০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬
আলিসা লিউ ও আইলিন গু: দুই দেশের আয়নায় প্রতিচ্ছবি মানুষ ৪০ হাজার বছর আগে লিখতে শিখেছিলো কেন পর্যাপ্ত ঘুমের পরও অনেকেই সারাক্ষণ ক্লান্ত বোধ করেন গুচির দেহমোহে বাজি, নব্বই দশকের ঝলক ফেরাতে ডেমনার সাহসী প্রদর্শনী জাপানের ধনীদের দিকে ঝুঁকছে কেকেআর ও ব্ল্যাকস্টোন, মার্কিন বেসরকারি সম্পদ বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই নতুন কৌশল মুন দুবাই কি সত্যিই বাস্তব হচ্ছে? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন প্রতিষ্ঠাতারা সাউথ চায়না সি আচরণবিধি ২০২৬-এর মধ্যে সম্ভব নয়: বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা আগের ধস কাটিয়ে শুরুতেই ঘুরে দাঁড়াল ডিএসই ও সিএসই সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রেস ক্লাব সভাপতির ওপর হামলা, আটক ২ সিরাজগঞ্জে সেচ নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৯

পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের প্রতি ন্যায্য আচরণ করেনি: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পাকিস্তান রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দীর্ঘ ২৩ বছর একসঙ্গে থাকার সময় পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে ন্যায়সংগত আচরণ করেনি। সেই বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে নীরব প্রতিরোধ, যার প্রকাশ ঘটে সত্তরের নির্বাচনে। পরবর্তী সময়ে সেই নির্বাচনই মুক্তিযুদ্ধের পথ তৈরি করে এবং অগণিত আত্মত্যাগ ও ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতার জন্ম হয়।

সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা

সোমবার রাতে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জটিল সময়গুলোতে সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে দেশ বড় ধরনের সংঘাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। বিশেষ করে আগস্টের ৩, ৪ ও ৫ তারিখের ঘটনাপ্রবাহে সশস্ত্র বাহিনীর অবস্থান না থাকলে আজকের বাংলাদেশ ভিন্ন চিত্রে দেখা যেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কোনো ব্যক্তি বা দলকে অপমান না করার আহ্বান জামায়াত আমিরের | খবর | বাংলাদেশ  সংবাদ সংস্থা (বাসস)

মুক্তিযুদ্ধের মাস্টারমাইন্ড পুরো জাতি

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পেছনে কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। তাঁর মতে, ইতিহাসের সেই মহান অধ্যায়ের নায়ক পুরো জাতি ও বিপ্লবী জনগণ। পরিবর্তন, গণঅভ্যুত্থান কিংবা বিপ্লবের কৃতিত্ব কোনো দল নিজের নামে দাবি করতে পারে না; বরং এটি সম্মিলিত জনগণের অর্জন।

সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি

নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, এমন নির্বাচন প্রয়োজন যেখানে ভোটাররা ভয়ভীতি ছাড়া ভোট দিতে পারবেন। জনগণ যাকে ইচ্ছা ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা পাবে এবং সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। অতীতের মতো সমঝোতার নির্বাচন আর গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ শোষণ ও বৈষম্যের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যতের রাজনীতিতে ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও পারস্পরিক আস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, উপমহাদেশ প্রায় ১৯০ বছরের শোষণমূলক দাসত্ব ভেঙে স্বাধীনতা লাভ করলেও পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ কখনোই পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকদের কাছ থেকে ন্যায্য আচরণ পায়নি। সেই অবিচারের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিরোধই ছিল স্বাধীনতার প্রথম ধাপ, যা পরে সত্তরের নির্বাচন ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দেয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

আলিসা লিউ ও আইলিন গু: দুই দেশের আয়নায় প্রতিচ্ছবি

পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের প্রতি ন্যায্য আচরণ করেনি: জামায়াত আমির

০১:২০:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পাকিস্তান রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দীর্ঘ ২৩ বছর একসঙ্গে থাকার সময় পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে ন্যায়সংগত আচরণ করেনি। সেই বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে নীরব প্রতিরোধ, যার প্রকাশ ঘটে সত্তরের নির্বাচনে। পরবর্তী সময়ে সেই নির্বাচনই মুক্তিযুদ্ধের পথ তৈরি করে এবং অগণিত আত্মত্যাগ ও ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতার জন্ম হয়।

সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা

সোমবার রাতে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জটিল সময়গুলোতে সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে দেশ বড় ধরনের সংঘাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। বিশেষ করে আগস্টের ৩, ৪ ও ৫ তারিখের ঘটনাপ্রবাহে সশস্ত্র বাহিনীর অবস্থান না থাকলে আজকের বাংলাদেশ ভিন্ন চিত্রে দেখা যেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কোনো ব্যক্তি বা দলকে অপমান না করার আহ্বান জামায়াত আমিরের | খবর | বাংলাদেশ  সংবাদ সংস্থা (বাসস)

মুক্তিযুদ্ধের মাস্টারমাইন্ড পুরো জাতি

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পেছনে কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। তাঁর মতে, ইতিহাসের সেই মহান অধ্যায়ের নায়ক পুরো জাতি ও বিপ্লবী জনগণ। পরিবর্তন, গণঅভ্যুত্থান কিংবা বিপ্লবের কৃতিত্ব কোনো দল নিজের নামে দাবি করতে পারে না; বরং এটি সম্মিলিত জনগণের অর্জন।

সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি

নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, এমন নির্বাচন প্রয়োজন যেখানে ভোটাররা ভয়ভীতি ছাড়া ভোট দিতে পারবেন। জনগণ যাকে ইচ্ছা ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা পাবে এবং সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। অতীতের মতো সমঝোতার নির্বাচন আর গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ শোষণ ও বৈষম্যের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যতের রাজনীতিতে ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও পারস্পরিক আস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, উপমহাদেশ প্রায় ১৯০ বছরের শোষণমূলক দাসত্ব ভেঙে স্বাধীনতা লাভ করলেও পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ কখনোই পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকদের কাছ থেকে ন্যায্য আচরণ পায়নি। সেই অবিচারের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিরোধই ছিল স্বাধীনতার প্রথম ধাপ, যা পরে সত্তরের নির্বাচন ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দেয়।