সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তীব্র প্রভাব আইনি প্রক্রিয়া ও বিচারব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব লারা ট্রাম্প। তাঁর মতে, ভাইরাল কনটেন্ট ও জনরোষ অনেক ক্ষেত্রে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ঘটনার ধারণা তৈরি করে দিচ্ছে, যা আইনের শাসনের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
তদন্তের আগেই জনমত গঠনের ঝুঁকি
দুবাইয়ে আয়োজিত এক বিলিয়ন ফলোয়ার্স সম্মেলনে ‘লারা ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথন: গণমাধ্যম ও প্রভাব’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি বলেন, আইনি ঘটনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচারব্যবস্থার। জনমতের আদালতে কোনো মামলার রায় হওয়া উচিত নয়। আবেগনির্ভর অনলাইন প্রচারণা মানুষকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে হস্তক্ষেপে উৎসাহিত করলে তা ভয়ংকর পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে।

আইন প্রণয়ন ও সামাজিক মাধ্যম
লারা ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আইন প্রণয়ন করে সংসদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়। কেউ কোনো আইনের সঙ্গে একমত না হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তা পরিবর্তনের চেষ্টা করা উচিত। প্রকাশ্য চাপ সৃষ্টি করে বা তদন্তে বাধা দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না।
গণমাধ্যম, সক্রিয়তা ও প্রভাবের সীমারেখা
বর্তমান গণমাধ্যম পরিবেশে প্রতিবেদন, সক্রিয়তা ও প্রভাবের সীমারেখা ঝাপসা হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সামাজিক মাধ্যম প্রতিক্রিয়াকে দায়িত্বের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যা বিভাজন, ভ্রান্ত তথ্য এবং চাপনির্ভর বয়ানকে উসকে দিচ্ছে। এর ফলে বাস্তব জীবনে ঝুঁকি বাড়ছে।
গণমাধ্যমে আস্থার সংকট
গণমাধ্যমের ওপর আস্থা কমে যাওয়ায় মানুষ বিকল্প তথ্যসূত্র খুঁজছে বলেও জানান লারা ট্রাম্প। স্বাধীন সাংবাদিক ও পডকাস্টাররা জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তবে প্রভাবের সঙ্গে জবাবদিহি ও যাচাইয়ের দায়িত্বও সমানভাবে থাকা প্রয়োজন।
স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা
তিনি বলেন, মানুষ এখন সত্যতা ও স্বচ্ছতা খুঁজছে। নিজের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে জানালে পাঠক বা দর্শক বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করতে পারেন। মতামতকে নিরপেক্ষতার আড়ালে উপস্থাপন না করাই বেশি গ্রহণযোগ্য।
![]()
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ভুয়া কনটেন্টের উদ্বেগ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও বাস্তব থেকে আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে উদ্বেগ জানান তিনি। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এর অপব্যবহার মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ বিষয়ে বিচক্ষণ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।
জনজীবন ও দায়িত্ববোধ
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে লারা ট্রাম্প বলেন, সমালোচনা ও ব্যক্তিগত আক্রমণ জনজীবনের অংশ। তবে অনলাইন বৈরিতা আচরণ নির্ধারণ বা কণ্ঠরোধ করার কারণ হওয়া উচিত নয়। উদ্দেশ্যের ওপর মনোযোগ রাখলেই দৃঢ়তা আসে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুত্রবধূ হিসেবে তাঁর অবস্থান অনেক সময় তাঁর বক্তব্য গ্রহণের ধরন প্রভাবিত করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার সঙ্গে দায়িত্বশীল আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি জোর দিয়ে বলেন।
এই আলোচনা ছিল এক বিলিয়ন ফলোয়ার্স সম্মেলনের অংশ, যা জানুয়ারি মাসে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়। কনটেন্টের ইতিবাচক ব্যবহারকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সম্মেলনে সৃষ্টিশীল কনটেন্ট নির্মাতা, গণমাধ্যম নেতা ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















