০২:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞার রাজ্যগুলোতে ওষুধের ব্যবহার রেকর্ড উচ্চতায়, কমছে অন্য রাজ্যে ভ্রমণ শিল্প, প্রতারণা আর প্রতিশোধের গল্প: ‘দ্য ক্রিস্টোফারস’-এ ভিন্ন এক মানসিক লড়াই কোচেল্লায় গোপনে হাজির টিমোথি, কাইলির পাশে ধরা পড়লেন অবশেষে নতুন জীবাশ্ম আবিষ্কারে বদলে যেতে পারে বানরের উৎপত্তির ধারণা তুসনের দরজায় প্রকৃতির হাতছানি, মরুভূমি থেকে পাহাড়—অভিযানের অনন্য গন্তব্য বাংলাদেশের অর্থবাজারে বড় পরিবর্তন: লেনদেনভিত্তিক সুদের হার চালু করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন কমেছে ২৫-৩০ শতাংশ, জরুরি সরকারি সহায়তা চায় বিজিএমইএ মার্চে শেয়ারবাজার ধস, ডিএসইএক্স সূচকে বড় পতন বাখের অজানা সুরের গভীরতা: নতুনভাবে ফিরে আসছে ‘ক্লাভিয়ার-উবুং থ্রি’ চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে দিনাজপুর মেডিক্যালে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি, জরুরি সেবায় ব্যাঘাত

গাজায় এমএসএফ ছাড়া চিকিৎসার আশঙ্কা, ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞায় দিশাহারা রোগী ও পরিবার

গাজার হাসপাতালগুলোর ভেতরে এখন আতঙ্কের ছায়া। ইসরায়েলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আগামী মার্চ থেকে গাজা উপত্যকায় কাজ বন্ধ করতে হতে পারে চিকিৎসা সহায়তাকারী সংস্থা এমএসএফকে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে বিধ্বস্ত গাজায় এমএসএফকে আঁকড়ে ধরেই বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ।

নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
গত মাসে ইসরায়েল ঘোষণা দেয়, গাজায় কাজ করা সাতত্রিশটি ত্রাণ সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ করা হবে। অভিযোগ করা হয়, এসব সংস্থা তাদের ফিলিস্তিনি কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। এই তালিকায় এমএসএফও রয়েছে। ইসরায়েলের সংশ্লিষ্ট দপ্তর দাবি করেছে, এমএসএফের দুই কর্মীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর যোগাযোগ রয়েছে। তবে এমএসএফ এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। সিদ্ধান্তের পরপরই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, এতে গাজায় খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

Image

হাসপাতালের ভেতরে রোগীদের অসহায়তা
দক্ষিণ গাজার নাসের হাসপাতালে এখনও এমএসএফের কর্মীরা শিশুদের পোড়া ক্ষত, বোমার আঘাত ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে সবার মুখে একই প্রশ্ন, এই সেবা কি আর থাকবে। বোমা বিস্ফোরণে আহত এক শিশু রোগী জানায়, যুদ্ধের পুরো সময় এমএসএফ তাদের পাশে ছিল। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে সে খুব কষ্ট পাবে। আরেক বৃদ্ধা নানি তার চিকিৎসাধীন নাতিকে নিয়ে বলেন, ধারাবাহিক চিকিৎসা না পেলে তার সুস্থ হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

এমএসএফের ভূমিকা ও বাস্তবতা
এমএসএফ জানিয়েছে, বর্তমানে গাজায় হাসপাতালের অন্তত এক-পঞ্চমাংশ শয্যা তাদের তত্ত্বাবধানে। প্রায় বিশটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু রয়েছে তাদের ব্যবস্থাপনায়। গত বছরেই তারা লক্ষাধিক চিকিৎসা পরামর্শ দিয়েছে এবং হাজারের বেশি প্রসব করিয়েছে। শুধু চিকিৎসাই নয়, যুদ্ধক্লান্ত মানুষের জন্য নিরাপদ পানিও সরবরাহ করছে সংস্থাটি। এমএসএফের এক কর্মকর্তা বলেন, এই কাজগুলো অন্য কোনো সংস্থার পক্ষে হঠাৎ করে সামাল দেওয়া প্রায় অসম্ভব।

Image

যুদ্ধের চাপ ও বাড়তে থাকা সংকট
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজার বহু চিকিৎসাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও বিদ্যুৎ নেই, কোথাও পানি ও জ্বালানির সংকট। আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া জরুরি চিকিৎসা, মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশু চিকিৎসা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন বিদেশি সহায়তা কর্মীকে গাজায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ফলে সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
এমএসএফের দায়িত্বশীলরা বলছেন, যতদিন সম্ভব তারা কাজ চালিয়ে যাবেন। তবে নতুন কর্মী ও সরঞ্জাম প্রবেশে বাধা থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে। গাজার রোগী ও তাদের পরিবারগুলোর ভয় একটাই, এমএসএফ চলে গেলে শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞার রাজ্যগুলোতে ওষুধের ব্যবহার রেকর্ড উচ্চতায়, কমছে অন্য রাজ্যে ভ্রমণ

গাজায় এমএসএফ ছাড়া চিকিৎসার আশঙ্কা, ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞায় দিশাহারা রোগী ও পরিবার

০৬:৫৬:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

গাজার হাসপাতালগুলোর ভেতরে এখন আতঙ্কের ছায়া। ইসরায়েলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আগামী মার্চ থেকে গাজা উপত্যকায় কাজ বন্ধ করতে হতে পারে চিকিৎসা সহায়তাকারী সংস্থা এমএসএফকে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে বিধ্বস্ত গাজায় এমএসএফকে আঁকড়ে ধরেই বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ।

নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
গত মাসে ইসরায়েল ঘোষণা দেয়, গাজায় কাজ করা সাতত্রিশটি ত্রাণ সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ করা হবে। অভিযোগ করা হয়, এসব সংস্থা তাদের ফিলিস্তিনি কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। এই তালিকায় এমএসএফও রয়েছে। ইসরায়েলের সংশ্লিষ্ট দপ্তর দাবি করেছে, এমএসএফের দুই কর্মীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর যোগাযোগ রয়েছে। তবে এমএসএফ এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। সিদ্ধান্তের পরপরই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, এতে গাজায় খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

Image

হাসপাতালের ভেতরে রোগীদের অসহায়তা
দক্ষিণ গাজার নাসের হাসপাতালে এখনও এমএসএফের কর্মীরা শিশুদের পোড়া ক্ষত, বোমার আঘাত ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে সবার মুখে একই প্রশ্ন, এই সেবা কি আর থাকবে। বোমা বিস্ফোরণে আহত এক শিশু রোগী জানায়, যুদ্ধের পুরো সময় এমএসএফ তাদের পাশে ছিল। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে সে খুব কষ্ট পাবে। আরেক বৃদ্ধা নানি তার চিকিৎসাধীন নাতিকে নিয়ে বলেন, ধারাবাহিক চিকিৎসা না পেলে তার সুস্থ হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

এমএসএফের ভূমিকা ও বাস্তবতা
এমএসএফ জানিয়েছে, বর্তমানে গাজায় হাসপাতালের অন্তত এক-পঞ্চমাংশ শয্যা তাদের তত্ত্বাবধানে। প্রায় বিশটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু রয়েছে তাদের ব্যবস্থাপনায়। গত বছরেই তারা লক্ষাধিক চিকিৎসা পরামর্শ দিয়েছে এবং হাজারের বেশি প্রসব করিয়েছে। শুধু চিকিৎসাই নয়, যুদ্ধক্লান্ত মানুষের জন্য নিরাপদ পানিও সরবরাহ করছে সংস্থাটি। এমএসএফের এক কর্মকর্তা বলেন, এই কাজগুলো অন্য কোনো সংস্থার পক্ষে হঠাৎ করে সামাল দেওয়া প্রায় অসম্ভব।

Image

যুদ্ধের চাপ ও বাড়তে থাকা সংকট
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজার বহু চিকিৎসাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও বিদ্যুৎ নেই, কোথাও পানি ও জ্বালানির সংকট। আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া জরুরি চিকিৎসা, মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশু চিকিৎসা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন বিদেশি সহায়তা কর্মীকে গাজায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ফলে সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
এমএসএফের দায়িত্বশীলরা বলছেন, যতদিন সম্ভব তারা কাজ চালিয়ে যাবেন। তবে নতুন কর্মী ও সরঞ্জাম প্রবেশে বাধা থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে। গাজার রোগী ও তাদের পরিবারগুলোর ভয় একটাই, এমএসএফ চলে গেলে শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে যাবে।