চট্টগ্রামের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাধিক বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে পরিকল্পিত বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার নতুন করে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলগুলোতে এক ধরনের উসকানিমূলক ব্যানার/লিখিত উপকরণ উদ্ধার হয়েছে—যা সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি এবং “সংখ্যালঘু নির্যাতন” নিয়ে অপপ্রচার ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
এ ধরনের অপরাধ কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়—জাতীয় পর্যায়ে জননিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি আঘাত। কারণ আগুন লাগানোর ঘটনা মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়লে প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে, পাশাপাশি পুরো এলাকায় প্রতিশোধমূলক সহিংসতার আশঙ্কাও তৈরি হয়। পুলিশ বলছে, অভিযানে গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কারা নির্দেশ দিয়েছে, অর্থায়ন বা পরিকল্পনা কীভাবে হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে কারা সহযোগিতা করেছে—এসব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গভীর রাতে দরজা আটকে আগুন দেওয়ার ধরণটি বিশেষভাবে ভয়াবহ—কারণ এতে ঘরের ভেতরে থাকা মানুষ বের হতে না পারার ঝুঁকি থাকে। এ ঘটনার পর অনেক পরিবার রাতে পাহারা, সিসিটিভি ও স্থানীয় নজরদারি বাড়ানোর কথা ভাবছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকাভিত্তিক টহল, সন্দেহভাজনদের তালিকা যাচাই এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দিতে পারে এমন গুজব/মিথ্যা পোস্টের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের বার্তাও দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দ্রুত তদন্ত, চার্জশিট ও বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া যেমন জরুরি, তেমনি স্থানীয় পর্যায়ে কমিউনিটি পুলিশিং, অগ্নি নিরাপত্তা প্রস্তুতি এবং জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থাও শক্ত করার দাবি উঠছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















