ভোলায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের পর ভুল রক্ত সঞ্চালনের অভিযোগে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই নারীর নাম লামিয়া, বয়স উনিশ বছর। তিনি ভোলা পৌরসভার ওয়েদার অফিস রোড এলাকার বাসিন্দা মো. শরিফের স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্র জানায়, গর্ভকালীন জটিলতার কারণে গত সাত জানুয়ারি লামিয়াকে ভোলা শহরের বন্ধন হেলথ কেয়ারে ভর্তি করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও ক্রসম্যাচিংয়ের জন্য ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বারোশ টাকা নিলেও সঠিকভাবে তা না করেই লামিয়াকে বি পজিটিভ রক্ত দেওয়া হয়। অথচ তার প্রকৃত রক্তের গ্রুপ ছিল ও পজিটিভ।
নিহতের ভগ্নিপতি মো. রাজিব জানান, রক্ত দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই লামিয়ার খিঁচুনি শুরু হয় এবং দ্রুত অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও দাবি করেন, হাসপাতালের দেওয়া মৃত্যুসনদে ভুল রক্ত সঞ্চালনজনিত জটিলতাকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা বন্ধন হেলথ কেয়ারে ভাঙচুর চালান এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ভোলা সদর মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, ভুল চিকিৎসার অভিযোগে নারীর মৃত্যুর পর ক্লিনিকে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















