০৩:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
চাপে ফেড, ট্রাম্প প্রশাসনের তদন্তে বিস্ফোরক দ্বন্দ্ব চীন যে অর্থনৈতিক দৈত্য হতে চায় না, বাস্তবে সেই ছবিটাই আরও স্পষ্ট ভারতের প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট ফেড চেয়ারম্যানকে ঘিরে তদন্তে অস্বস্তি রিপাবলিকানদের, ট্রাম্পের মনোনয়ন অনুমোদনে জটিলতার আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দখলে ন্যাটোর অবসান, গ্রিনল্যান্ড ঘিরে কড়া সতর্কতা ইউরোপের থাইল্যান্ডের আবাসিক সম্পত্তি বাজার দীর্ঘ মন্দায়, বিলাসী প্রকল্পেও অনিশ্চয়তা ভূমি, পানি ও বায়ু সংকটে: বাসযোগ্য পৃথিবী রক্ষায় অর্থনীতির নতুন বাস্তবতা বাংলাদেশ থেকে উড়ে যাওয়া বেলুন ঘিরে ভারতে ব্যাপক আতঙ্ক নেটফ্লিক্স চুক্তির তথ্য চেয়ে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে প্যারামাউন্টের মামলা, বোর্ড দখলের লড়াই তীব্র ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি, মাদুরো মার্কিন হেফাজতে দাবি করছেন তিনি ভালো আছেন

হাইকোর্ট মাজারের উরসে বাধা ও হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে সমাবেশ ও উরস শরিফ

চট্টগ্রামে প্রতিবাদ সমাবেশ ও উরস আয়োজন

হাইকোর্ট মাজার নামে পরিচিত, হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর সফরসঙ্গী খ্যাত সুফিসাধক হজরত শরফুদ্দিন চিশতি (রহ.)-এর পবিত্র উরস শরিফে পুলিশি বাধা ও ধর্মীয় উগ্রগোষ্ঠীর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে প্রতিবাদ সমাবেশ ও উরস শরিফ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুসলিম সংস্কৃতি আন্দোলন চট্টগ্রামের উদ্যোগে ১২ জানুয়ারি ২০২৬, সোমবার, ষোলশহর রেলস্টেশন প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

অনুষ্ঠানের সময়সূচি ও কার্যক্রম

বাদে আসর থেকে রাত দশটা পর্যন্ত কর্মসূচি চলমান থাকে। মুসলিম সংস্কৃতি আন্দোলনের আহ্বায়ক মুহাম্মদ সৈয়দুল হকের সভাপতিত্বে খতমে কুরআন, খতমে খাজেগান, মিলাদ-কিয়াম, মানববন্ধন এবং কাওয়ালি মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বাদে মাগরিব খতমে কুরআন ও খতমে খাজেগানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। বাদে এশা মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সুফি ঐতিহ্য রক্ষার দাবি জানান। রাত সাড়ে আটটার দিকে কাওয়ালি মাহফিলের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

উপস্থিতি ও পরিবেশ

ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ভক্ত, হাফেজে কুরআন, ফকির, সুফি অনুসারীসহ সর্বস্তরের মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পুরো আয়োজন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতির পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়।

নেতৃবৃন্দের বক্তব্য

মুসলিম সংস্কৃতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক সৈয়দুল হক বলেন, বাংলার মাটিতে সুফি ও আওলিয়ায়ে কেরামের মাধ্যমে তাওহিদ, সাম্য ও ইনসাফের বাণী প্রচারিত হয়েছে। কিন্তু ৫ আগস্টের পর থেকে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর হাতে দেড় শতাধিক মাজারে হামলা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে উরস পালনে বাধা দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট মাজারে উরস পালনে সাম্প্রতিক বাধা সেই ধারাবাহিকতার অংশ। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও পুনরায় মহাসমারোহে উরস পালনের নিশ্চয়তা দাবি করেন।

মুসলিম সংস্কৃতি আন্দোলন চট্টগ্রামের সদস্য সচিব মুনতাসির মাহমুদ বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে সুফি সম্প্রদায়ের প্রতি অবজ্ঞা ও অবহেলা বেড়েছে, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতার প্রতিফলন। তিনি মাজারে হামলা ও উরসে বাধার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক ও অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক জোবায়ের আরিফ সংহতি জানিয়ে বলেন, মাজারে হামলা ও উরসে বাধা নির্বাচনসহ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরির পরিপন্থী। তিনি ধর্মীয় সহাবস্থান, সংখ্যালঘুদের অধিকার ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সঞ্চালনা ও অংশগ্রহণ

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুসলিম সংস্কৃতি আন্দোলন চট্টগ্রামের সদস্য রকিবুল ইসলাম রাকিব। চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার প্রত্যাশা করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাপে ফেড, ট্রাম্প প্রশাসনের তদন্তে বিস্ফোরক দ্বন্দ্ব

হাইকোর্ট মাজারের উরসে বাধা ও হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে সমাবেশ ও উরস শরিফ

০১:৩৩:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামে প্রতিবাদ সমাবেশ ও উরস আয়োজন

হাইকোর্ট মাজার নামে পরিচিত, হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর সফরসঙ্গী খ্যাত সুফিসাধক হজরত শরফুদ্দিন চিশতি (রহ.)-এর পবিত্র উরস শরিফে পুলিশি বাধা ও ধর্মীয় উগ্রগোষ্ঠীর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে প্রতিবাদ সমাবেশ ও উরস শরিফ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুসলিম সংস্কৃতি আন্দোলন চট্টগ্রামের উদ্যোগে ১২ জানুয়ারি ২০২৬, সোমবার, ষোলশহর রেলস্টেশন প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

অনুষ্ঠানের সময়সূচি ও কার্যক্রম

বাদে আসর থেকে রাত দশটা পর্যন্ত কর্মসূচি চলমান থাকে। মুসলিম সংস্কৃতি আন্দোলনের আহ্বায়ক মুহাম্মদ সৈয়দুল হকের সভাপতিত্বে খতমে কুরআন, খতমে খাজেগান, মিলাদ-কিয়াম, মানববন্ধন এবং কাওয়ালি মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বাদে মাগরিব খতমে কুরআন ও খতমে খাজেগানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। বাদে এশা মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সুফি ঐতিহ্য রক্ষার দাবি জানান। রাত সাড়ে আটটার দিকে কাওয়ালি মাহফিলের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

উপস্থিতি ও পরিবেশ

ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ভক্ত, হাফেজে কুরআন, ফকির, সুফি অনুসারীসহ সর্বস্তরের মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পুরো আয়োজন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতির পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়।

নেতৃবৃন্দের বক্তব্য

মুসলিম সংস্কৃতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক সৈয়দুল হক বলেন, বাংলার মাটিতে সুফি ও আওলিয়ায়ে কেরামের মাধ্যমে তাওহিদ, সাম্য ও ইনসাফের বাণী প্রচারিত হয়েছে। কিন্তু ৫ আগস্টের পর থেকে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর হাতে দেড় শতাধিক মাজারে হামলা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে উরস পালনে বাধা দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট মাজারে উরস পালনে সাম্প্রতিক বাধা সেই ধারাবাহিকতার অংশ। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও পুনরায় মহাসমারোহে উরস পালনের নিশ্চয়তা দাবি করেন।

মুসলিম সংস্কৃতি আন্দোলন চট্টগ্রামের সদস্য সচিব মুনতাসির মাহমুদ বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে সুফি সম্প্রদায়ের প্রতি অবজ্ঞা ও অবহেলা বেড়েছে, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতার প্রতিফলন। তিনি মাজারে হামলা ও উরসে বাধার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক ও অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক জোবায়ের আরিফ সংহতি জানিয়ে বলেন, মাজারে হামলা ও উরসে বাধা নির্বাচনসহ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরির পরিপন্থী। তিনি ধর্মীয় সহাবস্থান, সংখ্যালঘুদের অধিকার ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সঞ্চালনা ও অংশগ্রহণ

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুসলিম সংস্কৃতি আন্দোলন চট্টগ্রামের সদস্য রকিবুল ইসলাম রাকিব। চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার প্রত্যাশা করেন।