জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বিশেষ অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে।
বৈঠকের প্রেক্ষাপট
সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসি সদর দপ্তরে আয়োজিত এই বিশেষ অধিবেশনের ফাঁকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আলোচনায় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় উঠে আসে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে সন্তোষ
বৈঠকে উভয় পক্ষই বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের বর্তমান দৃঢ়তা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেন।
আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও ওআইসি উদ্যোগ
ওআইসি মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকের আগেও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। সেখানে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় হয় এবং ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বিশেষ অধিবেশন সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসিত হয়।
সোমালিয়া পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা
শনিবার জেদ্দায় ওআইসি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল সোমালিয়া ফেডারেল প্রজাতন্ত্রে দ্রুত পরিবর্তনশীল ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা। বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, যখন দখলদার শক্তি হিসেবে পরিচিত ইসরায়েল তথাকথিত ‘সোমালিল্যান্ড’ অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এই পদক্ষেপকে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঐক্যবদ্ধ অবস্থান
বিশেষ বৈঠকে এসব বিষয়ে মুসলিম বিশ্বের একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন, প্রযোজ্য চুক্তি ও ওআইসির সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের আলোকে সোমালিয়া ফেডারেল প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















