০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬
আলিসা লিউ ও আইলিন গু: দুই দেশের আয়নায় প্রতিচ্ছবি মানুষ ৪০ হাজার বছর আগে লিখতে শিখেছিলো কেন পর্যাপ্ত ঘুমের পরও অনেকেই সারাক্ষণ ক্লান্ত বোধ করেন গুচির দেহমোহে বাজি, নব্বই দশকের ঝলক ফেরাতে ডেমনার সাহসী প্রদর্শনী জাপানের ধনীদের দিকে ঝুঁকছে কেকেআর ও ব্ল্যাকস্টোন, মার্কিন বেসরকারি সম্পদ বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই নতুন কৌশল মুন দুবাই কি সত্যিই বাস্তব হচ্ছে? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন প্রতিষ্ঠাতারা সাউথ চায়না সি আচরণবিধি ২০২৬-এর মধ্যে সম্ভব নয়: বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা আগের ধস কাটিয়ে শুরুতেই ঘুরে দাঁড়াল ডিএসই ও সিএসই সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রেস ক্লাব সভাপতির ওপর হামলা, আটক ২ সিরাজগঞ্জে সেচ নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৯

ব্রিটিশ এমপিদের সতর্কবার্তা: সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশের নির্বাচন গণতান্ত্রিক হতে পারে না

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের চারজন সংসদ সদস্য। তাঁদের মতে, সব প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে কোনো নির্বাচনকে প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক বলা যায় না। অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনই দেশের স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির পথ সুগম করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তাঁরা।

House of Commons of the United Kingdom - Wikipedia

যৌথ বিবৃতি ও উদ্বেগের কারণ

যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সের চার সদস্য বব ব্ল্যাকম্যান, জিম শ্যানন, জাস আথওয়াল ও ক্রিস ল এক যৌথ বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে।

প্রত্যাশা ও আশঙ্কা

ব্রিটিশ এমপিদের মতে, সৎ মানসিকতার মানুষ আশা করেন এই নির্বাচন ন্যায়ভিত্তিক, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ হবে। তবে সেটি তখনই সম্ভব, যখন সব প্রধান রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে এবং নির্বাচন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আস্থা অর্জন করবে।

 

রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন

বিবৃতিতে গত বছরের জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও দলটির নিবন্ধন স্থগিত করার প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়। এমপিরা বলেন, ব্যাপক জনসমর্থন থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর এমন নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘসহ যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের মিত্রদের পরামর্শ উপেক্ষা করার শামিল।

ভোটাধিকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা

তাঁদের মতে, মুক্ত, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন না হলে কোটি কোটি বাংলাদেশি নাগরিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন এবং ভোট প্রদানের আগ্রহ হারাবেন। এ প্রসঙ্গে তাঁরা বলেন, অনির্বাচিত মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ছিল না ভোটারদের ওপর এমন বিধিনিষেধ আরোপ করা, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

ভোটাধিকার নিশ্চিতে গুরুত্ব দিতে হবে

রাজনৈতিক মেরুকরণ ও জাতীয় ঐক্যের আহ্বান

বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে তীব্রভাবে মেরুকৃত উল্লেখ করে ব্রিটিশ এমপিরা বলেন, এ অবস্থার জন্য সব রাজনৈতিক দলই আংশিকভাবে দায়ী। তবে ভবিষ্যৎ সরকারকে জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করতে হবে এবং জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে স্থবির অর্থনৈতিক উন্নয়ন পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।

মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক ভূমিকা

মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আটক, বিচারব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ইচ্ছামতো গ্রেপ্তারের অভিযোগ তাঁদের উদ্বিগ্ন করছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এ কারণে ব্রিটিশ সরকার ও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে এমপিরা বলেন, বাংলাদেশের নেতৃত্বকে অবশ্যই গণতান্ত্রিক নীতির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে, নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত করতে হবে এবং নির্বাচনকে মুক্ত, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

 

#BangladeshElection #UKMPs #Democracy #InclusiveElection #HumanRights #PoliticalCrisis

জনপ্রিয় সংবাদ

আলিসা লিউ ও আইলিন গু: দুই দেশের আয়নায় প্রতিচ্ছবি

ব্রিটিশ এমপিদের সতর্কবার্তা: সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশের নির্বাচন গণতান্ত্রিক হতে পারে না

০১:১৭:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের চারজন সংসদ সদস্য। তাঁদের মতে, সব প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে কোনো নির্বাচনকে প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক বলা যায় না। অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনই দেশের স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির পথ সুগম করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তাঁরা।

House of Commons of the United Kingdom - Wikipedia

যৌথ বিবৃতি ও উদ্বেগের কারণ

যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সের চার সদস্য বব ব্ল্যাকম্যান, জিম শ্যানন, জাস আথওয়াল ও ক্রিস ল এক যৌথ বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে।

প্রত্যাশা ও আশঙ্কা

ব্রিটিশ এমপিদের মতে, সৎ মানসিকতার মানুষ আশা করেন এই নির্বাচন ন্যায়ভিত্তিক, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ হবে। তবে সেটি তখনই সম্ভব, যখন সব প্রধান রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে এবং নির্বাচন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আস্থা অর্জন করবে।

 

রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন

বিবৃতিতে গত বছরের জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও দলটির নিবন্ধন স্থগিত করার প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়। এমপিরা বলেন, ব্যাপক জনসমর্থন থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর এমন নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘসহ যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের মিত্রদের পরামর্শ উপেক্ষা করার শামিল।

ভোটাধিকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা

তাঁদের মতে, মুক্ত, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন না হলে কোটি কোটি বাংলাদেশি নাগরিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন এবং ভোট প্রদানের আগ্রহ হারাবেন। এ প্রসঙ্গে তাঁরা বলেন, অনির্বাচিত মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ছিল না ভোটারদের ওপর এমন বিধিনিষেধ আরোপ করা, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

ভোটাধিকার নিশ্চিতে গুরুত্ব দিতে হবে

রাজনৈতিক মেরুকরণ ও জাতীয় ঐক্যের আহ্বান

বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে তীব্রভাবে মেরুকৃত উল্লেখ করে ব্রিটিশ এমপিরা বলেন, এ অবস্থার জন্য সব রাজনৈতিক দলই আংশিকভাবে দায়ী। তবে ভবিষ্যৎ সরকারকে জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করতে হবে এবং জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে স্থবির অর্থনৈতিক উন্নয়ন পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।

মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক ভূমিকা

মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আটক, বিচারব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ইচ্ছামতো গ্রেপ্তারের অভিযোগ তাঁদের উদ্বিগ্ন করছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এ কারণে ব্রিটিশ সরকার ও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে এমপিরা বলেন, বাংলাদেশের নেতৃত্বকে অবশ্যই গণতান্ত্রিক নীতির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে, নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত করতে হবে এবং নির্বাচনকে মুক্ত, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

 

#BangladeshElection #UKMPs #Democracy #InclusiveElection #HumanRights #PoliticalCrisis