দেশে চিংড়িশিল্পকে পরিকল্পিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে। দেশে ভেনামি চিংড়ির রেণু উৎপাদনে অনুমোদিত হ্যাচারি থাকা সত্ত্বেও ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ রেণু আমদানির অনুমতি দেওয়াকে আইন ও নীতিমালা লঙ্ঘন বলে দাবি করেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
দেশীয় উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও আমদানির অভিযোগ
বিশ্ববাজারে উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন ভেনামি চিংড়ির পিএল উৎপাদনে মৎস্য অধিদপ্তরের অনুমোদিত ছয়টি হ্যাচারি নিয়মিত মানসম্মত রেণু উৎপাদন করছে। তবুও অজানা কারণে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা উপেক্ষা করে ভারত থেকে ৪২ কোটি ভেনামি চিংড়ির নাপলি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এটি দেশীয় হ্যাচারিশিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি।

শেবের অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলন
শ্রিম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ নেতারা এই সিদ্ধান্তকে শুধু আইনবহির্ভূত নয়, বরং দেশীয় চিংড়ি হ্যাচারিশিল্প ধ্বংসের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। বুধবার কক্সবাজারে সংগঠনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, এ ধরনের অনুমতি দেশের চিংড়িশিল্প, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
কীভাবে অনুমতি দেওয়া হয়
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৩ ডিসেম্বর মৎস্য অধিদপ্তর সাতক্ষীরার দেবহাটার পুরুলিয়া বাজারের তৌফিক এন্টারপ্রাইজকে ভারত থেকে ৪২ কোটি ভেনামি চিংড়ির নাপলি আমদানির অনুমতি দেয়। পরে ২৩ ডিসেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই অনুমতির ভিত্তিতে চূড়ান্ত ছাড়পত্র দেয়। অনুমতি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে এসব রেণু আমদানি করার কথা ছিল।

অন্যান্য চিংড়ির ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ
শেব নেতাদের দাবি, ভেনামি ছাড়াও সম্প্রতি বাগদা ও গলদা চিংড়ির নাপলি ও পিএল আমদানির ক্ষেত্রেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা প্রচলিত আইন ও নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থি। তারা অবিলম্বে ভেনামি চিংড়ির ৪২ কোটি নাপলি আমদানির অনুমতি বাতিল, নীতিমালাবহির্ভূত সব অনুমোদন প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শেবের সভাপতি লুত্ফর রহমান কাজল। এ সময় সংগঠনের মহাসচিবসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মৎস্য অধিদপ্তরের বক্তব্য
হ্যাচারি মালিকদের অভিযোগের বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ জানান, ৩ ডিসেম্বর যখন ভেনামি চিংড়ি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়, তখন তা নিষিদ্ধ ছিল না। পরে ৭ জানুয়ারি আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়। নিষেধাজ্ঞার পর ভেনামি চিংড়ি আমদানির অনুমতি বাতিল করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















