০১:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর ব্রিটেনে ছুরি হামলার পর উত্তেজনা, উসকে দিচ্ছে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতি ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশির দেশে ফেরা, বেনাপোল দিয়ে হস্তান্তর পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ৭২ ঘণ্টায় নিহত ২১ জঙ্গি, মোট নিহত ৪৮ লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতালেন লিসা, কেপপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় ইউটিউব থেকে হলিউড: নতুন প্রজন্মের পরিচালকরা কি বদলে দিচ্ছেন সিনেমার ভবিষ্যৎ? গুগলের নতুন এআই চিপে স্যামসাং? ‘আইসফিশ’ প্রকল্পে বড় চুক্তির আলোচনায় দুই প্রযুক্তি জায়ান্ট ইরান যুদ্ধের পর বদলে যাওয়া বাস্তবতা: চুক্তির দ্বারপ্রান্তে থেকেও কেন কঠিন অবস্থানে তেহরান পশ্চিমবঙ্গে তল্লাশি বিতর্ক: অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পুলিশি অভিযানে মমতার অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রকে ঘিরে ইডির তল্লাশি

ইরান নিয়ে দ্বিমুখী পথে ট্রাম্প কূটনীতি ও হামলার হুমকির মাঝেই গোপন বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক হামলার বিকল্পও বিবেচনায় রাখছেন। ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অভিযোগ এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়।

বিক্ষোভ, দমন ও লাল দাগ
ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানের বিভিন্ন শহরে অর্থনৈতিক সংকট ও দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সরকার এসব বিক্ষোভ দমাতে কঠোর নিরাপত্তা অভিযান চালায়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন। ট্রাম্প আগেই সতর্ক করেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র নীরব থাকবে না। সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সেই লাল দাগ অতিক্রম করা হয়েছে।

Iran-Israel Conflict | Iran-Israel continues to trade strike as Ali  Khamenei replies to Donald Trump dgtl - Anandabazar

সামরিক বিকল্প ও হোয়াইট হাউসের অবস্থান
পেন্টাগন ট্রাম্পকে আগের চেয়ে বিস্তৃত হামলার বিকল্প উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক আঘাত। তবে কর্মকর্তাদের মতে, সাইবার হামলা বা বিক্ষোভ দমনে জড়িত বাহিনীর ওপর সীমিত আঘাতের সম্ভাবনাই বেশি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, কূটনীতি এখনো প্রথম পছন্দ হলেও সব পথ খোলা রাখা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের বিস্ময়কর তথ্য

ইন্টারনেট বন্ধ ও বিকল্প যোগাযোগ
ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তথ্যপ্রবাহ সীমিত করেছে। এ অবস্থায় ট্রাম্প প্রযুক্তি খাতের এক শীর্ষ উদ্যোক্তাকে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেটের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বলেছেন, যাতে ইরানি নাগরিকরা যোগাযোগ রাখতে পারেন।

তেহরানের নরম সুর ও আলোচনার ইঙ্গিত
চাপের মধ্যেই ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকেরা আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তারা বলছেন, যুদ্ধ চায় না ইরান, তবে আত্মরক্ষার প্রস্তুতি রয়েছে। একই সঙ্গে ন্যায্যতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আলোচনার কথা বলা হয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশের ধারণা, এই প্রস্তাব আসলে সময় ক্ষেপণের কৌশলও হতে পারে।

চাপে ফেলতে চাইছেন ট্রাম্প, মাথা নোয়াবে না ইরান | কালবেলা

পরমাণু কর্মসূচি ও আস্থাহীনতা
ইরান দাবি করে তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা আশঙ্কা করে, এটি অস্ত্র তৈরির দিকে যেতে পারে। অতীতে একটি চুক্তির মাধ্যমে এই কর্মসূচি সীমিত করা হয়েছিল, কিন্তু তা ভেঙে যাওয়ার পর আস্থার সংকট গভীর হয়েছে। সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানের দরকষাকষির সক্ষমতাও কমেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

অভ্যন্তরীণ চাপ ও আন্তর্জাতিক বার্তা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান এখন একযোগে ভেতরের গণচাপ ও বাইরের কূটনৈতিক চাপের মুখে। সরকার টিকে থাকার কৌশলে পারদর্শী হলেও সহিংসতা বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা সরকারের পতন ঘটানোর উদ্দেশ্যে নয়, বরং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধের বার্তা দিতেই এমন পদক্ষেপ বিবেচনায় রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর

ইরান নিয়ে দ্বিমুখী পথে ট্রাম্প কূটনীতি ও হামলার হুমকির মাঝেই গোপন বার্তা

১২:৪০:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক হামলার বিকল্পও বিবেচনায় রাখছেন। ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অভিযোগ এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়।

বিক্ষোভ, দমন ও লাল দাগ
ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানের বিভিন্ন শহরে অর্থনৈতিক সংকট ও দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সরকার এসব বিক্ষোভ দমাতে কঠোর নিরাপত্তা অভিযান চালায়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন। ট্রাম্প আগেই সতর্ক করেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র নীরব থাকবে না। সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সেই লাল দাগ অতিক্রম করা হয়েছে।

Iran-Israel Conflict | Iran-Israel continues to trade strike as Ali  Khamenei replies to Donald Trump dgtl - Anandabazar

সামরিক বিকল্প ও হোয়াইট হাউসের অবস্থান
পেন্টাগন ট্রাম্পকে আগের চেয়ে বিস্তৃত হামলার বিকল্প উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক আঘাত। তবে কর্মকর্তাদের মতে, সাইবার হামলা বা বিক্ষোভ দমনে জড়িত বাহিনীর ওপর সীমিত আঘাতের সম্ভাবনাই বেশি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, কূটনীতি এখনো প্রথম পছন্দ হলেও সব পথ খোলা রাখা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের বিস্ময়কর তথ্য

ইন্টারনেট বন্ধ ও বিকল্প যোগাযোগ
ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তথ্যপ্রবাহ সীমিত করেছে। এ অবস্থায় ট্রাম্প প্রযুক্তি খাতের এক শীর্ষ উদ্যোক্তাকে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেটের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বলেছেন, যাতে ইরানি নাগরিকরা যোগাযোগ রাখতে পারেন।

তেহরানের নরম সুর ও আলোচনার ইঙ্গিত
চাপের মধ্যেই ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকেরা আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তারা বলছেন, যুদ্ধ চায় না ইরান, তবে আত্মরক্ষার প্রস্তুতি রয়েছে। একই সঙ্গে ন্যায্যতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আলোচনার কথা বলা হয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশের ধারণা, এই প্রস্তাব আসলে সময় ক্ষেপণের কৌশলও হতে পারে।

চাপে ফেলতে চাইছেন ট্রাম্প, মাথা নোয়াবে না ইরান | কালবেলা

পরমাণু কর্মসূচি ও আস্থাহীনতা
ইরান দাবি করে তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা আশঙ্কা করে, এটি অস্ত্র তৈরির দিকে যেতে পারে। অতীতে একটি চুক্তির মাধ্যমে এই কর্মসূচি সীমিত করা হয়েছিল, কিন্তু তা ভেঙে যাওয়ার পর আস্থার সংকট গভীর হয়েছে। সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানের দরকষাকষির সক্ষমতাও কমেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

অভ্যন্তরীণ চাপ ও আন্তর্জাতিক বার্তা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান এখন একযোগে ভেতরের গণচাপ ও বাইরের কূটনৈতিক চাপের মুখে। সরকার টিকে থাকার কৌশলে পারদর্শী হলেও সহিংসতা বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা সরকারের পতন ঘটানোর উদ্দেশ্যে নয়, বরং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধের বার্তা দিতেই এমন পদক্ষেপ বিবেচনায় রয়েছে।