১২:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
সিএনএনের জনক টেড টার্নার আর নেই, ২৪ ঘণ্টার সংবাদযুগের পথিকৃৎকে বিদায় বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর সীমান্তে সতর্ক বিজিবি, ‘পুশ-ইন’ ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি বক্স অফিসের নায়ক থেকে তামিল রাজনীতির বিস্ময়, কীভাবে ‘থালাপতি’ বিজয় বদলে দিলেন তামিলনাড়ুর সমীকরণ ক্রেনশর পথ ও “আন্তঃসংযোগ”-এর জন্ম চীনা কোম্পানির বৈশ্বিক আয় রেকর্ডে, শীর্ষে ফক্সকন ও বিওয়াইডি ভারসাম্যের কূটনীতিতে ভারত-ভিয়েতনাম ঘনিষ্ঠতা, সুপারপাওয়ার নির্ভরতা কমানোর বার্তা চিপ জুয়ার ধস: এআই বুমের মাঝেই শেনজেনের ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি ইউয়ান গায়েব মধ্যবিত্ত পৃথিবীর শেষ আশ্রয়: বারো বছরের কিশোরীরা কেন এখনও ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছে চীনের ক্ষোভ, ৮০ বছর পর বিদেশে ‘অফেনসিভ’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল জাপান

ভারত থেকে আমদানি কমায় বেনাপোলে ছয় মাসে রাজস্ব ঘাটতি এক হাজার কোটি ছাড়াল

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ভারত থেকে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টম হাউজে রাজস্ব আদায়ে বড় ধাক্কা লেগেছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এই সময়ে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৩ কোটি টাকার বেশি। আমদানি হ্রাস, কয়েকটি পণ্যে নিষেধাজ্ঞা এবং শুল্ক ফাঁকির প্রবণতা বৃদ্ধিকে এ অবস্থার প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় কম

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চলতি অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টম হাউজের জন্য মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে আট হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। কিন্তু এই সময়ে প্রকৃত আদায় হয়েছে তিন হাজার ১২০ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। ফলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ঘাটতি তৈরি হয়েছে উল্লেখযোগ্য অঙ্কে।

খেলাপি ঋণ এখন ৯৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা

মাসভিত্তিক আদায়ের চিত্র

বেনাপোল কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, জুলাই মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রাজস্ব আদায় হলেও পরবর্তী মাসগুলোতে ধারাবাহিকভাবে আদায় কমেছে। আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিটি মাসেই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আদায় কম হয়েছে, যার প্রভাব ছয় মাসের সামগ্রিক হিসাবেও স্পষ্ট।

আমদানি কমার প্রভাব

ব্যবসায়ীরা জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চক্র সক্রিয় হয়। এতে শুল্ক ফাঁকি বাড়ে এবং বৈধ আমদানি নিরুৎসাহিত হয়। পাশাপাশি কয়েকটি পণ্যের ওপর আমদানি নিষেধাজ্ঞা থাকায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পণ্য আসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন যেখানে ৬০০ থেকে ৭০০ ট্রাক পণ্য আমদানি হতো, সেখানে বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ২৫০ ট্রাকে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে রাজস্ব আদায়ের ওপর, পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবহন ও শ্রমিক খাত।

লোহিত সাগরে সংঘাত: বাড়ছে আমদানি-রপ্তানি খরচ | undefined

ব্যবসায়ীদের মত ও প্রস্তাব

আমদানিকারক হাবিবুর রহমানের মতে, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বছরে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু শুল্ক ফাঁকি ও নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, বৈধ সুযোগ-সুবিধার অভাবে অনেক ব্যবসায়ী বেনাপোল বন্দর ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দ্রুত পণ্য খালাস এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে আমদানি ও রাজস্ব আয় দুটোই বাড়তে পারে।

বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন গাজী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ট্রাক তল্লাশি ও সীমান্তে হয়রানির কারণে ব্যবসায়ীরা বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছেন। প্রবেশদ্বারে আধুনিক স্ক্যানিং ব্যবস্থা চালু হলে এই পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মালিক সমিতির নির্বাচনে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ||  Bahanno News

সাম্প্রতিক চিত্র

বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ১০ জানুয়ারি ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ২৫৬ ট্রাক পণ্য, একই দিনে রফতানি হয়েছে ৮০ ট্রাক পণ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, আমদানি স্বাভাবিক না হলে রাজস্ব ঘাটতির চাপ আরও বাড়তে পারে।

 

#BenapolePort #RevenueLoss #ImportDecline #IndiaBangladeshTrade #CustomsRevenue #LandPort #TradeNews

জনপ্রিয় সংবাদ

সিএনএনের জনক টেড টার্নার আর নেই, ২৪ ঘণ্টার সংবাদযুগের পথিকৃৎকে বিদায়

ভারত থেকে আমদানি কমায় বেনাপোলে ছয় মাসে রাজস্ব ঘাটতি এক হাজার কোটি ছাড়াল

০১:০০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ভারত থেকে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টম হাউজে রাজস্ব আদায়ে বড় ধাক্কা লেগেছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এই সময়ে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৩ কোটি টাকার বেশি। আমদানি হ্রাস, কয়েকটি পণ্যে নিষেধাজ্ঞা এবং শুল্ক ফাঁকির প্রবণতা বৃদ্ধিকে এ অবস্থার প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় কম

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চলতি অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টম হাউজের জন্য মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে আট হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। কিন্তু এই সময়ে প্রকৃত আদায় হয়েছে তিন হাজার ১২০ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। ফলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ঘাটতি তৈরি হয়েছে উল্লেখযোগ্য অঙ্কে।

খেলাপি ঋণ এখন ৯৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা

মাসভিত্তিক আদায়ের চিত্র

বেনাপোল কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, জুলাই মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রাজস্ব আদায় হলেও পরবর্তী মাসগুলোতে ধারাবাহিকভাবে আদায় কমেছে। আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিটি মাসেই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আদায় কম হয়েছে, যার প্রভাব ছয় মাসের সামগ্রিক হিসাবেও স্পষ্ট।

আমদানি কমার প্রভাব

ব্যবসায়ীরা জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চক্র সক্রিয় হয়। এতে শুল্ক ফাঁকি বাড়ে এবং বৈধ আমদানি নিরুৎসাহিত হয়। পাশাপাশি কয়েকটি পণ্যের ওপর আমদানি নিষেধাজ্ঞা থাকায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পণ্য আসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন যেখানে ৬০০ থেকে ৭০০ ট্রাক পণ্য আমদানি হতো, সেখানে বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ২৫০ ট্রাকে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে রাজস্ব আদায়ের ওপর, পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবহন ও শ্রমিক খাত।

লোহিত সাগরে সংঘাত: বাড়ছে আমদানি-রপ্তানি খরচ | undefined

ব্যবসায়ীদের মত ও প্রস্তাব

আমদানিকারক হাবিবুর রহমানের মতে, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বছরে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু শুল্ক ফাঁকি ও নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, বৈধ সুযোগ-সুবিধার অভাবে অনেক ব্যবসায়ী বেনাপোল বন্দর ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দ্রুত পণ্য খালাস এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে আমদানি ও রাজস্ব আয় দুটোই বাড়তে পারে।

বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন গাজী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ট্রাক তল্লাশি ও সীমান্তে হয়রানির কারণে ব্যবসায়ীরা বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছেন। প্রবেশদ্বারে আধুনিক স্ক্যানিং ব্যবস্থা চালু হলে এই পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মালিক সমিতির নির্বাচনে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ||  Bahanno News

সাম্প্রতিক চিত্র

বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ১০ জানুয়ারি ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ২৫৬ ট্রাক পণ্য, একই দিনে রফতানি হয়েছে ৮০ ট্রাক পণ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, আমদানি স্বাভাবিক না হলে রাজস্ব ঘাটতির চাপ আরও বাড়তে পারে।

 

#BenapolePort #RevenueLoss #ImportDecline #IndiaBangladeshTrade #CustomsRevenue #LandPort #TradeNews