সিরীয় সরকারের বাহিনী আলেপ্পো শহরের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর রোববার পুরো শহরটি তাদের দখলে আসে। কয়েক দিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর কুর্দি যোদ্ধাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের স্বশাসিত কুর্দি এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়। সংঘর্ষ থামার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আশরাফিয়েহে ফিরে দেখা ধ্বংসের চিহ্ন
দুটি কুর্দি এলাকার মধ্যে প্রথমে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসা আশরাফিয়েহ মহল্লায় রোববার সকাল থেকেই মানুষের আনাগোনা দেখা যায়। ঘরে ফেরার পথে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশির পর অনেকেই ব্যাগ আর কম্বল হাতে নিজেদের বাড়িতে ঢুকছেন। কিন্তু রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা শার্পনেলের টুকরো আর ভাঙা কাচে স্পষ্ট সংঘর্ষের ভয়াবহতা। পোশাক ব্যবসায়ী ঊনপঞ্চাশ বছরের ইয়াহইয়া আল-সুফি জানান, সহিংসতা শুরু হলে তিনি পরিবার নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।

আলোচনার ভাঙনেই সহিংসতার সূত্রপাত
এই সহিংসতার শুরু সপ্তাহের শুরুতে, যখন কুর্দিদের বাস্তবিক স্বশাসিত প্রশাসন ও তাদের বাহিনীকে নতুন সিরীয় সরকারের কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা থমকে যায়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করে।
যোদ্ধা সরিয়ে নেওয়া ও গ্রেপ্তার নিয়ে বিতর্ক
সিরীয় নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, শেখ মাকসুদ এলাকা থেকে চার শতাধিক কুর্দি যোদ্ধাকে উত্তর-পূর্বের কুর্দি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে আহতদের পাশাপাশি নিহতের সংখ্যাও রয়েছে বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে আরও কয়েক শ কুর্দিকে আটক করা হয়েছে বলে সরকারি ভাষ্য। তবে মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে, আটক হওয়া অনেকেই যোদ্ধা নন, তারা বেসামরিক তরুণ।

কামিশলিতে ক্ষোভ আর প্রতিশোধের স্লোগান
উত্তর-পূর্বের কুর্দি শহর কামিশলিতে পৌঁছানো যোদ্ধাদের স্বাগত জানাতে জড়ো হওয়া মানুষের ভিড়ে আবেগের বিস্ফোরণ ঘটে। চোখের জল আর ক্ষোভের স্লোগানে তারা প্রতিশোধের অঙ্গীকার করেন। এক নারী বলেন, শেখ মাকসুদের জন্য, যোদ্ধা আর শহীদদের জন্য প্রতিশোধ নেওয়া হবে। ভিড়ের মধ্যে সরকারপ্রধান ও বিদেশি কূটনীতিকদের ছবি কেটে ফেলার দৃশ্যও দেখা যায়।
মধ্যস্থতায় সংঘর্ষ থামানোর দাবি
কুর্দি নেতৃত্বের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর মধ্যস্থতায় এই সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া হয়েছে, যাতে আলেপ্পোর কুর্দি জনগণের ওপর হামলা ও লঙ্ঘন বন্ধ করা যায়। তবে গ্রেপ্তার ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















