০৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
চাপে ফেড, ট্রাম্প প্রশাসনের তদন্তে বিস্ফোরক দ্বন্দ্ব চীন যে অর্থনৈতিক দৈত্য হতে চায় না, বাস্তবে সেই ছবিটাই আরও স্পষ্ট ভারতের প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট ফেড চেয়ারম্যানকে ঘিরে তদন্তে অস্বস্তি রিপাবলিকানদের, ট্রাম্পের মনোনয়ন অনুমোদনে জটিলতার আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দখলে ন্যাটোর অবসান, গ্রিনল্যান্ড ঘিরে কড়া সতর্কতা ইউরোপের থাইল্যান্ডের আবাসিক সম্পত্তি বাজার দীর্ঘ মন্দায়, বিলাসী প্রকল্পেও অনিশ্চয়তা ভূমি, পানি ও বায়ু সংকটে: বাসযোগ্য পৃথিবী রক্ষায় অর্থনীতির নতুন বাস্তবতা বাংলাদেশ থেকে উড়ে যাওয়া বেলুন ঘিরে ভারতে ব্যাপক আতঙ্ক নেটফ্লিক্স চুক্তির তথ্য চেয়ে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে প্যারামাউন্টের মামলা, বোর্ড দখলের লড়াই তীব্র ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি, মাদুরো মার্কিন হেফাজতে দাবি করছেন তিনি ভালো আছেন

ব্রিটিশ এমপিদের সতর্কবার্তা: সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশের নির্বাচন গণতান্ত্রিক হতে পারে না

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের চারজন সংসদ সদস্য। তাঁদের মতে, সব প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে কোনো নির্বাচনকে প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক বলা যায় না। অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনই দেশের স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির পথ সুগম করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তাঁরা।

House of Commons of the United Kingdom - Wikipedia

যৌথ বিবৃতি ও উদ্বেগের কারণ

যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সের চার সদস্য বব ব্ল্যাকম্যান, জিম শ্যানন, জাস আথওয়াল ও ক্রিস ল এক যৌথ বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে।

প্রত্যাশা ও আশঙ্কা

ব্রিটিশ এমপিদের মতে, সৎ মানসিকতার মানুষ আশা করেন এই নির্বাচন ন্যায়ভিত্তিক, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ হবে। তবে সেটি তখনই সম্ভব, যখন সব প্রধান রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে এবং নির্বাচন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আস্থা অর্জন করবে।

 

রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন

বিবৃতিতে গত বছরের জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও দলটির নিবন্ধন স্থগিত করার প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়। এমপিরা বলেন, ব্যাপক জনসমর্থন থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর এমন নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘসহ যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের মিত্রদের পরামর্শ উপেক্ষা করার শামিল।

ভোটাধিকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা

তাঁদের মতে, মুক্ত, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন না হলে কোটি কোটি বাংলাদেশি নাগরিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন এবং ভোট প্রদানের আগ্রহ হারাবেন। এ প্রসঙ্গে তাঁরা বলেন, অনির্বাচিত মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ছিল না ভোটারদের ওপর এমন বিধিনিষেধ আরোপ করা, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

ভোটাধিকার নিশ্চিতে গুরুত্ব দিতে হবে

রাজনৈতিক মেরুকরণ ও জাতীয় ঐক্যের আহ্বান

বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে তীব্রভাবে মেরুকৃত উল্লেখ করে ব্রিটিশ এমপিরা বলেন, এ অবস্থার জন্য সব রাজনৈতিক দলই আংশিকভাবে দায়ী। তবে ভবিষ্যৎ সরকারকে জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করতে হবে এবং জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে স্থবির অর্থনৈতিক উন্নয়ন পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।

মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক ভূমিকা

মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আটক, বিচারব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ইচ্ছামতো গ্রেপ্তারের অভিযোগ তাঁদের উদ্বিগ্ন করছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এ কারণে ব্রিটিশ সরকার ও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে এমপিরা বলেন, বাংলাদেশের নেতৃত্বকে অবশ্যই গণতান্ত্রিক নীতির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে, নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত করতে হবে এবং নির্বাচনকে মুক্ত, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

 

#BangladeshElection #UKMPs #Democracy #InclusiveElection #HumanRights #PoliticalCrisis

জনপ্রিয় সংবাদ

চাপে ফেড, ট্রাম্প প্রশাসনের তদন্তে বিস্ফোরক দ্বন্দ্ব

ব্রিটিশ এমপিদের সতর্কবার্তা: সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশের নির্বাচন গণতান্ত্রিক হতে পারে না

০১:১৭:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের চারজন সংসদ সদস্য। তাঁদের মতে, সব প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে কোনো নির্বাচনকে প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক বলা যায় না। অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনই দেশের স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির পথ সুগম করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তাঁরা।

House of Commons of the United Kingdom - Wikipedia

যৌথ বিবৃতি ও উদ্বেগের কারণ

যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সের চার সদস্য বব ব্ল্যাকম্যান, জিম শ্যানন, জাস আথওয়াল ও ক্রিস ল এক যৌথ বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে।

প্রত্যাশা ও আশঙ্কা

ব্রিটিশ এমপিদের মতে, সৎ মানসিকতার মানুষ আশা করেন এই নির্বাচন ন্যায়ভিত্তিক, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ হবে। তবে সেটি তখনই সম্ভব, যখন সব প্রধান রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে এবং নির্বাচন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আস্থা অর্জন করবে।

 

রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন

বিবৃতিতে গত বছরের জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও দলটির নিবন্ধন স্থগিত করার প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়। এমপিরা বলেন, ব্যাপক জনসমর্থন থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর এমন নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘসহ যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের মিত্রদের পরামর্শ উপেক্ষা করার শামিল।

ভোটাধিকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা

তাঁদের মতে, মুক্ত, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন না হলে কোটি কোটি বাংলাদেশি নাগরিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন এবং ভোট প্রদানের আগ্রহ হারাবেন। এ প্রসঙ্গে তাঁরা বলেন, অনির্বাচিত মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ছিল না ভোটারদের ওপর এমন বিধিনিষেধ আরোপ করা, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

ভোটাধিকার নিশ্চিতে গুরুত্ব দিতে হবে

রাজনৈতিক মেরুকরণ ও জাতীয় ঐক্যের আহ্বান

বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে তীব্রভাবে মেরুকৃত উল্লেখ করে ব্রিটিশ এমপিরা বলেন, এ অবস্থার জন্য সব রাজনৈতিক দলই আংশিকভাবে দায়ী। তবে ভবিষ্যৎ সরকারকে জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করতে হবে এবং জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে স্থবির অর্থনৈতিক উন্নয়ন পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।

মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক ভূমিকা

মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আটক, বিচারব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ইচ্ছামতো গ্রেপ্তারের অভিযোগ তাঁদের উদ্বিগ্ন করছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এ কারণে ব্রিটিশ সরকার ও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে এমপিরা বলেন, বাংলাদেশের নেতৃত্বকে অবশ্যই গণতান্ত্রিক নীতির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে, নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত করতে হবে এবং নির্বাচনকে মুক্ত, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

 

#BangladeshElection #UKMPs #Democracy #InclusiveElection #HumanRights #PoliticalCrisis