিহাস আর সোমনাথের ইতিহাস যেন একই সুতোয় গাঁথা। যেমনভাবে সোমনাথকে বারবার ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছে, তেমনি বিদেশি আক্রমণকারীরা ভারতের ভিত্তি নড়বড়ে করতে চেয়েছে। কিন্তু সোমনাথ যেমন টিকে আছে, ভারতও তেমনি অটুট থেকেছে। কারণ ভারতের আত্মা ও বিশ্বাস একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

এক হাজার বছরের পুনর্গঠনের ধারাবাহিকতা
ইতিহাস স্মরণ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, এক হাজার ছাব্বিশ সালে মাহমুদ গজনী সোমনাথ আক্রমণ করেছিলেন এবং ভেবেছিলেন সব শেষ। কিন্তু অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই মন্দির আবার গড়ে ওঠে। দ্বাদশ শতকে রাজা কুমারপাল সোমনাথকে নতুন মহিমায় প্রতিষ্ঠিত করেন। ত্রয়োদশ শতকে আলাউদ্দিন খিলজির আক্রমণের সময় জালোরের রানা কুম্ভা প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে জুনাগড়ের রাজারা আবার মন্দির পুনর্গঠন করেন।
পঞ্চদশ শতকের শেষ ভাগে সুলতান আহমদ শাহ ও তার নাতি মাহমুদ বেগড়া মন্দিরের চরিত্র বদলাতে চেয়েছিলেন। তবুও ভক্তদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সোমনাথ পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়ায়। সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকে আওরঙ্গজেবের আঘাতের পরও আহিল্যাবাই হোলকার আবার এই পবিত্র স্থাপনার পুনর্গঠন করেন।

হার নয়, শক্তির প্রতীক
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সোমনাথের কাহিনি হারানোর নয়, শক্তি ও দৃঢ়তার কাহিনি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আক্রমণ এসেছে, কিন্তু প্রতিটি যুগে মানুষ ধৈর্য, সৃজনশীলতা ও বিশ্বাস দিয়ে মন্দিরকে আবার দাঁড় করিয়েছে। বিশ্ব ইতিহাসে এমন উদাহরণ খুবই বিরল।
সোমনাথ নামের গভীর তাৎপর্য
সোমনাথ নামের ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সোম অর্থ অমরত্ব। যারা তরবারির জোরে সোমনাথকে পরাজিত করতে চেয়েছিল, তারা বুঝতে পারেনি যে এখানে নিহিত রয়েছে শাশ্বত শক্তি। মহাদেবের আরেক নাম মৃত্যুঞ্জয়, যিনি মৃত্যুকে জয় করেছেন। তাই শিব সর্বত্র বিরাজমান, প্রতিটি কণায় তাঁর উপস্থিতি।

ইতিহাসে হারিয়ে গেছে আক্রমণকারীরা
নরেন্দ্র মোদি বলেন, সময় প্রমাণ করেছে সত্য কোথায়। যারা ধর্মান্ধতায় সোমনাথ ধ্বংস করতে এসেছিল, তারা আজ ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ। আর সোমনাথ মন্দির আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, অটুট বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















