১০:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
এলপিজি আমদানিতে ২৭০ দিনের ঋণসুবিধা অনুমোদন, ডলার সংকট মোকাবিলায় নতুন সিদ্ধান্ত চট্টগ্রামে পুলিশ হত্যাকাণ্ড: ১০ জনের যাবজ্জীবন পর্যটনে গতির নতুন অধ্যায় আবুধাবি, ২০৩০ লক্ষ্য ছোঁয়ার পথে এগোচ্ছে আমিরাত ধস নামা আবর্জনার পাহাড়ে নিভছে আশার আলো, সেবুতে মৃতের সংখ্যা বাড়ল শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে হঠাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকে মির্জা আব্বাস মোংলায় খালেদা জিয়ার মাগফিরাত মাহফিলে হামলা, খাবার লুট, আহত দুই চার মিশনের প্রেস কর্মকর্তা প্রত্যাহার, দেশে ফেরার নির্দেশ সরকারের নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়: বদিউল আলম মজুমদার আগামী নির্বাচনে নারীদের সমর্থন জামায়াতের দিকে যাবে: শফিকুর রহমান কুসুমপুর বাজারে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ঘোষণায় উচ্ছেদ আতঙ্ক, উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা

সবাই রাস্তায় নেমেছে, দমন সত্ত্বেও ইরানে বিক্ষোভে অটল জনতা

চোখ জ্বালানো কাঁদানে গ্যাস, ভাঙা কণ্ঠে সরকারবিরোধী স্লোগান আর চারদিকের গাড়ির হর্নের শব্দের মধ্যে দিয়েই রাস্তায় নেমেছেন মজিদ। নিরাপত্তার কারণে ছদ্মনামে কথা বলা এই ইরানি নাগরিক জানান, কঠোর দমন অভিযান সত্ত্বেও মানুষ আবার আবার জড়ো হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ভবিষ্যৎ ভালো করতে গেলে ঝুঁকি নিয়েই রাস্তায় নামতে হচ্ছে, বাঁচব কি না জানা নেই, তবু যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।

মাশহাদ থেকে তেহরান, ছড়িয়ে পড়া আন্দোলন
পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদে শত শত মানুষের সঙ্গে রাস্তায় নামার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে মজিদ বলেন, পুলিশ ছত্রভঙ্গ করতে গুলি, কাঁদানে গ্যাস ও শটগান ব্যবহার করেছে। প্রথমে মানুষ সরে গেলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার জড়ো হয়ে ভোর পর্যন্ত অবস্থান করেছে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মুদ্রার তীব্র পতনের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী তেহরানসহ নানা শহরে রাতভর বিক্ষোভ হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে প্রাণহানির খবরও বাড়ছে।

মৃত্যু আর ক্ষোভের হিসাব
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দমন অভিযানে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। এর আগে কয়েক বছর আগে নারীর পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক এক তরুণীর হেফাজতে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে আন্দোলন হয়েছিল, সেবারও সহিংস দমন দেখা গিয়েছিল। এবার ক্ষোভের পরিসর আরও বিস্তৃত, কারণ অর্থনৈতিক সংকট এখন প্রায় সব শ্রেণির মানুষকে চেপে ধরেছে।

শেষ লড়াইয়ের অনুভূতি
মোবাইল দোকানি মজিদের মতে, এবারের আন্দোলন আলাদা। যাঁরা আগে চাপ অনুভব করেননি, তাঁরাও এখন সংকটে। তাঁর চোখে রাস্তায় নেমেছে পঞ্চাশোর্ধ্ব নারী, দোকানদার, দিনমজুর, তরুণ ও প্রবীণ—সবাই। ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে এটি শেষ লড়াই হতে পারে বলেও মনে করছেন তিনি, যদিও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থার রূপরেখা স্পষ্ট নয়। তাঁর কথায়, যে কেউ এলেও বর্তমান সরকারের মতো রক্তাক্ত হবে না—এটাই মানুষের বিশ্বাস।

অর্থনীতি ভাঙছে, ধর্মঘট বাড়ছে
পশ্চিমাঞ্চলীয় কেরমানশাহে এক দোকানি ধর্মঘটের অংশ হিসেবে দোকান বন্ধ রেখেছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাব অর্থনীতিকে ভেঙে দিয়েছে। কাজ করেও মুদ্রাস্ফীতি সামলানো যাচ্ছে না। কুর্দিস্তান প্রদেশের সাক্কেজে আরেক ব্যবসায়ী আরও তীব্র ও বিস্তৃত আন্দোলনের আভাস দিয়েছেন।

রাতে জানালা থেকে স্লোগান
তেহরানের এক বাসিন্দা জানান, রাতের বেলায় জানালা থেকে স্লোগান দেওয়া আবার ফিরেছে। তাঁর মতে, অসন্তোষের মাত্রা এখন সর্বোচ্চ। সরকার পক্ষ থেকে সংযমের আহ্বান ও কিছু পদক্ষেপের ঘোষণা এলেও বিক্ষোভকারীদের কাছে মূল দাবি একটাই—ব্যবস্থার অবসান। দুই সন্তানের এক মা আত্মীয়কে পাঠানো বার্তায় জানান, ইন্টারনেট বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, দোকানের সময় সীমিত হওয়ায় নিত্যপণ্য জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তবু আশার কথা একটাই—সবাই ভালো দিনের অপেক্ষায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

এলপিজি আমদানিতে ২৭০ দিনের ঋণসুবিধা অনুমোদন, ডলার সংকট মোকাবিলায় নতুন সিদ্ধান্ত

সবাই রাস্তায় নেমেছে, দমন সত্ত্বেও ইরানে বিক্ষোভে অটল জনতা

০৭:১১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

চোখ জ্বালানো কাঁদানে গ্যাস, ভাঙা কণ্ঠে সরকারবিরোধী স্লোগান আর চারদিকের গাড়ির হর্নের শব্দের মধ্যে দিয়েই রাস্তায় নেমেছেন মজিদ। নিরাপত্তার কারণে ছদ্মনামে কথা বলা এই ইরানি নাগরিক জানান, কঠোর দমন অভিযান সত্ত্বেও মানুষ আবার আবার জড়ো হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ভবিষ্যৎ ভালো করতে গেলে ঝুঁকি নিয়েই রাস্তায় নামতে হচ্ছে, বাঁচব কি না জানা নেই, তবু যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।

মাশহাদ থেকে তেহরান, ছড়িয়ে পড়া আন্দোলন
পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদে শত শত মানুষের সঙ্গে রাস্তায় নামার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে মজিদ বলেন, পুলিশ ছত্রভঙ্গ করতে গুলি, কাঁদানে গ্যাস ও শটগান ব্যবহার করেছে। প্রথমে মানুষ সরে গেলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার জড়ো হয়ে ভোর পর্যন্ত অবস্থান করেছে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মুদ্রার তীব্র পতনের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী তেহরানসহ নানা শহরে রাতভর বিক্ষোভ হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে প্রাণহানির খবরও বাড়ছে।

মৃত্যু আর ক্ষোভের হিসাব
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দমন অভিযানে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। এর আগে কয়েক বছর আগে নারীর পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক এক তরুণীর হেফাজতে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে আন্দোলন হয়েছিল, সেবারও সহিংস দমন দেখা গিয়েছিল। এবার ক্ষোভের পরিসর আরও বিস্তৃত, কারণ অর্থনৈতিক সংকট এখন প্রায় সব শ্রেণির মানুষকে চেপে ধরেছে।

শেষ লড়াইয়ের অনুভূতি
মোবাইল দোকানি মজিদের মতে, এবারের আন্দোলন আলাদা। যাঁরা আগে চাপ অনুভব করেননি, তাঁরাও এখন সংকটে। তাঁর চোখে রাস্তায় নেমেছে পঞ্চাশোর্ধ্ব নারী, দোকানদার, দিনমজুর, তরুণ ও প্রবীণ—সবাই। ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে এটি শেষ লড়াই হতে পারে বলেও মনে করছেন তিনি, যদিও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থার রূপরেখা স্পষ্ট নয়। তাঁর কথায়, যে কেউ এলেও বর্তমান সরকারের মতো রক্তাক্ত হবে না—এটাই মানুষের বিশ্বাস।

অর্থনীতি ভাঙছে, ধর্মঘট বাড়ছে
পশ্চিমাঞ্চলীয় কেরমানশাহে এক দোকানি ধর্মঘটের অংশ হিসেবে দোকান বন্ধ রেখেছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাব অর্থনীতিকে ভেঙে দিয়েছে। কাজ করেও মুদ্রাস্ফীতি সামলানো যাচ্ছে না। কুর্দিস্তান প্রদেশের সাক্কেজে আরেক ব্যবসায়ী আরও তীব্র ও বিস্তৃত আন্দোলনের আভাস দিয়েছেন।

রাতে জানালা থেকে স্লোগান
তেহরানের এক বাসিন্দা জানান, রাতের বেলায় জানালা থেকে স্লোগান দেওয়া আবার ফিরেছে। তাঁর মতে, অসন্তোষের মাত্রা এখন সর্বোচ্চ। সরকার পক্ষ থেকে সংযমের আহ্বান ও কিছু পদক্ষেপের ঘোষণা এলেও বিক্ষোভকারীদের কাছে মূল দাবি একটাই—ব্যবস্থার অবসান। দুই সন্তানের এক মা আত্মীয়কে পাঠানো বার্তায় জানান, ইন্টারনেট বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, দোকানের সময় সীমিত হওয়ায় নিত্যপণ্য জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তবু আশার কথা একটাই—সবাই ভালো দিনের অপেক্ষায়।