এথেন্সে পা রাখার পর থেকেই গ্রীসের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েল। ঝলমলে উপস্থিতি, দৃঢ় কণ্ঠ আর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভঙ্গিতে অল্প সময়েই তিনি নিজেকে আলাদা করে চিনিয়েছেন। কূটনৈতিক প্রটোকলের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উপস্থিতি ও সক্রিয়তায় তিনি এথেন্সে যেন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন।
ঝলমলে আগমন ও কূটনৈতিক বার্তা
ব্যক্তিগত জেটে এথেন্সে পৌঁছে প্রথম সপ্তাহেই কিম্বারলি গিলফয়েলের উপস্থিতি কৌতূহল তৈরি করে। রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশের সময় হালকা রসিকতায় ভরা কথোপকথন, সামাজিক অনুষ্ঠানে স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি এবং গ্রীক সংস্কৃতির সঙ্গে দ্রুত মিশে যাওয়া তাকে সংবাদমাধ্যম ও রাজনীতিকদের আলোচনায় এনে দেয়। অনেকের চোখে তিনি প্রচলিত ধাঁচের রাষ্ট্রদূত নন, বরং আলো ছড়ানো এক শক্তিশালী কূটনৈতিক চরিত্র।

বাণিজ্য ও জ্বালানিতে সক্রিয় ভূমিকা
দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক বড় উদ্যোগে সক্রিয় হন গিলফয়েল। এথেন্সের কাছে একটি নতুন বন্দরের উন্নয়ন, করফুর উপকূলে প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান এবং ইউক্রেনের জন্য তরলীকৃত গ্যাস সরবরাহ চুক্তিতে তার উপস্থিতি গ্রীস সরকারের ভেতরে তাকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার করে তোলে। গ্রীক কর্মকর্তারা বলছেন, পরিকল্পনাগুলো আগে থেকেই চলছিল, তবে ঘোষণার গতি ও দৃশ্যমানতা এসেছে তার উদ্যোগেই।
সমালোচনা ও বিতর্ক
তার আগ্রাসী কূটনৈতিক ভঙ্গি সবাইকে সন্তুষ্ট করেনি। বিরোধী রাজনীতিকদের একাংশের মতে, তিনি অতিরিক্তভাবে মার্কিন এজেন্ডা সামনে আনছেন। চীনের নিয়ন্ত্রণে থাকা পিরেয়াস বন্দরের প্রসঙ্গে তার মন্তব্য কূটনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি করে। তবে এর পাশাপাশিই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বন্দরের প্রকল্পে গ্রীস সরকারের অগ্রগতি চলছেই।
ব্যক্তিগত জীবন ও অতীতের পথচলা
সান ফ্রান্সিসকোতে বেড়ে ওঠা গিলফয়েলের শৈশব সহজ ছিল না। অল্প বয়সে মাকে হারিয়ে কঠোর বাস্তবতার মধ্যেই তার বেড়ে ওঠা। আইন পড়ে প্রসিকিউটর হিসেবে কাজ, পরে টেলিভিশন বিশ্লেষক এবং রাজনীতির ভেতরে প্রভাবশালী ভূমিকা—সব মিলিয়ে তার জীবন কেবল গ্ল্যামারের নয়, কঠোর পরিশ্রমের গল্পও। সাবেক ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের সঙ্গে দাম্পত্য, পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছুই তাকে জনচর্চার কেন্দ্রে রেখেছে।
নারীর নেতৃত্বের এক নতুন দৃষ্টান্ত
১৯৪৮ সালের পর গ্রীসে নিযুক্ত সব মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন পুরুষ। সেই তালিকায় প্রথম নারী হিসেবে নিজের নাম দেখে আবেগাপ্লুত হন গিলফয়েল। তার চোখে এটি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং কূটনীতিতে নারীর উপস্থিতির এক নতুন বার্তা।

এথেন্সে ব্যস্ত জীবন
সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতি নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই। তার মতে, এই উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ায়। গভীর রাত পর্যন্ত বৈঠক, হঠাৎ ফোনকল আর দ্রুত সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে তিনি অফিস সময়ের বাইরেও সক্রিয় এক রাষ্ট্রদূত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















