ব্যাংককের আকাশছোঁয়া ভবন আর বিলাসী আবাসনের ঝলক যতই চোখ ধাঁধানো হোক, থাইল্যান্ডের আবাসিক সম্পত্তি বাজার বাস্তবে দীর্ঘস্থায়ী মন্দার মুখে। ক্রেতা সংকট, ঋণের উচ্চ সুদ আর ভোক্তা আস্থার দুর্বলতায় এই খাত ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। নতুন প্রকল্প উদ্বোধনের ঘোষণা থাকলেও বিক্রি আর বিনিয়োগে আগের গতি নেই।
ব্যাংককের কেন্দ্রীয় এলাকায় নির্মাণাধীন ব্যতিক্রমী নকশার এক অভিজাত আবাসন প্রকল্প এই বৈপরীত্যই সামনে আনছে। বছরের শেষ দিকে চালু হওয়ার কথা থাকলেও এমন বিলাসী উদ্যোগ সাধারণ ক্রেতাদের বাস্তবতার সঙ্গে খুব একটা মিল খুঁজে পাচ্ছে না। শহরের উচ্চবিত্ত শ্রেণির সীমিত আগ্রহ থাকলেও বাজারের বড় অংশে চাহিদা স্থবির।

দীর্ঘ মন্দার পেছনের কারণ
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গৃহঋণের সুদ বেড়ে যাওয়া এবং ব্যাংকগুলোর কঠোর ঋণনীতির কারণে মধ্যবিত্ত ক্রেতারা পিছিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে আয় বৃদ্ধির গতি ধীর হওয়ায় নতুন ফ্ল্যাট বা বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখছেন অনেকেই। এর প্রভাব পড়েছে নতুন প্রকল্পের বিক্রি ও নির্মাণ পরিকল্পনায়।
ডেভেলপারদের কৌশল বদল
মন্দা কাটাতে অনেক নির্মাতা এখন ছোট আকারের ইউনিট, ভাড়াভিত্তিক আবাসন কিংবা বিদেশি ক্রেতাদের দিকে ঝুঁকছেন। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আর আঞ্চলিক বাজারের চাপ এই কৌশলকেও পুরোপুরি সফল হতে দিচ্ছে না। ফলে বিলাসী প্রকল্প আলোচনায় থাকলেও সামগ্রিক বাজারে স্বস্তি ফিরছে না।

আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নীতিগত সহায়তা, সুদের হার কমানো এবং ভোক্তা আস্থা ফেরানো ছাড়া আবাসিক সম্পত্তি বাজার দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন। নাহলে থাইল্যান্ডের এই খাতকে আরও দীর্ঘ সময় মন্দার মধ্যেই কাটাতে হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















