নাইজেরিয়ার খ্যাতিমান লেখক চিমামান্ডা এনগোজি আদিচিয়ে তাঁর একুশ মাস বয়সী ছেলের মৃত্যুকে চিকিৎসাগত অবহেলার ফল বলে অভিযোগ তুলেছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছুটিতে দেশে ফেরার পর লাগোসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
কীভাবে ঘটল মর্মান্তিক ঘটনা
চিমামান্ডার ছেলে নকানু একটি গুরুতর সংক্রমণে ভুগছিল। ছুটির সময় পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নাইজেরিয়ায় আসার পর তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটে। ছয় জানুয়ারি শিশুটির মৃত্যু হয়, ঠিক তার আগের দিন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি নামকরা হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। নকানু ছিল চিমামান্ডা ও তাঁর স্বামী চিকিৎসক ইভারা এসেগের যমজ সন্তানের একজন। তাঁদের আরেকটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

সেডেটিভের মাত্রা নিয়ে অভিযোগ
চিমামান্ডা জানান, প্রথমে লাগোসের একটি শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল। পরে পরীক্ষার প্রয়োজনে তাকে আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে এমআরআই করার আগে শিশুটিকে ঘুম পাড়ানোর ওষুধ দেওয়া হয়। লেখিকার অভিযোগ, অজ্ঞান করার ওষুধের মাত্রা অতিরিক্ত হয়ে যায়। এরপরই শিশুটি সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়, তাকে ভেন্টিলেশনে নিতে হয় এবং আইসিইউতে রাখা হয়। কিছু সময়ের মধ্যে খিঁচুনি ও হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু ঘটে।
চিমামান্ডা ব্যক্তিগত বার্তায় লিখেছেন, মুহূর্তের মধ্যে তাঁদের সুন্দর ছোট্ট ছেলেটি চিরতরে হারিয়ে গেল। তিনি বলেন, সন্তানের এই শোক নিয়ে বেঁচে থাকা তাঁর কাছে অকল্পনীয় কষ্ট।
হাসপাতালের বক্তব্য
অভিযুক্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটি অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় সেখানে পৌঁছেছিল এবং এই মৃত্যুকে চিকিৎসাগত অবহেলা বলা সঠিক নয়। তারা ঘটনার তদন্ত চলছে বলে দাবি করেছে।
সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ
চিমামান্ডার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর নাইজেরিয়ার সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভের ঢেউ ওঠে। অনেকেই নিজেদের ভয়াবহ চিকিৎসা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। কেউ জানান, অক্সিজেন না পেয়ে শিশু মারা গেছে। কেউ বলেন, ভুল চিকিৎসায় রক্তক্ষরণ হলেও কারও কর্ণপাত ছিল না। এসব অভিজ্ঞতা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুরবস্থা আবারও সামনে এনে দেয়।
স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে পুরোনো প্রশ্ন
নাইজেরিয়ায় সরকারি উদ্যোগে চিকিৎসক প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন বাড়ানোর চেষ্টা হলেও বাস্তবে বড় শহরের হাসপাতালগুলোও ভিড় ও দক্ষতার ঘাটতিতে ভুগছে। গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসাসেবা প্রায় অনুপস্থিত। ফলে বিত্তবান নাগরিক ও রাজনীতিকদের বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচিত।
তদন্তের আশ্বাস
দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান শোকবার্তায় সন্তানের মৃত্যুজনিত যন্ত্রণা তুলে ধরে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। লাগোস রাজ্য সরকারও জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং চিকিৎসাগত অবহেলায় শূন্য সহনশীলতার নীতি বজায় রাখা হবে।
ব্যক্তিগত শোক থেকে জনস্বার্থের প্রশ্ন
চিমামান্ডা আগে তাঁর বাবা-মায়ের মৃত্যু নিয়ে লিখেছেন এবং শোকের সঙ্গে লড়াইয়ের কথা প্রকাশ্যে বলেছেন। এবার ছেলের মৃত্যু নিয়ে তিনি লিখেছেন, এমন ঘটনা আর কোনো শিশুর সঙ্গে যেন না ঘটে। তাঁর এই আহ্বান শুধু ব্যক্তিগত বেদনা নয়, বরং গোটা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য একটি কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















