চলতি অর্থবছরেও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ধীরই থাকবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। ওই বৈঠকে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন দেওয়া হয়।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, গত বছর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে যে ধীরগতি দেখা গিয়েছিল, তা সাময়িক হবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সেই ধারা এ বছরও অব্যাহত রয়েছে। যদিও প্রকল্পের মান আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে, তবে সামগ্রিক উন্নয়ন ব্যয় কাঙ্ক্ষিত হারে এগোতে পারেনি।
তার মতে, কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা উন্নয়ন ব্যয় সীমিত করে রেখেছে। সরকার প্রকল্পের গুণগত মান ও জবাবদিহির ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এই সংস্কারমূলক উদ্যোগগুলো প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি কিছুটা কমিয়ে দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা প্রয়োজনীয়।
সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা, যা মূল বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কম। পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, এটি উন্নয়ন প্রয়োজনের ঘাটতির প্রতিফলন নয়, বরং বাস্তবায়নযোগ্য ও প্রস্তুত প্রকল্পের অভাবের ইঙ্গিত।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা অর্থনৈতিক গতি ফিরিয়ে আনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চ সুদের হার এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ঋণের সীমাবদ্ধতাও বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধিকে ধীর করেছে। বিশেষ করে যেসব খাত প্রবাসী আয়ের ওপর কম নির্ভরশীল, সেগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উন্নয়ন প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের দুর্বলতার কথাও স্বীকার করেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, দক্ষ প্রকল্প পরিচালক সংকট, বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং ব্যয় বৃদ্ধির মতো সমস্যা নিয়মিত দেখা যায়। এসব সমস্যা মোকাবিলায় পরিকল্পনা ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার জন্য প্রশিক্ষিত সরকারি কর্মকর্তাদের একটি বিশেষ তালিকা গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ।
এ ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে নেওয়া ৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের সব প্রকল্প এখন থেকে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির অনুমোদন ছাড়া বাস্তবায়ন করা যাবে না। এর মাধ্যমে জবাবদিহি বাড়ানো এবং অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
নতুন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর শর্ত আরোপের কথাও জানান তিনি। অগ্রগতি প্রতিবেদন ও স্বাধীন মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে শুরুতে বাস্তবায়নের গতি কিছুটা কমতে পারে, তবে এতে প্রকল্পের মান বাড়বে এবং অপচয় কমবে বলে তিনি মনে করেন।
ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার বিস্তার নিয়েও কথা বলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদ্ধতি চালুর ফলে শুরুতে কিছুটা ধীরগতি দেখা গেলেও স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বেড়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল দেবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















