আফ্রিকার শিং অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি জোরালো করতে এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল। সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন স্বঘোষিত রাষ্ট্র সোমালিল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি লোহিত সাগর ঘিরে ভূরাজনৈতিক খেলায় নতুন শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল।
কৌশলগত জলপথে নজর ইসরায়েলের
সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে ইসরায়েল মূলত লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরের সংযোগস্থল বাব আল মান্দাব প্রণালির কাছে নিজেদের অবস্থান শক্ত করল। এই জলপথ দিয়েই বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলায় এই অঞ্চল অস্থির হয়ে ওঠে, বিশ্ব বাণিজ্যে সৃষ্টি হয় বড় ধরনের বাধা। সোমালিল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান ইসরায়েলের কাছে তাই বিশেষ কৌশলগত গুরুত্ব বহন করছে।

হুথি হুমকি ও নিরাপত্তা সমীকরণ
আদেন উপসাগরের ঠিক বিপরীতে ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর উপস্থিতি ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গাজা যুদ্ধ চলাকালে হুথিরা ইসরায়েল ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে হামলা চালায়। সোমালিল্যান্ডে একটি কূটনৈতিক অংশীদার পাওয়ায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে ইসরায়েলের সুযোগ বাড়ল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক
ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সোমালিয়া সরকার একে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে। আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আফ্রিকার শিং অঞ্চলে ইতিমধ্যেই আরব দেশগুলোর প্রভাব বিস্তার নিয়ে যে প্রতিযোগিতা চলছে, সেখানে ইসরায়েলের প্রবেশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

সোমালিল্যান্ডের বাস্তবতা
১৯৯১ সালে গৃহযুদ্ধের সময় সোমালিয়া থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া সোমালিল্যান্ড এখনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি। প্রায় বাষট্টি লাখ মানুষের এই অঞ্চলটি দরিদ্র হলেও নিজস্ব সরকার, সেনাবাহিনী ও নিয়মিত নির্বাচন ব্যবস্থার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে কার্যত স্বাধীনভাবে চলছে। বারবেরা বন্দরের অব্যবহৃত সম্ভাবনা ও দীর্ঘ রানওয়ে বিদেশি অংশীদারদের আকৃষ্ট করছে, যদিও সোমালিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে।
নতুন আত্মবিশ্বাসে ইসরায়েল
দীর্ঘদিনের গাজা, লেবানন ও ইরানসংক্রান্ত সংঘাতের পর ইসরায়েল নিজেকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান সামরিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত মনে করছে। সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়া সেই আত্মবিশ্বাসেরই বহিঃপ্রকাশ। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক শক্তির পাশাপাশি কূটনৈতিক ময়দানেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে দেশটি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















