বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পাকিস্তান রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দীর্ঘ ২৩ বছর একসঙ্গে থাকার সময় পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে ন্যায়সংগত আচরণ করেনি। সেই বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে নীরব প্রতিরোধ, যার প্রকাশ ঘটে সত্তরের নির্বাচনে। পরবর্তী সময়ে সেই নির্বাচনই মুক্তিযুদ্ধের পথ তৈরি করে এবং অগণিত আত্মত্যাগ ও ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতার জন্ম হয়।
সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা
সোমবার রাতে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জটিল সময়গুলোতে সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে দেশ বড় ধরনের সংঘাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। বিশেষ করে আগস্টের ৩, ৪ ও ৫ তারিখের ঘটনাপ্রবাহে সশস্ত্র বাহিনীর অবস্থান না থাকলে আজকের বাংলাদেশ ভিন্ন চিত্রে দেখা যেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের মাস্টারমাইন্ড পুরো জাতি
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পেছনে কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। তাঁর মতে, ইতিহাসের সেই মহান অধ্যায়ের নায়ক পুরো জাতি ও বিপ্লবী জনগণ। পরিবর্তন, গণঅভ্যুত্থান কিংবা বিপ্লবের কৃতিত্ব কোনো দল নিজের নামে দাবি করতে পারে না; বরং এটি সম্মিলিত জনগণের অর্জন।
সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি
নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, এমন নির্বাচন প্রয়োজন যেখানে ভোটাররা ভয়ভীতি ছাড়া ভোট দিতে পারবেন। জনগণ যাকে ইচ্ছা ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা পাবে এবং সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। অতীতের মতো সমঝোতার নির্বাচন আর গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ শোষণ ও বৈষম্যের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যতের রাজনীতিতে ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও পারস্পরিক আস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, উপমহাদেশ প্রায় ১৯০ বছরের শোষণমূলক দাসত্ব ভেঙে স্বাধীনতা লাভ করলেও পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ কখনোই পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকদের কাছ থেকে ন্যায্য আচরণ পায়নি। সেই অবিচারের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিরোধই ছিল স্বাধীনতার প্রথম ধাপ, যা পরে সত্তরের নির্বাচন ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দেয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















